নেটফ্লিক্সের অর্থ জালিয়াতি
হলিউড নির্মাতা কার্ল এরিক রিনশকে নেটফ্লিক্সের একটি বিজ্ঞান কল্পকাহিনিভিত্তিক সিরিজের কাজ শেষ করার জন্য বরাদ্দকৃত ১ কোটি ১০ লাখ ডলার আত্মসাতের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে আড়াই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
৪৮ বছর বয়সী এই নির্মাতা ‘৪৭ রোনিন’ সিনেমার পরিচালক হিসেবে বেশ পরিচিত। তাঁকে ফেডারেল জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে দোষী সাবস্ত করেন। প্রসিকিউটররা আদালতে প্রমাণ করেন যে, সিরিজটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার পরিবর্তে তিনি প্রযোজনার অর্থ ব্যক্তিগত বিনিয়োগ ও বিলাসবহুল সামগ্রী কেনাকাটায় ব্যয় করেছিলেন।

কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিচারক জে রাকফ একইসাথে তিন বছরের মধ্যে সিরিজটির মুক্তি, ১ কোটি ১০ লাখ ডলার বাজেয়াপ্তকরণ এবং ৭০০ ডলার জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন।
দণ্ড ঘোষণার আগে আদালতে কার্ল এরিক রিনশ নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং দায় স্বীকার করেন। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জে ক্লেটন বলেন, এই সাজা আর্থিক জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
অভিযোগে যা বলা হয়েছে
প্রসিকিউটরদের তথ্যমতে, ‘হোয়াইট হর্স’ নামে পরিচিত বিজ্ঞান কল্পকাহিনিভিত্তিক সিরিজটির জন্য নেটফ্লিক্স প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার বরাদ্দ করেছিল। এর মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার প্রয়োজনীয়তা দেখিয়ে রিনশ অতিরিক্ত ১ কোটি ১০ লাখ ডলার নিয়েছিলেন।
তবে ওই অর্থ প্রকল্পের কাজে ব্যয় না করে তিনি তা নিজের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করেন এবং এর বড় একটি অংশ বিনিয়োগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় অর্ধেক অর্থ হারিয়ে ফেলেন। পরে তিনি ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ শুরু করেন এবং রোলস-রয়েস গাড়ি ও বিলাসবহুল আসবাবপত্রসহ নানা উচ্চমূল্যের সামগ্রী কিনতে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করেন।

নিউইয়র্কে এক সপ্তাহব্যাপী চলা বিচারকাজে নেটফ্লিক্সের কর্মকর্তারা সাক্ষ্য দেন যে, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মটি সিরিজটির মাত্র একটি মৌসুম নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছিল, যা রিনশ শেষ পর্যন্ত কখনোই সরবরাহ করতে পারেননি।
নিজের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে রিনশ দাবি করেন, কোভিড-১৯ মহামারির সময় প্রযোজনার কাজ সচল রাখতে ওই অর্থ ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল এবং পুরো বিরোধটি মূলত ভুল বোঝাবুঝি থেকে সৃষ্টি হয়েছে।
কোভিড-১৯
মামলাটি রিনশের সে সময়কার আচরণ নিয়েও ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে তার বন্ধু ও সহকর্মীদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, নেটফ্লিক্সের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর তিনি ক্রমশ অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করেন। তিনি দাবি করতেন যে তিনি বজ্রপাত ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পূর্বাভাস দিতে পারেন এবং কোভিড-১৯ সংক্রমণের একটি গোপন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন।


