তারকার তারকা প্রেম
সাধারণ মানুষরা শিল্পী, খেলোয়াড় থেকে শুরু করে সবরকম তারকাদেরকেই ফলো করেন, ছবি তুলতে চান, অটোগ্রাফ নিতে চান। কিন্তু তাই বলে কি এক তারকা অন্য তারকারও ভক্ত বনে যেতে পারেন? হ্যাঁ পারেন। এই যেমন সম্প্রতি লিওনেল মেসি টেনিস কিংবদন্তী রাফায়েল নাদালের সিরিজ দেখছেন, অনুপ্রেরণা হিসেবে নিচ্ছেন তাঁকে। এমনকি ২০২৩ সালে নাদালকে প্রশংসায় ভরিতে তোলেন মেসি। আবার গেম অব থ্রোনস এর জন স্নো’খ্যাত তারকা কিট হ্যারিংটনের সাথে ছবিও তুলেছেন তিনি। সাধারণ অর্থে মনে হবে মেসির তো দরকার নেই অন্য কারো সাথে ছবি তোলা কিংবা প্রশংসা করার। আসলে তারকারাও তারকাদের ভক্ত হন। সাধারন মানুষের মতোই। ঠিক যেমন দেশের কিংবদন্তী তারকা মোশাররফ করিম বলিউডের দিলীপ কুমারকে নিজের তারকার আসনে জায়গা দিয়েছেন। এই অভিনেতার সাথে মোশাররফ করিমের স্মৃতিও আছে।

দেশের এক গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে মোশাররফ করিম তাঁর নিজের জীবনের এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন। ভারতীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমারকে নিয়ে সেই ঘটনা। মোশাররফ করিম জানান, অভিনয়জীবনের বহু আগে থেকেই দিলীপ কুমারের অভিনয়ের ভক্ত ছিলেন তিনি। তবে প্রিয় অভিনেতাকে সামনে পেয়েও তাঁর সঙ্গে ছবি তোলা বা পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করেননি; বরং ইচ্ছা করেই দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন।
আমার ইলিউশনকে নষ্ট করতে চাইনি
মোশাররফ করিম বলেন, ‘বাংলাদেশে একবার দিলীপ কুমার এসেছিলেন, কিন্তু আমার কাছে মনে হয় যে আমি আসলে প্রেমের মধ্যে থাকতে চাই। দিলীপ কুমার যে অভিনেতা, তাঁর অভিনয়ের মধ্যে থাকতে চাই। তাঁর যে বাস্তবতা, তার মধ্যে ঢুকে পড়ে আমার ইলিউশনকে নষ্ট করতে চাইনি। মোহকে ভাঙাতে চাইনি। তেমনই আমি যদি মোশাররফ করিমের ভক্ত হতাম তাঁর অভিনয়ের যে মুগ্ধতা, তার মধ্যে থাকতে চাইতাম।’

দিলীপ কুমারের ঢাকা আগমন
১৯৯৫ সালে তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছিলেন বলিউডের মহাতারকা দিলীপ কুমার। সেই সফর ঘিরে তখন দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও উন্মাদনা। চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতিজগতের মানুষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছিল তাঁকে একনজর দেখার আগ্রহ। সে সময় তরুণ মোশাররফ করিম ছিলেন থিয়েটারকর্মী ও নাট্যকেন্দ্রের সদস্য। দিলীপ কুমারের সফরের সময় ওসমানী মিলনায়তনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে নাট্যকেন্দ্রের হয়ে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করেন এই অভিনেতা। ফলে দিলীপ কুমারকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান তিনি।
ওই সময়ের কথা মনে করে মোশাররফ করিম বলেন, ‘আমি তখন নাট্যকেন্দ্রের সদস্য। তরুণ বয়স। ওই সময়ে ওসমানী মিলনায়তনে আমাদের দায়িত্ব পড়ে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে। হঠাৎ দেখি, স্বপ্নের মানুষ দিলীপ কুমার চোখের সামনে। অনেকে সেদিন কাছে গিয়ে ছবি তুলেছেন। আমি দূর থেকে দেখেছি। ছবি তোলা বা কাছে যাওয়া সম্ভব ছিল। তারপরও দূর থেকে, আবার কাছ থেকেও তাঁকে দেখছি। একদম সামনে যাইনি, ছবি তুলিনি।’
এই অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়লে এখনো বেশ উচ্ছ্বসিত হন দেশের এই মহাতারকা।


