পদাতিকের বিশেষ আয়োজন
ভাষাসৈনিক, শিক্ষাবিদ এবং প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব সৈয়দ বদরুদ্দীন হোসাইন-এর স্মৃতিকে ধারণ করে শুরু হচ্ছে ছয় দিনব্যাপী ‘সৈয়দ বদরুদ্দীন হোসাইন স্মৃতি নাট্যোৎসব ও স্মারক সম্মাননা ২০২৬’। দেশের অন্যতম নাট্যসংগঠন পদাতিক নাট্য সংসদ আয়োজিত এই উৎসব চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত উৎসবে অংশ নেবে দেশের ছয়টি নাট্যদল এবং মঞ্চস্থ হবে ছয়টি নাটক।
দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে পদাতিক নাট্য সংসদ এই উৎসবের আয়োজন করে আসছে। প্রয়াত সৈয়দ বদরুদ্দীন হোসাইনের নাট্যচর্চা, সাংস্কৃতিক আন্দোলন এবং সমাজসচেতন কর্মকাণ্ডের স্মরণে প্রতিবছর এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে প্রতি বছরই নাট্যাঙ্গনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সৈয়দ বদরুদ্দীন হোসাইন স্মারক সম্মাননা
এবার ‘সৈয়দ বদরুদ্দীন হোসাইন স্মারক সম্মাননা’ পাচ্ছেন অভিনেত্রী ও শিক্ষক ওয়াহিদা মল্লিক জলি এবং বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন-এর সাধারণ সম্পাদক ও নাট্যজন কামাল বায়েজিদ। উৎসবের দ্বিতীয় দিনে তাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।

আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলের লবিতে প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে উৎসবের উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন সাইফুল হক এবং বিশিষ্ট নাট্যজন মামুনুর রশীদ। উদ্বোধনের পর মঞ্চস্থ হবে দেশ নাটক-এর নাটক ‘দর্পণে শরৎশশী’, যার নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে রয়েছেন কামাল আহমেদ।
উৎসবের দ্বিতীয় দিন অনুষ্ঠিত হবে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন মামুনুর রশীদ, সাইফুল হক এবং রেজাউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন পদাতিক নাট্য সংসদের সভাপতি তাসনিন হোসাইন তানু। এদিন মঞ্চস্থ হবে পদাতিক নাট্য সংসদের ‘আলিবাবা এবং চল্লিশ চোর’, যার পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় রয়েছেন সুদীপ চক্রবর্তী।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, উৎসবের প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘বহিরাঙ্গন অনুষ্ঠান’। এতে থাকবে পথনাটক, আবৃত্তি, গান ও নৃত্য পরিবেশনা। এরপর সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে শুরু হবে মূল নাট্যপ্রদর্শনী।
উৎসবের পরবর্তী দিনগুলোতে মঞ্চস্থ হবে থিয়েটার ফ্যাক্টরি-এর ‘কমলা রঙের বোধ’, এথিক নাট্যদল-এর ‘সুড়ঙ্গ’, বাংলাদেশ পারফরমেন্স আর্ট গ্রুপ-এর ‘জালালউদ্দিন রুমী’ এবং সমাপনী দিনে জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার-এর ‘বিধিবাম’।
নাট্যপ্রেমীদের জন্য এই আয়োজন হয়ে উঠতে পারে সমকালীন বাংলা নাটকের বৈচিত্র্য, সৃজনশীলতা এবং নাট্যঐতিহ্যকে নতুন করে আবিষ্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।