রটারডাম ও সিডনির পর লন্ডনে ‘মাস্টার’
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে বাংলাদেশের উপস্থিতি আরও জোরালো করতে যাচ্ছে নির্মাতা রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মাস্টার’। পুরস্কারজয়ী এই চলচ্চিত্রটি আগামী জুলাইয়ে অনুষ্ঠিতব্য ১৭তম লন্ডন ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে (এলআইএফএফ) যুক্তরাজ্যে প্রিমিয়ার হতে যাচ্ছে। ৯ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলা এই উৎসবে ছবিটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব কনটেম্পোরারি আর্টস (আইসিএ) এবং বার্মিংহামের মিডল্যান্ডস আর্টস সেন্টারে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে ‘মাস্টার’। চলতি বছর চলচ্চিত্রটি নেদারল্যান্ডসের মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব রটারডাম -এ বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে। এরপর অস্ট্রেলিয়ার ৭৩তম সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল-এও ছবিটির সফল প্রদর্শনী হয়। সিডনি উৎসবে এটি বিশেষ ফিচার বিভাগে স্থান পায়, যেখানে বিশ্বের খ্যাতিমান নির্মাতাদের চলচ্চিত্রও প্রদর্শিত হয়েছে।
এবার যুক্তরাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ এশীয় চলচ্চিত্র উৎসব লন্ডন ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ছবিটি আরও বড় আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে পৌঁছানোর সুযোগ পাচ্ছে। আয়োজকদের মতে, এবারের উৎসব বিশ্ব সিনেমার বৈচিত্র্য ও সৃজনশীলতাকে উদযাপন করবে। উৎসবের আকর্ষণীয় আয়োজনগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্কার মনোনীত ভারতীয় চলচ্চিত্র লগান -এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ প্রদর্শনী এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার।

১২৬ মিনিট দৈর্ঘ্যের ‘মাস্টার’ একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক নাট্যধর্মী চলচ্চিত্র। এতে ক্ষমতার কাঠামো, প্রশাসনিক দুর্নীতি, ন্যায়বিচার এবং নৈতিক দ্বন্দ্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহির, একজন আদর্শবাদী শিক্ষক। স্থানীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান হন। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের পর তাকে এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়, যেখানে আদর্শ ও ক্ষমতার রাজনীতির মধ্যে কঠিন সংঘাত তৈরি হয়।
চলচ্চিত্রটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাসির উদ্দিন খান। এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, শরীফ সিরাজ, তাসনোভা তামান্না, আমিনুর রহমান মুকুল ও মাহমুদ আলম।
‘মাস্টার’ প্রযোজনা করেছে মাইপিক্সেলস্টোরি, যারা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত ‘দ্যা সল্ট ইন আওয়ার ওয়াটার্স’ নির্মাণের জন্য পরিচিত। ছবিটির নির্মাণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও ছিল উল্লেখযোগ্য। সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন অ্যাকাডেমি সদস্য ক্রিস্টান স্প্রাগ। সংগীত পরিচালনা করেছেন লস অ্যাঞ্জেলসভিত্তিক তাইওয়ানিজ সুরকার হা ও-টিং শি। পোস্ট-প্রোডাকশন পর্যায়ে যুক্ত ছিলেন স্টিভ এম চো এবং সাউন্ড ডিজাইনার হান মিয়ং-হওয়ান। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উৎসবে ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে ‘মাস্টার’ প্রমাণ করছে যে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র এখন বৈশ্বিক দর্শকের কাছেও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে। লন্ডন ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ছবিটির অংশগ্রহণ শুধু নির্মাতা রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের জন্য নয়, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে