মনোজের আত্মোপলব্ধি
বলিউডের অন্যতম শক্তিমান অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী জানিয়েছেন, অভিনয় জীবনের সাফল্য ও খ্যাতির পেছনে ছুটতে গিয়ে তিনি জীবনের অনেক মূল্যবান মুহূর্ত হারিয়েছেন। বিশেষ করে বাবা-মায়ের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় কাটাতে না পারার আক্ষেপ আজও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে মনোজ বলেন, গত এক দশকে বহুবার তার অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা হয়েছে। তবে নতুন কোনো চরিত্রের আকর্ষণ তাকে বারবার অভিনয়ে ফিরিয়ে এনেছে। তার ভাষায়, এখন আর জীবিকার তাগিদে নয়, বরং চরিত্রের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি অভিনয় করেন।

একই সঙ্গে তিনি জানান, দীর্ঘদিন গম্ভীর ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয়ের পর এখন একটি হালকা ধাঁচের বাণিজ্যিক সিনেমায় কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তার। যেখানে থাকবে হাস্যরস, গান আর নাচ, যে ধরনের কাজ শেষে বাড়ি ফিরে চরিত্রের ভার বহন করতে হয় না।
শেষ বয়সেও মেলেনি বাবা-মায়ের সম্পর্ক
তবে সাফল্যের পথচলার দিকে ফিরে তাকালে মনোজের মনে সবচেয়ে বেশি কষ্ট জাগে পরিবারকে ঘিরে। তিনি বলেন, বাবা-মা জীবনের শেষ সময়ে পৌঁছে গেলে তারা একে অপরকে নতুন করে বোঝার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু দূরত্ব এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে সেই সম্পর্ক আর পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি।
গ্রামের ছেলে হিসেবে ছোটবেলায় বোর্ডিং হাউসে থাকা, পরে অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিল্লিতে পাড়ি জমানোর কথাও স্মরণ করেন তিনি। সেখানে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ইংরেজি শেখা, শহুরে জীবনকে জানা এবং নিজের খাবারের ব্যবস্থা করার মতো বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাকে।

মনোজের এই স্বীকারোক্তি মনে করিয়ে দেয়, খ্যাতি ও সাফল্যের আড়ালেও অনেক অপূর্ণতা থেকে যায়, যা জীবনের পরবর্তী সময়ে গভীর আক্ষেপ হয়ে ফিরে আসে।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে মনোজ বাজপেয়ী নতুন সিনেমা ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ এর নাম ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কে হুমকি ও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। সিনেমাটির নাম ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, এমনকি এ নিয়ে ভারতের লখনউয়ে নির্মাতাদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়।
এ বিষয়ে মনোজ জানান, একটি সিনেমার নাম নিয়ে এত বড় বিতর্ক তৈরি হবে, তা তিনি কল্পনাও করেননি। তিনি বলেন, এই ঘটনার পর তাকে সামাজিক মাধ্যমে ট্রল, গালিগালাজ ও নানা ধরনের হুমকির সম্মুখীন হতে হয়েছে। এমনকি তার পরিবারকেও বিতর্কে জড়িয়ে আক্রমণ করা হয়েছে, যা তাকে ব্যথিত করেছে।

