তারিকুজ্জামান তপনের মৃত্যুতে সংস্কৃতি অঙ্গনে শোক
ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে মারা গেছেন অভিনেতা তারিকুজ্জামান তপন। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। তার মৃত্যুতে সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু।
তিনি জানান, শারীরিক অবস্থা অবনতির কারণে আজই তারিকুজ্জামান তপনকে হাসপাতাল থেকে বাসায় নেয়া হয়েছিল। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তারিকুজ্জামান তপন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সহকর্মী ও ভক্তদের মাঝে নেমে আসে শোক।

এর আগে, বৃহস্পতিবার তার অবস্থা হঠাৎ খারাপ হয়ে গেলে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। তার ছেলে তাছফিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবার কাছে দোয়া চেয়ে পোস্ট করেন। তিনি আরও জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর জরুরি ছিল। সেই সঙ্গে আর্থিক সহযোগিতার আবেদনও করেছিলেন।
খাদ্যনালির ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন তারিকুজ্জামান তপন। গত ডিসেম্বরে তার শরীরে এই রোগ ধরা পড়ে। পরে জানা যায়, ক্যানসারটি চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এর মধ্যে তাকে কয়েক দফা কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে।
তার স্ত্রী সাবিনা হেলেন জানান, তপন কিছুই খেতে পারতেন না। প্রায় সময় বমি হতো এবং সারাক্ষণ ব্যথায় ভুগতেন। দিনের বেশিরভাগ সময় তাকে বিছানায় শুয়ে থাকতে হতো। চিকিৎসার খরচ বহন করাও পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাই তারা সরকারের সহায়তা চেয়েছিলেন।

একসময় তিনি নিয়মিত অভিনয়ে ব্যস্ত থাকলেও অসুস্থতার কারণে ধীরে ধীরে কাজ থেকে দূরে সরে যান। শেষবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। অভিনয় জীবনে তিনি অনেক নাটক ও সিনেমায় কাজ করেছেন।
তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘আলতা বানু’, ‘ঠিকানা’, ‘যা ছিল অন্ধকারে’, ‘জোড়া শালিক’, ‘হাতছানি’, ‘অল্পে গল্পে’ এবং ‘মৃত্তিকার যাত্রা’। এসব কাজের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন।
তারিকুজ্জামান তপনের মৃত্যুতে সহকর্মী ও ভক্তরা শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই তার আত্মার শান্তি কামনা করেছেন। তার চলে যাওয়া দেশের অভিনয় জগতের জন্য এক বড় ক্ষতি।