মাইকেল জ্যাকসন বায়োগ্রাফি ‘মাইকেল’
পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জীবনী নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করছে লায়ন্সগেট। সিনেমাটির নাম ‘মাইকেল’। তাঁর জীবনীভিত্তিক এই চলচ্চিত্রটি ২০২৫ সালের এপ্রিলে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু সিনেমায় বড় ধরনের রিশুট ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। মূলত গল্পে থাকা একটি শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সংক্রান্ত অংশগুলো বাদ দেওয়ার জন্যই এই পরিবর্তনগুলো করা হয়েছে। এদিকে, এই অংশগুলো বাদ দিয়ে মাইকেল জ্যাকসনের ছবির পুনরায় শুটিংয়ে খরচ ১৫ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছবিটির আগের সংস্করণে শেষ অংশে ১৯৯৩ সালের অভিযোগগুলোকে কেন্দ্র করে কাহিনি এগিয়েছিল। সেখানে নেভারল্যান্ড র্যাঞ্চে তদন্ত এবং এসব অভিযোগের মানসিক প্রভাবও দেখানো হয়েছিল। কিন্তু পরে জ্যাকসন এস্টেটের আইনজীবীরা একটি আইনি সমস্যার বিষয় খুঁজে পান। পুরোনো একটি সমঝোতা চুক্তির ধারা অনুযায়ী, মাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযোগকারীর চরিত্র বা ঘটনাকে নাট্যরূপ দেওয়া নিষিদ্ধ ছিল। ফলে ওই অংশগুলো ছবিতে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে এবং সেগুলো বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
১৯৯৩ সালের অভিযোগ
১৯৯৩ সালে জর্ডান চ্যান্ডলার নামের এক ১৩ বছর বয়সী বালক মাইকেল জ্যাকসনের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনে। পরে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করেছিল, কিন্তু কোনো ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
১৯৯৪ সালে, জ্যাকসনের আইনজীবীরা বালকটির পরিবারের সাথে আদালতের বাইরে একটি আর্থিক সমঝোতায় পৌঁছান। তবে এই আর্থিক চুক্তি হলেও জ্যাকসন এই অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এরপর ২০০৩ সালে, আরেকজন নাবালক জ্যাকসনের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনে। এই মামলাটি ২০০৫ সালে ফৌজদারি বিচারের জন্য ওঠে। তদন্ত ও বিচারের কার্যক্রমের পর, বিচারক জ্যাকসনকে সমস্ত অভিযোগ থেকে নির্দোষ ঘোষণা করে। জ্যাকসন পুরো মামলা জুড়ে তার নির্দোষিতা বজায় রেখেছিলেন।
২২ দিন ধরে চলে রিশুট
এই কারণে নির্মাতাদের ছবির শেষ অংশ নতুন করে লিখতে ও পুনরায় শুট করতে হয়েছে। এই রিশুট প্রায় ২২ দিন ধরে চলে এবং এতে ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়। যেহেতু সমস্যাটি এস্টেটের পক্ষ থেকেই তৈরি হয়েছিল, তাই অতিরিক্ত এই খরচও তারা বহন করেছে।
নতুন সংস্করণে এখন আর অভিযোগগুলোর কোনো উল্লেখ নেই। বরং ছবিটি শেষ হয়েছে ইতিবাচকভাবে, যেখানে জ্যাকসনের ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়-বিশেষ করে তার ৮০ দশকে হওয়া “ব্যাড” ট্যুরের সময়টিকে তুলে ধরা হয়েছে। এর ফলে ছবিটি আগের তুলনায় কম বিতর্কিত হয়ে উঠেছে এবং তার সাফল্য ও বিশ্বজোড়া জনপ্রিয়তার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
এছাড়া গল্পের মূল ফোকাসও বদলেছে। অভিযোগের বিষয়টি বাদ দিয়ে এখন জোর দেওয়া হয়েছে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের নানা টানাপোড়েনের ওপর। বিশেষ করে তার বাবা জো জ্যাকসনের–এর সঙ্গে জটিল সম্পর্কটি এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কবে মুক্তি পাচ্ছে ?
ছবিটি পরিচালনা করেছেন অ্যান্টোইন ফুকা (Antoine Fuqua) এবং এতে অভিনয় করেছেন জ্যাকসনের ভাতিজা জাফর জ্যাকসন (Jaafar Jackson)। এসব পরিবর্তনের কারণে ছবিটির মুক্তিও পিছিয়েছে; এখন এটি ২০২৬ সালের ২৪ এপ্রিলে মুক্তি পাওয়ার কথা।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনা দেখায় যে বাস্তব ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্বকে নিয়ে চলচ্চিত্র তৈরি করা কতটা কঠিন হতে পারে-বিশেষ করে যখন আইনি জটিলতা গল্পের দিকনির্দেশনাকে প্রভাবিত করে।


