অপরাধ প্রবণতার উৎস অনুসন্ধান
নারী ও শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ খবর যেন এখন আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। শুধু আইন বা শাস্তি নয়, এই সহিংসতার পেছনের অসুস্থ মানসিকতা, সামাজিক বিকৃতি ও নৈতিক অবক্ষয় নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে রামিশা নামের এক কন্যা শিশুর প্রতি অমানবিক ও যৌন সহিংসতার পর তাঁকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। দেশজুড়ে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে চলছে নানা প্রতিবাদ। এমন এক সময়েই মডেল, অভিনেত্রী ও আইনজীবী পিয়া জান্নাতুল দেশের চলমান নারী সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাগুলোকে শুধু বিচারের কাঠগড়ায় নয়, সমাজের মানসিক স্বাস্থ্য ও মূল্যবোধের সংকটের দিক থেকেও দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাঁর মতে, কঠিন শাস্তির পাশাপাশি পরিবর্তন আনতে হবে সেই মানসিকতায়, যেখান থেকে নারীর প্রতি সহিংসতার জন্ম হয়। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আজ বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন পিয়া জান্নাতুল। এসময় তিনি এসব ঘটনার বিচারের পাশাপাশি এর কারণ খতিয়ে দেখারও দাবি জানান।
অপরাধ কেন বেড়ে চলেছে?
ভিডিওর ক্যাপশনে পিয়া লিখেছেন, প্রতিদিন নারী ধর্ষণ, তারপর হত্যা। শুধু কঠিন শাস্তি দিলেই হবে না, আমাদের সেই অসুস্থ মানসিকতাও বদলাতে হবে যেখান থেকে নারীর প্রতি সহিংসতা জন্ম নেয়।
তিনি বলেন, ‘শুধু আইন দিয়ে এই অপরাধগুলো কমানো সম্ভব না। অবশ্যই আমরা দ্রুত বিচার চাই। পাশাপাশি এমন অপরাধ কেন বেড়ে চলেছে সেটি নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।’
নারীদের প্রতি যে ফ্রাস্টেশন, এটা একটি বাচ্চা মেয়ের ওপর কিভাবে আসে? এমন প্রশ্ন রেখে পিয়া জান্নাতুল বলেন, ‘আমার মনে হয় এটার মধ্যে ভায়োলেন্ট পর্নগ্রাফি, টক্সিক ম্যাসকুলিনিটি, অনিয়ন্ত্রিত রাগ, ড্রাগ অ্যাবিউজ, চাইল্ডগুড ট্রমা এগুলো একটি ছেলের মধ্যে যখন থাকে, এটারই বহিঃপ্রকাশ ঘটে নারী বা বাচ্চা শিশুদের প্রতি। তিনি ছেলে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য শেখানোর পরামর্শ দেন।
অপরাধের বিভিন্ন কারণ
পিয়া জান্নাতুলের বক্তব্য মূলত একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করে। বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে , সহিংস আচরণের পেছনে অনেক সময় শৈশবের ট্রমা, বিকৃত সামাজিকীকরণ, মাদকাসক্তি, দমন করা রাগ, নারীবিদ্বেষী সংস্কৃতি এবং অনিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল কনটেন্টের প্রভাব কাজ করে।
তাই শুধু কঠোর শাস্তি দিয়ে অপরাধ কমানো সম্ভব হলেও, দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যকর পারিবারিক পরিবেশ, জেন্ডার সেনসিটিভ শিক্ষা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সহিংসতার শিকড় মোকাবিলা না করলে এর পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে।


