৭৯তম কান পুরস্কার
ফ্রান্সের কান শহরে অনুষ্ঠিত কান চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬ এর পর্দা নেমেছে। কানের ৭৯তম এবারের আসরে সর্বোচ্চ সম্মান পাম দ’অর জিতেছে রোমানিয়ান নির্মাতা ক্রিস্টিয়ান মুঙ্গিউর চলচ্চিত্র ‘ফিয়র্ড’। উৎসবের বিচারক মণ্ডলীর নেতৃত্বে ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার খ্যাতিমান পরিচালক পার্ক চ্যান-উক। এএফপির ছবিতে জেনে নেওয়া যাক কারা কারা জিতলেন এবারের কান পুরস্কার।
প্রধান প্রতিযোগিতা বিভাগ
পাম দ’অর (Palme D’Or)

কানের সেরা চলচ্চিত্রকে দেয়া সর্বোচ্চ পুরস্কার স্বর্ণপাম জিতল রোমানিয়ান পরিচালক ক্রিশ্চিয়ান মুঙ্গিউর নতুন সিনেমা ‘ফিওড’ (Fjord)। বামপন্থী উদারনৈতিক সমাজের ভেতরের দ্বন্দ্ব ও নানা সমস্যাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানো এই চলচ্চিত্রটি উৎসবজুড়ে ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন সেবাস্তিয়ান স্ট্যান ও রেনাতে রেইনসভে। এর আগে ২০০৭ সালে ‘ফোর মান্থস, থ্রি উইকস অ্যান্ড টু ডেজ” সিনেমার জন্য স্বর্ণপাম জিতেছিলেন এই নির্মাতা।
গ্রাঁ প্রি (Grand Prix)

উৎসবের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মান গ্রাঁ প্রি জিতেছে রুশ নির্মাতা আন্দ্রেই জভিয়াগিনতসেভের সিনেমা ‘মিনোটর’ (Minotaur)।
জুরি পুরস্কার (Jury Award)

‘দ্য ড্রিমড অ্যাডভেঞ্চার’ সিনেমা জিতেছে জুরি পুরস্কার। এটি নির্মাণ করেছেন ভ্যালেস্কা গ্রিসবাখ। ছবিটি বুলগেরিয়া-গ্রিস-তুরস্ক সীমান্তবর্তী অঞ্চলে কর্মরত ভেস্কা নামের এক প্রত্নতত্ত্ববিদকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। পুরোনো পরিচিত বন্ধুর সঙ্গে পুনর্মিলনের পর সে ধীরে ধীরে নিজের অতীতের অন্ধকার অধ্যায় এবং অপরাধজগতের জালে জড়িয়ে পড়ে।
ক্যামেরা দ’অর (Camera d’Or)

আফ্রিকার ইতিহাসে এই প্রথম কোন সিনেমা কানে জায়গা পেয়েছে। রুয়ান্ডার নির্মাতা মেরি-ক্লেমেন্টিন দুসাবেজাম্বো রুয়ান্ডার গণহত্যা নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘বেন’ ইমানার জন্য জিতেছেন ক্যামেরা দ’অর পুরস্কার জিতেছেন। ক্যামেরা দ’অর দেয়া হয় নির্মাতার প্রথম চলচ্চিত্রের জন্য। অর্থাৎ সেরা প্রথম চলচ্চিত্রের পুরস্কার। পুরস্কারটি দুসাবেজাম্বো তিনি উৎসর্গ করেছেন নিজের দেশের নারীদের ।
শ্রেষ্ঠ পরিচালক

হাভিয়ের কালভো ও হাভিয়ের আমব্রোসির ‘দ্য ব্ল্যাক বল’ ও পাওয়েল পাভলিকোভস্কির ‘ফাদারল্যান্ড’ যৌথভাবে জিতেছে শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার। ‘দ্য ব্ল্যাক বল’ সিনেমাটি স্পেনের কবি ও নাট্যকার ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকাকে ঘিরে নির্মিত হয়েছে। এদিকে, পাওয়েল পাভলিকোভস্কির ‘ফাদারল্যান্ড’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জার্মানির রাজনৈতিক ও পারিবারিক সংকট নিয়ে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক ড্রামা।

গল্পের কেন্দ্রে আছেন নোবেলজয়ী জার্মান সাহিত্যিক থমাস মান এবং তাঁর মেয়ে এরিকা মান। ১৯৪৯ সালে, দীর্ঘ ১৬ বছর নির্বাসনে থাকার পর থমাস মান জার্মানিতে ফিরে আসেন। তিনি ও তাঁর মেয়ে একটি সড়কভ্রমণে বের হন, যা পশ্চিম জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে পূর্ব জার্মানির ভাইমার পর্যন্ত বিস্তৃত। এই যাত্রার মধ্য দিয়ে তারা শুধু যুদ্ধবিধ্বস্ত ও বিভক্ত জার্মানিকেই নয়, নিজেদের পরিবারে জমে থাকা ক্ষত, অপরাধবোধ, বিচ্ছিন্নতা এবং অতীতের মুখোমুখি হয়।
সেরা অভিনেত্রী

রিউসুকে হামাগুচির বৃদ্ধাশ্রমভিত্তিক আবেগঘন সিনেমা ‘অল অব আ সাডেন’ সিনেমায় অভিনয় করে যৌথভাবে সেরা অভিনেত্রী হয়েছেন তাও ওকামোতো ও ভার্জিনি এফিরা।
সেরা অভিনেতা

সেরা অভিনেতাও হয়েছেন দুজন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত লুকাস দন্তের ‘কাওয়ার্ড’-এ অভিনয় করে পুরস্কার জিতেছেন মাক্কিয়া ও ভ্যালোঁতাঁ কাম্পানি।
শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য

এবারের সেরা চিত্রনাট্যকারের পুরস্কার পেয়েছেন ইমানুয়েল মারে। ‘আ ম্যান অফ হিজ টাইম’ সিনেমার চিত্রনাট্য তাঁকে এই পুরস্কার এনে দেয়।
স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমার স্বর্ণপাম

স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমার স্বর্ণপাম জিতেছে আর্জেন্টিনার নির্মাতা ফেদেরিকো লুইস তাচেল্লার ‘ফর দ্য অপোনেন্টস’ সিনেমা জন্য।
সেরা প্রামাণ্যচিত্র

ইরানের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে নির্বাসিত নির্মাতা ও অভিনেত্রী পেগাহ আহাঙ্গারানির তথ্যচিত্র ‘রিহার্সালস ফর আ রেভোল্যুশন’ জিতেছে সেরা প্রামাণ্যচিত্রের পুরস্কার।


