ব্লেক লাইভলি ও জাস্টিন বালডোনি
‘ইট এন্ডস উইথ আস’ সিনেমায় জুটি হয়েছিলেন ব্লেক লাইভলি ও জাস্টিন বালডোনি। সেখান থেকেই শুরু বৈরিতার। সিনেমায় জুটি তারপর একে অন্যের বিরুদ্ধে দিয়েছেন মামলা। যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিনেতা বালডোনির বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছেন অভিনেত্রী ব্লেক লাইভলি। বালডোনিও মানহানির মামলা করেছেন অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে। প্রায় দেড় বছর ধরে চলছে এই মামলা। আলোচিত এই মামলাটিতে এবার নতুন মোড় নিয়েছে। বালডোনির বিরুদ্ধে আনা যৌন হয়রানির অভিযোগসহ কয়েকটি অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। চলমান এই মামলা আংশিক ধাক্কা খেলেও ব্লেক জানিয়েছেন এই লড়াই কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং বৃহত্তর সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন।

মামলার সূত্রপাত
২০২৪ সালে মুক্তি পায় রোমান্টিক ড্রামা ‘ইট এন্ডস উইথ আস’। মুক্তির কয়েক মাসের মধ্যেই ছবিটির দুই প্রধান তারকা ব্লেক লাইভলি ও জাস্টিন বালডোনি জড়িয়ে পড়েন হলিউডের ব্যক্তিগত ও আইনি দ্বন্দ্বে। সেই দ্বন্দ্ব লালগালিচা থেকে গেছে আদালত পর্যন্ত।

এমনকি এতে জড়িয়ে পড়েছেন বিশ্বসংগীতের সুপারস্টার টেইলর সুইফটও। ছবিটির শুটিং চলাকালে দুর্ব্যবহার ও যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে ব্লেক লাইভলি মামলা করেন জাস্টিন বালডোনি ও তাঁর নিয়োজিত এক ব্যবস্থাপনা–বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে। লাইভলির অভিযোগ, তিনি শুটিং সেটে বালডোনির আচরণ নিয়ে আপত্তি জানানোর পর পরিকল্পিতভাবে তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ন করার একটি প্রচারণা চালানো হয়। পরে বালডোনিও মানহানির পাল্টা মামলা করেন। গত দেড় বছর ধরে চলছে এই মামলা।
যৌন হয়রানির অভিযোগ খারিজ
আদালত ব্লেকের করা যৌন হয়রানির অভিযোগসহ বেশির ভাগ অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে। তবে ব্লেক লাইভলি দমে যাননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এ ঘটনাকে ‘সেলিব্রিটি ড্রামা’ হিসেবে দেখানো আসলে সমস্যাটিকে ছোট করে দেখা। ব্লেকের মতে, এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি সাধারণ মানুষকে এই বাস্তবতা থেকে দূরে সরিয়ে দেয় যেন এটি শুধু তারকাদের সমস্যা, অন্য কারও নয়।
ব্লেকের অভিযোগে রয়েছে ‘ডিজিটাল সহিংসতা’। তিনি বলেন, অনলাইন আক্রমণ, মানহানি বা প্রতিশোধমূলক প্রচারণা ঘটেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ব্লেকের ভাষায়, এই সহিংসতা শুধু সংবাদমাধ্যমে নয়, স্কুল-কলেজ, কর্মক্ষেত্র, এমনকি স্থানীয় সম্প্রদায়েও ঘটছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি বিস্তৃত সামাজিক সমস্যা।

তবে ব্লেকের করা ১৩টি অভিযোগের মধ্যে ১০টি খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। তবে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অভিযোগ এখনো বহাল রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিশোধমূলক আচরণ, সেই প্রতিশোধে সহায়তা ও চুক্তিভঙ্গ। এ অভিযোগগুলো নিয়েই আগামী মে মাসে বিচার শুরু হবে। সেখানে লাইভলি নিজেই আদালতে নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে চান।
কেন খারিজ হলো অভিযোগ?
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ব্লেক একজন স্বাধীন শিল্পী হিসেবে কাজ করছিলেন, ফলে ফেডারেল আইনে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রযোজ্য হয়নি। পাশাপাশি যে অঙ্গরাজ্যে শুটিং হয়েছে, সেই আইনের সঙ্গেও অভিযোগের সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি।
তবে বিচারক এটাও উল্লেখ করেছেন যে অভিনেত্রীর অভিযোগ আনার পেছনে ‘যৌক্তিক ভিত্তি’ ছিল যা মামলার বাকি অংশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
বালডোনির অবস্থান
এদিকে বালডোনি বরাবরের মতোই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর আইনজীবীরা মনে করছেন, আদালতের এই সিদ্ধান্ত তাঁদের পক্ষকেই শক্তিশালী করেছে।


