‘কক্সবাজার চলচ্চিত্র উৎসব’
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাবের উদ্যোগে কক্সবাজারে এই প্রথমবারের মতো আয়োজিত হচ্ছে ‘কক্সবাজার চলচ্চিত্র উৎসব’ । এই উৎসবে ১টি প্রামাণ্যচিত্র এবং ৬টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। উৎসবটি চলবে ২ দিনব্যাপী।
এই চলচ্চিত্র উৎসবটির পর্দা উঠবে ২৭ মার্চ বিকাল ৫টায় প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে। পরে প্রদর্শিত হবে বন্ধন বিশ্বাস পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ছায়াবৃক্ষ’, অপূর্ব রানা পরিচালিত ‘জলরঙ’ এবং বড়ুয়া সুনন্দা কাঁকন পরিচালিত ‘ডট’।
২৮ মার্চ উৎসবের সমাপনী দিনে দর্শকরা দেখতে পাবেন সবুজ খান পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘বেহুলা দরদী’, মোস্তাফিজুর রহমান বাবু পরিচালিত ‘ময়নার চর’। সর্বশেষ তানভীর হাসান পরিচালিত ‘মধ্যবিত্ত’ প্রদর্শনের মাধ্যমে পর্দা নামবে ১ম কক্সবাজার চলচ্চিত্র উৎসবের।
‘বেহুলা দরদী’

এখানে দেখানো হবে ‘বেহুলা দরদী’ সিনেমা। সিনেমাটি ঐতিহ্যবাহী বেহুলা লক্ষিন্দরের গীতিনাট্য বেহুলা নাচারি পালা উপজীব্য করে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। টাঙ্গাইলসহ আশেপাশে কয়েকটি জেলাতে এক সময় বেহুলা ও লক্ষিন্দরের কাহিনীকে কেন্দ্র করে গীতিনাট্য বেহুলা নাচারি পালা গ্রামে-গঞ্জে প্রদর্শিত হতো। এমন একটি দলের সদস্যদের জীবনের গল্পের উপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি।
সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন ফজলুর রহমান বাবু। সিনেমাটি প্রসঙ্গে ফজলুর রহমান বাবু বলেন, বেহুলা দরদী টাঙ্গাইল অঞ্চলের লোকজ সংস্কৃতির গল্পে নির্মিত একটি সিনেমা। সবুজের খানের পরিচালনায় খুব দারুণ একটি কাজ হয়েছে। সব থেকে বড় কথা, আমরা কাজটি করেছি একটি দায়বদ্ধতা থেকে। কারণ আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরাটা সত্যি আনন্দের।
চা শ্রমিকদের ‘ছায়াবৃক্ষ’

এছাড়া চা শ্রমিকদের জীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘ছায়াবৃক্ষ’ দেখানো হবে এতে। সিনেমায় জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন নিরব ও অপু বিশ্বাস। ২০২১ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থেকে চিত্রায়ণ শুরু হয়ে শেষ হয় শ্রীমঙ্গলে। সরকারি অনুদানে নির্মিত এ সিনেমাটি বিনা কর্তনে সেন্সর সনদ পেয়েছিলো সেসময়। সিনেমাটির পরিচালক বন্ধন বিশ্বাস।
সিনেমা উৎসবটি নিয়ে কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম জানান, ‘মুঠোফোনের ক্ষুদ্র স্ক্রিনে সিনেমা দেখার এই যুগে বাংলা চলচ্চিত্রের ধ্রুপদী ও আধুনিক গল্পগুলোকে বড় পর্দায় ফিরিয়ে আনাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।’
আয়োজকরা জানান, কক্সবাজার লাবণী বিচ পয়েন্টে প্রতিদিন সন্ধ্যায় দেখানো হবে ৩টি ছবি, যা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
কক্সবাজার চলচ্চিত্র উৎসব-২০২৬-এর মিডিয়া পার্টনার চ্যানেল এস। সহযোগিতায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ও গণযোগাযোগ অধিদপ্তর এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।


