আসিফ আকবর
দেশের একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় গায়ক আসিফ আকবর বিদেশি মদ উদ্ধার মামলা থেকে খালাস পেলেন। তাঁর বিরুদ্ধে এই মামলাটি চলেছে আট বছর ধরে। খালসের রায় ঘোষণার পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, অভিযোগটি ছিল ‘মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত’ এবং দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ন্যায়বিচার পেয়েছেন বলে তিনি সন্তুষ্টও প্রকাশ করেছেন।
সোমবার ১০ মার্চ ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমী এ রায় দেন। বিদেশি মদ নিজের হেফাজতে রাখার অভিযোগে ভিত্তিতে মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন আসিফ আকবর। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন তিনি। আসামিপক্ষের আইনজীবী প্রদীপ কুমার দেবনাথ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলা থেকে খালাসের আদেশ পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় আসিফ আকবর বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, এটা একটা মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত অভিযোগ ছিল। রোজার মাসেই মামলার সিকোয়েন্স তৈরি হয়, আবার রোজার মাসেই রায় পেলাম। আমি সন্তুষ্ট, আমি খুশি। আট বছর ধরে নিয়মিত আদালতে আসছি। কোনো প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করিনি, রাজনৈতিক ইস্যু বানাতে চাইনি। আমি শুধু ন্যায়বিচার চেয়েছি। লড়ার চেষ্টা করেছিলাম। আমার আগের মামলাগুলো লড়ে গেছি, এই কারণে খালাস পেয়েছি।’
মামলার এই লড়াই নিয়ে আসিফ আকবর আরও বলেন, ‘আমি একজন আইনজীবীর সন্তান। জন্ম থেকেই আদালতের নিয়মকানুনের প্রতি শ্রদ্ধা আছে। তাই কখনোই এসব নিয়ে প্রকাশ্যে খুব একটা কথা বলিনি। দীর্ঘ আট বছর আমার পরিবার, ভক্ত ও দেশের মানুষ যারা আমাকে ভালোবাসে—তারা কষ্টে ছিল। আজ আদালতের রায়ে আমি মুক্তি পেলাম, এটা আমার ও আমার পরিবারের জন্য অনেক আনন্দের।’
আসিফ আকবরের বিরুদ্ধে অভিযোগে যা ছিলো
২০১৮ সালের ৬ জুন আসিফ আকবরের রাজধানী ঢাকার অফিস থেকে চার বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, এই ছিলো মামলার নথিপত্রে উল্লেখিত অভিযোগ। লাইসেন্স ছাড়া মদ রাখার অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৩ জুলাই রাজধানীর তেজগাঁও থানায় আসিফের নামে মামলা করেন সিআইডির সাইবার তদন্ত শাখার উপপরিদর্শক প্রশান্ত কুমার সিকদার।
মামলাটির তদন্ত শেষে ওই বছরের ১৩ অক্টোবর মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার আদেশ দেন। মামলায় তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে সোমবার এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।


