আন্তর্জাতিক নারী দিবস
আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এ দিন সর্বস্তরের নারীদের অধিকার, স্বাধীনতা ও মর্যাদাকে সমুন্নত রাখার প্রত্যয়ে আলোচনা- সভা সেমিনার ও সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়। দিনটিকে শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও নানা আয়োজনে উদযাপন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় জেনে নেয়া নারী দিবসে পাঁচ তারকা অভিনেত্রীর ভাবনা।
ফাহমিদা নবী

নারী নিয়ে সংগীতশিল্পী ফাহমিদা নবী বলেন, একজন নারীকে সম্মান করতে জানলেই অনেক কিছু বদলে যায়। নারীর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সম্মান ও ভালোবাসা। এই দুটি থাকলে তার প্রতি কোনো ধরনের বৈষম্যই থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, এই সময়েও খবরের কাগজে নারীদের নিয়ে নেতিবাচক খবর দেখতে পাই।
এসব যেন আর দেখতে না হয়। প্রতিটি ঘরে নারী আছে। নারী মানে মা-বোন-স্ত্রী। সেই নারীকে যথাযথ সম্মান দেওয়া হোক। নারীর অধিকার রক্ষা করা হোক। তাহলেই নারী দিবসের গুরুত্ব বাড়বে।
আজমেরী হক বাঁধন

অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন বলেন, নারীদের মুক্তি ও স্বাধীনতার জন্য যারা যুগে যুগে কাজ করে গেছেন, তাদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান। কারণ তাদের প্রচেষ্টার ফলেই আজ নারীরা অনেক দূর এগিয়েছে। তবু বর্তমান কিংবা ভবিষ্যৎ-নারীর জীবনে এক ধরনের অনিশ্চয়তা থেকে যায়, সেটি যেন আর না থাকে।
নারীরা আরও এগিয়ে যাক, আরও ভালো করুক এবং জীবনের সব ক্ষেত্রেই সফল হোক, এটাই প্রত্যাশা।
তিনি আরও বলেন, নারীর স্বাধীনতা ও অধিকার একজন নারীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর্থিক সচ্ছলতা নারী-পুরুষ সবার জন্যই প্রয়োজন, তবে একজন নারীর জন্য অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া বিশেষভাবে জরুরি। প্রতিটি নারী স্বাবলম্বী হোক, নিরাপদে থাকুক, নারী দিবসে এমন ভাবনাই কাজ করে।
সুমাইয়া শিমু

অভিনেত্রী ও সমাজকর্মী সুমাইয়া শিমু নারী দিবসে বলেন, বছরের একটি দিন নারী দিবস উদযাপন করা হয়। এটাকে আমি ইতিবাচকভাবে দেখি। থাকুক না একটি দিন নারীদের জন্য। এই দিনে নারীর অধিকার, সম্মানসহ আরও অনেক বিষয় নিয়ে কথা হোক। মানুষদের সচেতন করা হোক। তবে, আমি মনে করি, একটি দিন নয়, প্রতিটি দিনই নারী দিবস।
তিনি বলেন, একজন নারীকে সম্মানের চোখে দেখতে হবে। ভালোবাসতে হবে। নারী শুধু স্ত্রী কিংবা বোন নয়, নারী একজন মা। একটি দেশ বা পুরো পৃথিবী একজন নারী বা পুরুষের জন্য নয়, উভয়ের জন্যই সুন্দর হয়ে উঠতে পারে। এককভাবে কেউ না।
এই অভিনেত্রী আরো বলেন,কোনো কোনো নারী মনে করেন, সব কাজ পারবেন না। এটা ভাবা ঠিক না। একজন নারীর বড় ক্ষমতা হচ্ছে মা হওয়া, সন্তান জন্ম দেওয়া। এটা অন্য কেউ পারে না।
বিদ্যা সিনহা মীম

মডেল ও অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মীম বলেন, অবাক লাগে, ২০২৬ সালেও নারীর অধিকার ও নারী দিবস নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে। আমরা যদি নারীকে সম্মান করি, তার প্রতি বিদ্বেষ না পোষণ করি, তাকে মূল্য দিই এবং ভালোবাসি, তাহলে এত আলোচনার প্রয়োজনই পড়ত না।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি পুরুষ যদি সচেতন হয় এবং নারীকে সম্মানের চোখে দেখে, তবে সমাজ ও দেশ আরও সুন্দর হয়ে উঠবে। এই শিক্ষাটা পরিবার থেকেই আসা উচিত, যেন নারীর প্রতি কোনো ধরনের বৈষম্য না থাকে।’
তিনি আরও বলেন, শুধু একটি দিন নারী দিবস উদযাপন করলেই হবে না, প্রতিটি দিনই নারীর জন্য হওয়া উচিত। কারণ একজন নারী মানেই একজন মা।
রাফিয়াত রশিদ মিথিলা

অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা বলেন, ‘এই সময়ে না, আরও কয়েক শ বছর আগে থেকেই নারীরা নানারকম প্রতিবন্ধকতা ঠেলে এগিয়ে যাচ্ছে। এই সময়েও অনেক দূর এগিয়ে যাচ্ছে। আমার কথা হলো, এখনো যদি নারীদের সেই একই প্রতিবন্ধকতা ঠেলতে হয় তাহলে আমরা এগিয়ে কোথায় গেলাম? হাজারো স্ট্যাটিস্টিকস, রিসার্চ ডাটা আছে যেগুলো বলে যে, নারীরা সর্বক্ষেত্রে পিছিয়ে। তারা এই জন্য পিছিয়ে না যে, সৃষ্টিকর্তা তাদের কম বুদ্ধিমত্তা বা মানসিক, শারীরিক ক্ষমতা কম দিয়েছে; তাদের পিছিয়ে থাকার একমাত্র কারণ সমাজ। সমাজ নারীর জন্য এমন সব প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে যা নারীরা যতটুকু সম্ভাব্য অর্জন করা দরকার তারা ঠিক সেটা করতে পারছে না।‘
তিনি আরো বলেন, কর্মক্ষেত্রে নারীদের হয়রানি, হ্যারেসম্যান্ট, এটা শুধু শোবিজ না, সব সেক্টরেই আছে। আলাদা করে শোবিজ নিয়ে বলতে চাই না। তবে হ্যাঁ, শোবিজে হয়তো একটু গ্ল্যামারের বিষয় আছে যেখানে নারীকে একটু সাজগোজ করতে হয়। সেখানেও তো নারীকে প্রতিনিয়ত জাজ করা হচ্ছে। নারীর হাত দেখা গেলে কিংবা কোমর দেখা গেলে, গেল গেল সব গেল, সামাজিক অবক্ষয় হয়ে গেল, বলে মন্তব্য শুরু হয়। এই সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষদের প্রতি সহজেই আঙুল তুলে কথা বলা হয়। এরা ভালো মেয়ে না, মিডিয়াতে কাজ করে-এরকম একটা টোনে কথা বলে উঠে। সহজেই জাজ করে ফেলে।
যদি প্রশ্ন এটা হয়, আমাদের শোবিজে মেয়েদেরকে কমপ্রোমাইজ করতে হয় কিনা, তাহলে আমি বলব, শুধু বাংলাদেশে না, যেখানে পরিবেশ খারাপ সেখানে সব জায়গাতে, সেক্টরে এই হ্যারেসম্যান্ট হয়।‘
নারি-পুরুষ বিভাজন নিয়ে মিথিলা বলেন, ‘বন্ধুত্বের জায়গায় নারী-পুরুষ কথাটাই আসা উচিত না। আমি বলব, একজন মানুষের সঙ্গে আরেকজন মানুষের বন্ধুত্ব। যেখানে ভয় থাকবে সেখানে কোনদিনও বন্ধুত্ব হবে না।‘


