ঈদুল ফিতর
বাংলাদেশের বর্তমানের সিনেমা শিল্পের মূল উৎসবে পরিণত হয়েছে দুই ঈদ। এই দুই ঈদকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হচ্ছে অসংখ্য সিনেমা। এ বছরটিও তাঁর ব্যতিক্রম নয় বরং ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে। এবার মোট ১৬টি সিনেমা মুক্তি পেতে পারে রোজার ঈদে যা দেখে রীতিমত অবাক সবাই এবং গড়তে যাচ্ছে ইতিহাসও।
গত বছরের দুই ঈদ মিলিয়ে মুক্তি পেয়েছিলো মোট ১২টি সিনেমা। এবার এক ঈদেই ভেঙ্গে যাচ্ছে সেই রেকর্ড। তবে প্রতিবছরের মতো এবারও মূল আকর্ষণের কেন্দ্রে আছেন মেগাস্টার শাকিব খান। আবু হায়াত মাহমুদের পরিচালনায় তিনি আসছেন ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন অ্যা টাইম ইন ঢাকা’ সিনেমা নিয়ে। এতে তাঁকে দেখা যাবে নব্বই দশকের গ্যাংস্টার রূপে।

অন্যদিকে, রেদওয়ান রনির প্রত্যাবর্তনের সাথে সিনেমা নিয়ে আসছেন আফরান নিশো। রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘দম’ সিনেমা আসছেন নিশো।

এছাড়া সিয়াম আহমেদ ও কলকাতার অভিনেত্রী সুস্মিতা চ্যাটার্জি অভিনীত মেহেদী হাসান হৃদয় নির্মিত অ্যাকশন সিনেমা ‘রাক্ষস’ মুক্তি পাবে। আলোচনায় আছে রায়হান রাফীর চার নায়িকার ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমা।

এবারের ঈদে সাহিত্য অনুপ্রাণিত সিনেমাও আছে। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে তানিম নূরের নির্মাণে আসছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। এছাড়া জীবনানন্দ দাশের কবিতার অনুপ্রেরণায় মাসুদ হাসান উজ্জ্বল আনছেন ‘বনলতা সেন’।

এছাড়াও মুক্তির অপেক্ষায় আছে সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে রাশিদ পলাশের সিনেমা ‘রঙবাজার’। পোশাকশিল্পের ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ইফফাত জাহান মম’র ‘কাট পিস’ সিনেমা। এছাড়াও আছে পরীমণি, মাহি ও ববির সিনেমা।
তাই সিনেমা দর্শকরা এই বিপুল সংখ্যক সিনেমার মুক্তি নিয়ে সন্দিহান। তাদের মতে, অন্যান্যবারের তুলনায় এবার সিনেমার প্রচার নেই আবার রয়েছে হল সংকট।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে ১৪১টির মতো চালু প্রেক্ষাগৃহ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্টার সিনেপ্লেক্সের ৭টি শাখা। ঈদ এলেই শুধু রমরমা হয়ে ওঠে প্রেক্ষাগৃহ; এরপরে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় প্রায় অর্ধেক হল।
১৬টি সিনেমার মুক্তি নিয়ে কার মত কি?
তবে এই হল সংকটের মাঝেও বেশ আশাবাদী ‘উৎসব’ সিনেমা নির্মাতা তানিম নূর। তিনি তাঁর নিজের সিনেমার উদাহরণ টেনেই বললেন, আমরা আমাদের আসন্ন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর কাজ প্রায় শেষ করেছি। এবার আরও বেশি দর্শক টানতে পারব বলে আশা করছি।
তিনি আরো বলেন, সিনেমা বেশি হলে দর্শকও হলমুখী হবে বেশি। গত ঈদে ৬টি সিনেমা চলেছিল এবং সবগুলোই প্রায় হল পেয়েছে, দর্শক দেখেছে। এবারও ব্যতিক্রম হবে না বলে আমার বিশ্বাস।‘
নির্মিতব্য সিনেমার প্রচারণা প্রসঙ্গে নির্মাতা তানিম নূর বলেন, আমরা ইতোমধ্যে কিছু প্রচার প্রচারণা সেরেছি, সামনে প্রচার-প্রসারের আরও পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে তানিম নূর আশাবাদী হলেও হল মালিকরা বলছেন ভিন্ন কথা। ১৬টি সিনেমা মুক্তি পাওয়া নিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতির আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল হোসেনের মতে- সারা বছর নীরব থাকার পর একবার ঈদে এসেই নতুন সিনেমার হিড়িক পড়ে। ফলে হল মালিকেরা সব সিনেমা চাইলেও চালাতে পারেন না। তবে দর্শকের চাহিদা মাথায় রেখে তারা সীমিত কিছু সিনেমা চালাতে পারেন; সেক্ষেত্রে কিছু সিনেমা চালাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে যায়।
তবে তিনি জানান, এখনও যেহেতু চূড়ান্ত হয়নি কতগুলো সিনেমা মুক্তি পাবে, তাই এখনই চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
একনজরে ১৬টি সিনেমা
যে ১৬টি সিনেমা মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে তার মধ্যে আছে শাকিব খান ও তাসনিয়া ফারিণের ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন অ্যা টাইম ইন ঢাকা’, আফরান নিশো ও চঞ্চল চৌধুরীর ‘দম’, সিয়াম আহমেদ ও সুস্মিতা চ্যাটার্জির ‘রাক্ষস’, সাবিলা নূর ও শরিফুল রাজের ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, বুবলী ও নাজিফা তুষির ‘প্রেশার কুকার’, আদর আজাদ ও বুবলীর ‘পিনিক’ ও ‘ট্রাইব্যুনাল’, নাবিলা ও খায়রুল বাসারের ‘বনলতা সেন’, শম্পা রেজা ও জান্নাতুল পিয়ার ‘রঙবাজার’, প্রমোদ অগ্রাহারি ও তাহমিনা অথৈয়ের ‘হাঙর’, আরিফিন শুভ ও মিমের ‘মালিক’, সজল ও অপুর ‘দুর্বার’, সিফাত আমিন ও রাফাহ তোরসার ‘কাট পিস’, পরীমণির ‘ডোডোর গল্প’, ববির ‘তছনছ’ এবং মাহিয়া মাহির ‘অফিসার’।


