রাজপাল যাদব
বলিউডের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা রাজপাল যাদবের ছয় মাসের জেল দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট।রাজপালকে গ্রেপ্তার করে ভারতের তিহার জেলে পাঠানো হয়েছে। প্রায় ১৫ বছর আগে নেওয়া একটি ঋণের চেক বাউন্স–সংক্রান্ত একটি মামলায় তার এই জেল হয়েছে।
২০১০ সালে রাজপাল যাদব ‘আতা পাতা লাপাতা’ নামে তাঁর প্রথম ছবি নির্মাণ করেন। ওই ছবির জন্য তিনি দিল্লিভিত্তিক মুরলি প্রোজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড থেকে ৫ কোটি রুপি ঋণ নেন। কিন্তু ছবিটি বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। ফলে ঋণ পরিশোধে জটিলতা তৈরি হয় এবং শুরু হয় আইনি লড়াই।

এই ঋণ পরিশোধের অংশ হিসেবে তাঁর দেয়া সাতটি চেক বাউন্স হয়। এরপর ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে একটি ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮ ধারা অনুযায়ী রাজপাল যাদব ও তাঁর স্ত্রী রাধা যাদবকে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত তাদের ছয় মাসের সাধারণ কারাদণ্ড দেন। ২০১৯ সালের শুরুতে একটি সেশনস কোর্টও এই রায় বহাল রাখেন।
পরবর্তীতে রাজপাল দিল্লি হাইকোর্টে রিভিশন পিটিশন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি চলার পর, ২০২৪ সালের জুনে হাইকোর্ট সাময়িকভাবে তাঁর সাজা স্থগিত করেন। আদালত সেসময় স্পষ্টভাবে জানান যে বকেয়া পরিশোধে ‘সৎ ও আন্তরিক’ উদ্যোগ দেখাতে হবে। এই সময়ের মধ্যে সুদ-জরিমানা যোগ হয়ে মোট দেনার অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯ কোটি টাকা।
কৌতুক অভিনেতা রাজপাল যাদবের শেষ চেষ্টা
২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত রাজপাল যাদব দুটি ডিমান্ড ড্রাফটের মাধ্যমে ৭৫ লাখ রুপি জমা দেন। কিন্তু আদালত বলেছিলেন এটি মোট দায়ের তুলনায় অপ্রতুল। এরপর গত ডিসেম্বরে ৪০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন অভিনেতা। তিনি জানান যে ২০২৬ সালের শুরুতে বাকি টাকা শোধ করে দেবেন। কিন্তু এসব প্রতিশ্রুতির বেশির ভাগই পূরণ করা হয়নি।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাজপাল যাদবের করা এক সপ্তাহের সময় চেয়ে করা শেষ মুহূর্তের ‘মার্সি প্লি’ আদালত খারিজ করে দেন। বিচারকের পর্যবেক্ষণ ছিল, রাজপাল যাদব বারবার আদালতের নির্দেশ অমান্য করেছেন এবং এতে বিচারব্যবস্থার প্রতি সম্মান দেখানো হয়নি।
এরপর ৫ ফেব্রুয়ারি শেষবার আদালতে হাজির হয়ে রাজপালের আইনজীবী নতুন করে ২৫ লাখ রুপির চেক এবং নতুন পরিশোধসূচির প্রস্তাবনা দেন। কিন্তু আদালত সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেন। সেদিনই বিকেলেই রাজপাল যাদব তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করেন।


