Thursday, October 29, 2026

অর্থ আত্মসাতের মামলায় গায়ক ইন্দ্রনীল সেন গ্রেপ্তার

রজনীকান্ত কেন সুপার স্টার ?

রজনীকান্ত কেন সুপার স্টার ? 

October 26, 2026

অমিতাভ বচ্চন – যে গল্প কখনো বলা হয়নি

October 16, 2026

আধুনিক বাংলা চলচ্চিত্রের সেরা নায়িকা কে ?

October 12, 2026

সালমান শাহ কেন এত অল্প সময়ে কিংবদন্তি হয়ে গেলেন?

October 2, 2026

কেন অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে যাওয়া ছেড়ে দিলেন আমির খান?

September 26, 2026

দুর্গাপূজার পাস বিক্রির নামে কোটি কোটি রুপি আত্মসাতের মামলায় সংগীতশিল্পী ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন গ্রেপ্তার হয়েছেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) দপ্তরে প্রায় চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বের হওয়ার পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। পরে তাকে পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারে নেওয়া হয়।

কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) কুণাল আগারওয়ালের ভাষ্য, ইন্দ্রনীল সেনের মাধ্যমে কোটি কোটি রুপির লেনদেন হয়েছে, যার কোনো ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি। পুলিশের দাবি, বারবার নোটিশ পাঠানো সত্ত্বেও তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছিলেন না।

মামলার সূত্রপাত জয়দীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নামের এক ব্যক্তির অভিযোগ থেকে। কলকাতার বউবাজার থানায় করা ওই অভিযোগ অনুযায়ী, ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের সংস্থা ‘মাস আর্ট’ কলকাতার ২৪টি উল্লেখযোগ্য দুর্গাপূজা দেখার সুযোগের কথা বলে ‘প্লাটিনাম ফ্যামিলি ডোনার পাস’ বিক্রি করত, প্রতিটি পাসের দাম ছিল চার হাজার রুপি বা তার বেশি। সংস্থাটির সভানেত্রী মধুছন্দা সেন।

পাস বিক্রির অভিযোগে ইন্দ্রনীল সেন গ্রেপ্তার

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পাস বিক্রির ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করা হয়েছিল। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপূজা ইউনেস্কোর ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’ স্বীকৃতি পাওয়ার পর ২০২২ সালের জুনে গঠন করা হয় মাস আর্ট। অভিযোগকারীর দাবি, সেন দম্পতি ইউনেস্কোর আনুষ্ঠানিক অংশীদার না হয়েও নিজেদের সেভাবেই পরিচয় দিতেন।

আত্মসাতের অর্থের অঙ্ক নিয়ে অবশ্য প্রতিবেদনভেদে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব এসেছে। ইডির বরাতে ডেকান ক্রনিকল ও মাতৃভূমি বলছে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাস বিক্রি করে তোলা হয়েছে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি রুপি। অন্যদিকে এই সময়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী (কালের কণ্ঠের খবরে উল্লেখিত), এই সময়ে সংস্থাটির লেনদেন ছিল প্রায় ৩০ কোটি রুপি, যার বড় অংশ জমা পড়েছিল ইন্দ্রনীল ও তাঁর পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে আত্মসাতের অভিযোগের অঙ্ক বলা হয়েছে ৬৫ থেকে ৭৮ কোটি রুপি। একই মামলার সূত্র ধরে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনে (পিএমএলএ) আলাদা তদন্ত চালাচ্ছে ইডি। এর আগে ইন্দ্রনীলের একাধিক বাড়ি ও বাগানবাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়, জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় একাধিকবার। ইডির দাবি, ইন্দ্রনীলের প্রতিষ্ঠান অক্টেভ রেকর্ডস থেকে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লাখ রুপি গিয়েছিল। ইন্দ্রনীলের দাবি, সেটি ছিল রয়্যালটির অর্থ।

গ্রেপ্তার এড়াতে কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন ইন্দ্রনীল সেন, তা খারিজ হয়ে যায়। সুপ্রিম কোর্টে করা আবেদনের শুনানিতে মঙ্গলবার বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে নিজেকে সরিয়ে নেন। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তাকে আদালতে হাজির করা হবে। তার আগে হবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা। বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সরকারি কৌঁসুলি তার পুলিশ হেফাজত চাইবেন বলে জানিয়েছে আইএএনএস।

গ্রেপ্তারের প্রতিক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, এই অর্থের ভাগ সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও পৌঁছাতে পারে, শুধু ইন্দ্রনীল একাই টাকা রাখেননি। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগত চোরদের সবাইকে জেলে যেতে হবে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসের পর থেকে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া তৃণমূলের সাবেক নেতা-মন্ত্রীদের লম্বা তালিকায় নতুন সংযোজন ইন্দ্রনীল সেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে ইন্দ্রনীল সেনের নিজের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

ইন্দ্রনীল সেন গ্রেপ্তারের পর তাকে পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারে নেওয়া হয়, আর বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আদালতে হাজির করার আগে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে, যেখানে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সরকারি কৌঁসুলি তার পুলিশ হেফাজত চাইবেন বলে জানিয়েছে আইএএনএস। মামলার সূত্রপাত কলকাতার বউবাজার থানায় করা জয়দীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ থেকে, যেখানে বলা হয়েছে ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের সংস্থা ‘মাস আর্ট’ ২৪টি উল্লেখযোগ্য দুর্গাপূজা দেখার সুযোগের কথা বলে চার হাজার রুপি বা তার বেশি দামে ‘প্লাটিনাম ফ্যামিলি ডোনার পাস’ বিক্রি করত এবং ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করেছিল, যদিও সেন দম্পতি ইউনেস্কোর আনুষ্ঠানিক অংশীদার ছিলেন না। আত্মসাতের অঙ্ক নিয়ে প্রতিবেদনভেদে ভিন্ন হিসাব এসেছে, যেমন ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাস বিক্রি করে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি রুপি তোলার কথা, প্রায় ৩০ কোটি রুপি লেনদেনের কথা এবং ৬৫ থেকে ৭৮ কোটি রুপি আত্মসাতের অভিযোগের কথা, আর একই মামলার সূত্র ধরে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনে আলাদা তদন্ত চালাচ্ছে ইডি।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

Share

Read more

Local News