জুবিন গার্গের মৃত্যুর এক বছর পেরিয়ে গেছে। ন্যায়বিচার না মেলার ক্ষোভটা আসামে কমেনি, বরং দিন দিন বাড়ছে। সেই ক্ষোভ থেকেই এবার রাজপথে নামার ডাক। আগামী ২৯ অক্টোবর রাজ্যের প্রতিটি জেলা সদরে মোমবাতি মিছিল করবে সদৌ অসম ছাত্র সন্থা (আছু)। দাবি একটাই, জুবিনের মৃত্যুর ঘটনায় দোষীদের শাস্তি।
গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর, সিঙ্গাপুরে তার মৃত্যু হয়। নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যালে গান গাইতে গিয়েছিলেন জুবিন। পরদিন ছিল তাঁর অনুষ্ঠান। তার আগের দিন ল্যাজারাস দ্বীপের কাছের সমুদ্রে ডুবে যান তিনি। অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি। বয়স হয়েছিল ৫২ বছর। প্রথম দিকে স্কুবা ডাইভিং দুর্ঘটনার কথা শোনা গেলেও সিঙ্গাপুরের করোনার পরে রায় দেন, মৃত্যুটি দুর্ঘটনাজনিত ডুবে যাওয়া, ষড়যন্ত্রের প্রমাণ মেলেনি। তবে আসামে বিষয়টি সেখানেই থেমে থাকেনি। বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) তদন্ত করেছে, গ্রেপ্তারও হয়েছেন কয়েকজন।
জুবিন গার্গের মামলায় জামিন ঘিরেই যত ক্ষোভ
নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে জামিন নিয়ে। এই অক্টোবরেই গৌহাটি হাইকোর্ট জামিন দিয়েছেন জুবিনের আত্মীয় ও সাময়িক বরখাস্ত ডিএসপি সন্দীপন গার্গকে। তার আগে ৯ অক্টোবর জামিন পান সহশিল্পী অমৃতপ্রভা মহন্ত। এই মামলায় তিনিই প্রথম জামিন পাওয়া অভিযুক্ত। আছু সভাপতি উৎপল শর্মা বলছেন, মানুষ অনেক দিন ধরে ন্যায়ের অপেক্ষায়। অথচ অভিযুক্তরা একে একে বেরিয়ে আসছেন। তাতে হতাশা বাড়ছে, উদ্বেগও। মোমবাতি মিছিলে সেই হতাশার কথাই তুলে ধরতে চায় সংগঠনটি। শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি প্রতিবাদটাও যেন সবার কাছে স্পষ্ট হয়।
আন্দোলনের প্রস্তুতি চলছে আরও বড় পরিসরে। রোববার সোনাপুরের জুবিন গার্গ ক্ষেত্রে জনসভা হয়েছে। কংগ্রেস, রাইজর দল, অসম জাতীয় পরিষদসহ নানা সংগঠনের প্রতিনিধিরা ছিলেন সেখানে। ছিলেন পরিবারের লোকজন আর ভক্তরাও। আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকবেন জুবিনের স্ত্রী গরিমা শইকীয়া গার্গ। সভায় রাইজর দলের বিধায়ক অখিল গগৈ বলেন,
এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও রাজ্যের মানুষ এখনও ন্যায়বিচার পাননি। তাঁর মতে, এই আন্দোলন কোনো দলের পতাকা নিয়ে হবে না। মানুষ আসবে জুবিনকে ভালোবেসে, ন্যায় চেয়ে।
আদালতের লড়াইও চলছে। আইনজীবী নেকিবুর জামান সভায় জানিয়েছেন, দুই অভিযুক্ত এক বছরের বেশি সময় হেফাজতে ছিলেন। নথি দেখেই হাইকোর্ট তাঁদের জামিন দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সুযোগ আছে। কয়েকজন নাকি ইতিমধ্যে শীর্ষ আদালতে গেছেন। আসাম সরকারও জামিন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদনের কথা ভাবছে।
২৯ অক্টোবরের মিছিলটা তাই শুধু স্মরণের আয়োজন নয়। আসামের মানুষ বোঝাতে চায়, প্রিয় শিল্পীর মৃত্যুর হিসাবটা তারা এখনো ভোলেনি।









