Tuesday, October 13, 2026

দ্য সোশ্যাল রেকনিং – ফেসবুকের বিতর্কেও দর্শক টানতে ব্যর্থ

আধুনিক বাংলা চলচ্চিত্রের সেরা নায়িকা কে ?

October 12, 2026

সালমান শাহ কেন এত অল্প সময়ে কিংবদন্তি হয়ে গেলেন?

October 2, 2026

কেন অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে যাওয়া ছেড়ে দিলেন আমির খান?

September 26, 2026

সর্বকালের সবচেয়ে ব্যবসাসফল সিনেমাগুলোর অবিশ্বাস্য গল্প 

September 17, 2026

শত শত কোটি বাজেট, তবুও ভয়াবহ ফ্লপ!

September 10, 2026

একসময় ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের উত্থানের গল্প জয় করেছিল দর্শক ও সমালোচকদের মন। সেই গল্পের নতুন অধ্যায় এবার দর্শক টানতেই হিমশিম খাচ্ছে। ফেসবুকের অন্দরমহলের নানা তথ্য ফাঁস, সাংবাদিকের অনুসন্ধান আর প্রযুক্তি দুনিয়ার বিতর্ক নিয়ে তৈরি ‘দ্য সোশ্যাল রেকনিং’ মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তেই প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম আয় করেছে। প্রশ্ন উঠেছে, আলোচিত বিষয় আর পরিচিত নির্মাতার নাম থাকা সত্ত্বেও কেন দর্শকের মনে জায়গা করতে পারল না সিনেমাটি?

অ্যারন সোরকিনের লেখা ও পরিচালনায় নির্মিত ছবিটি উত্তর আমেরিকায় মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তে আয় করেছে মাত্র ৫৫ লাখ ডলার। বক্স অফিসের তালিকায় এর অবস্থান পঞ্চম। ৩০ মিলিয়ন ডলার বা ৩ কোটি ডলার নির্মাণ ব্যয়ের এই সিনেমা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আয় করেছে আরও ৩৫ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে এর উদ্বোধনী আয় দাঁড়িয়েছে ৯ মিলিয়ন ডলার।

যে গল্পে ফিরেছে ফেসবুক বিতর্ক

২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’ ছিল ফেসবুকের জন্ম ও মার্ক জাকারবার্গের উত্থানের গল্প। ডেভিড ফিঞ্চার পরিচালিত ছবিটি আটটি অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিল এবং জিতেছিল তিনটি। বিশ্বজুড়ে সিনেমাটির আয় ছিল প্রায় ২২৪ মিলিয়ন ডলার।

সেই সফল ছবির পর নতুন সিনেমা ‘দ্য সোশ্যাল রেকনিং’ নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে এবার গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে নেই ফেসবুক প্রতিষ্ঠার কাহিনি। বরং উঠে এসেছে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁস এবং সেসব তথ্য নিয়ে সাংবাদিকতার অনুসন্ধান।

সিনেমাটির গল্পে দেখা যায়, ফেসবুকের সাবেক কর্মী ও তথ্য ফাঁসকারী ফ্রান্সেস হাউগেন এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এর সাংবাদিক জেফ হরউইৎজ কীভাবে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সামনে আনার চেষ্টা করেন। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে আগ্রহীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

ছবিতে অভিনয় করেছেন মাইকি ম্যাডিসন, জেরেমি অ্যালেন হোয়াইট ও জেরেমি স্ট্রং। আগের ছবিতে মার্ক জাকারবার্গের চরিত্রে অভিনয় করা জেসি আইজেনবার্গ এবার নেই। নতুন সিনেমায় জাকারবার্গের চরিত্রে দেখা গেছে জেরেমি স্ট্রংকে। আগের ছবির পরিচালক ডেভিড ফিঞ্চারও এই পর্বে যুক্ত হননি।

যে গল্পে ফিরেছে ফেসবুক বিতর্ক

নতুন ছবির বড় চ্যালেঞ্জ

দুটি সিনেমার উদ্বোধনী আয়ের ব্যবধানই নতুন ছবিটির সামনে থাকা চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়। ২০১০ সালে ‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’ উত্তর আমেরিকায় প্রথম সপ্তাহান্তে আয় করেছিল প্রায় ২২.৬ মিলিয়ন ডলার। বিপরীতে, নতুন ছবিটির আয় ৫.৫ মিলিয়ন ডলার।

অর্থাৎ, প্রথম ছবির উদ্বোধনী আয়ের এক-চতুর্থাংশও ছুঁতে পারেনি নতুন সিনেমাটি। যদিও দুই ছবির মুক্তির সময়, দর্শকের রুচি এবং সিনেমা দেখার পরিবেশ এক নয়, তবু এই ব্যবধান চোখে পড়ার মতো।

সমালোচকদের কাছ থেকেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে ‘দ্য সোশ্যাল রেকনিং’। আলোচিত একটি বাস্তব ঘটনা নিয়ে সিনেমা তৈরি করলেই যে দর্শক প্রেক্ষাগৃহে আসবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। গল্প বলার ধরন, চরিত্রের উপস্থাপন এবং দর্শকের সঙ্গে আবেগের সংযোগও গুরুত্বপূর্ণ।

হরর সিনেমার দাপট

একই সময়ে উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে শীর্ষস্থান দখল করেছে হরর সিনেমা ‘আদার মমি’। জেসিকা চ্যাস্টেইন অভিনীত রব স্যাভেজ পরিচালিত ছবিটি মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তেই আয় করেছে আনুমানিক ২৭.৫ মিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আরও ১৭.৭ মিলিয়ন ডলার আয় করায় বিশ্বজুড়ে এর উদ্বোধনী আয় দাঁড়িয়েছে ৪৫.২ মিলিয়ন ডলার।

মজার বিষয় হলো, সমালোচকদের কাছ থেকে নেতিবাচক পর্যালোচনা পেলেও দর্শক টানতে পেরেছে সিনেমাটি। প্রায় ১৯ মিলিয়ন ডলার বাজেটে তৈরি এই হরর ছবির উদ্বোধনী আয় ‘দ্য সোশ্যাল রেকনিং’এর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।

অন্যদিকে, টম ক্রুজ অভিনীত ‘ডিগার’ও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। দ্বিতীয় সপ্তাহান্তে সিনেমাটির আয় প্রায় ৬০ শতাংশ কমে ৩.২ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে। উত্তর আমেরিকায় এর মোট আয় দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ১৪.৪ মিলিয়ন ডলার। বিশ্বজুড়ে আয় হয়েছে প্রায় ৩৫.৩ মিলিয়ন ডলার।

যে গল্পে ফিরেছে ফেসবুক বিতর্ক

সামনে কী অপেক্ষা করছে?

প্রথম সপ্তাহান্তের আয় দিয়ে কোনো সিনেমার চূড়ান্ত সাফল্য নির্ধারণ করা যায় না। মুখে মুখে প্রচার, পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে দর্শকের আগ্রহ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের ফলাফলও গুরুত্বপূর্ণ। তবে ৩০ মিলিয়ন ডলার বাজেটের ‘দ্য সোশ্যাল রেকনিং’এর জন্য শুরুটা যে কঠিন হয়েছে, তা স্পষ্ট।

ফেসবুকের মতো প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে বিতর্ক, তথ্য ফাঁস ও সাংবাদিকতার অনুসন্ধান সবই ছিল সিনেমাটির গল্পের উপাদান। কিন্তু সেই আলোচিত বিষয়গুলোই শেষ পর্যন্ত দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে টানতে পারেনি। এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে সিনেমাটি দর্শকের আগ্রহ বাড়িয়ে বক্স অফিসের এই ধাক্কা সামলে উঠতে পারে কি না।

Share

Read more

Local News