Home শোক অভিনেতা জেমস স্লোয়েন – ৮৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে

অভিনেতা জেমস স্লোয়েন – ৮৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে

অভিনেতা জেমস স্লোয়েন - ৮৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে
অভিনেতা জেমস স্লোয়েন - ৮৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে

দুই মাস পর প্রকাশ্যে এলো মৃত্যুর খবর

হলিউডে দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের অভিনয়জীবনের ইতি টেনে চলে গেলেন জনপ্রিয় অভিনেতা জেমস স্লোয়েন । ‘স্টার ট্রেক’ সিরিজের পরিচিত মুখ এই অভিনেতা গত ২২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার শেরম্যান ওকসে নিজ বাসভবনে মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

তবে তার মৃত্যুর খবর সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশ্যে আসেনি। পরিবারের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার সিদ্ধান্তের কারণে প্রায় দুই মাস পর বিষয়টি সামনে আসে। পরে পরিবারের প্রকাশিত শোকবার্তার মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বিষয়টি প্রকাশ করে।

দুই মাস পর কেন প্রকাশ্যে এলো মৃত্যুর খবর?

হলিউডের অনেক তারকার ক্ষেত্রেই পরিবার কখনো কখনো মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশ করতে সময় নেয়। জেমস স্লোয়েনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা চেয়েছিলেন অভিনেতার শেষ সময় এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতাগুলো যেন কোনো ধরনের মিডিয়া চাপ ছাড়াই সম্পন্ন হয়।

মৃত্যুর পরপরই কোনো সংবাদ সম্মেলন বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। প্রায় দুই মাস পর, ২০ সেপ্টেম্বর তারিখে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়। এরপরই ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়। জেমস স্লোয়েনের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ অবশ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

জেমস স্লোয়েন বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন জনপ্রিয় সায়েন্স ফিকশন ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘স্টার ট্রেক’ এর জন্য। নব্বইয়ের দশকের ‘স্টার ট্রেক: দ্য নেক্সট জেনারেশন’, ‘ডিপ স্পেস নাইন’ এবং ‘ভয়েজার’ সিরিজে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের কাছে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেন।

অভিনেতা জেমস স্লোয়েন

শুধু অভিনয় নয়, তার কণ্ঠও ছিল দর্শকদের কাছে পরিচিত। ১৯৮৯ সাল থেকে টানা ১৮ বছর বিলাসবহুল গাড়ির ব্র্যান্ড লেক্সাসের বিজ্ঞাপনে ভয়েস-ওভার শিল্পী হিসেবে কাজ করেন তিনি।

অস্কারজয়ী সিনেমা ‘দ্য স্টিং’ এ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা

জেমস স্লোয়েনের ক্যারিয়ারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য কাজ ছিল ১৯৭৩ সালের অস্কারজয়ী সিনেমা ‘দ্য স্টিং’। জর্জ রয় হিল পরিচালিত এই ছবিতে তিনি মোটোলা চরিত্রে অভিনয় করেন।

অভিনেতা জেমস স্লোয়েন
অস্কারজয়ী সিনেমা ‘দ্য স্টিং’

ছবির গল্পে তার চরিত্র অপরাধী ডয়েল লনেগানের হয়ে জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিল। পরে জনি হুকার ও লুথার কোলম্যানের পরিকল্পিত প্রতারণার ফাঁদে পড়ে যায় তার চরিত্র। এ ছাড়া ১৯৮০ সালের জনপ্রিয় মিউজিক্যাল ফ্যান্টাসি সিনেমা ‘জ্যানাডু’ তেও অভিনয় করেন তিনি।

১৯৪১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানাপোলিসে জন্মগ্রহণ করেন জেমস স্লোয়েন। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবচেয়ে ছোট। তার বাবা জেমস স্লোয়েন ছিলেন একজন নির্মাণ প্রকৌশলী।

শিক্ষাজীবনে তিনি নিউইয়র্কের দ্য আমেরিকান একাডেমি অব ড্রামেটিক আর্টস থেকে অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নেন। এরপর তিন বছর মার্কিন সেনাবাহিনীতেও দায়িত্ব পালন করেন। সেনাবাহিনীর দায়িত্ব শেষ করার পর তিনি পুরোপুরি অভিনয় জগতে মনোযোগ দেন। নিউইয়র্কে ফিরে জোসেফ প্যাপের নিউইয়র্ক শেক্সপিয়ার ফেস্টিভ্যালে অভিনয়ের পাশাপাশি লড়াইয়ের দৃশ্যের কোরিওগ্রাফার হিসেবেও কাজ করেন।

১৯৬৯ সালে আর্থার কপিতের নাটক ‘ইন্ডিয়ান’-এর মাধ্যমে ব্রডওয়েতে অভিষেক হয় জেমস স্লোয়েনের। এরপর আর্ভ বাউয়ারের ‘এ ড্রিম আউট অব টাইম’ নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

১৯৭০ সালের ‘দ্য ট্রাভেলিং এক্সিকিউশনার’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার। এরপর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য চলচ্চিত্র, টেলিভিশন সিরিজ এবং ভয়েস-অভিনয়ে নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন।

পরিবারে রেখে গেলেন স্ত্রী ও দুই সন্তান

দীর্ঘ অভিনয়জীবনের স্মৃতি রেখে গেছেন জেমস স্লোয়েন। মৃত্যুর সময় তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী অভিনেত্রী ডিআরড্রে লেনিগান, ছেলে সংগীতশিল্পী ড্যানিয়েল স্লোয়েন এবং মেয়ে অভিনেত্রী সামান্থা স্লোয়েনকে।

তার ভাই লেখক ও পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী সাংবাদিক প্যাট্রিক স্লোয়েন ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা যান।হলিউডের পর্দায় জেমস স্লোয়েনের উপস্থিতি হয়তো আর দেখা যাবে না, তবে ‘স্টার ট্রেক’সহ তার উল্লেখযোগ্য কাজগুলো তাকে দীর্ঘদিন দর্শকদের স্মৃতিতে বাঁচিয়ে রাখবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here