শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী
অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে সুমধুর কণ্ঠে বাংলা সংগীতকে সমৃদ্ধ করে আসছেন সৈয়দ আবদুল হাদী । তাঁর দীর্ঘ এই সংগীতজীবনে শ্রোতাদের উপহার দিয়েছেন অসংখ্য কালজয়ী গান। সংগীতে তাঁর এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা পাচ্ছেন শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী। রোববার একাডেমি এক সিদ্ধান্তে এই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
‘কালজয়ী কণ্ঠ, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সৈয়দ আব্দুল হাদী’ শীর্ষক এই সম্মাননা অনুষ্ঠানটি ১২ জুন সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে সমকালীন শিল্পীরা সৈয়দ আব্দুল হাদীর জনপ্রিয় ও কালজয়ী গানগুলো পরিবেশন করবেন। পাশাপাশি তাঁর দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য সংগীতজীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ও তুলে ধরা হবে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত থাকবেন।
সৈয়দ আব্দুল হাদী বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় শিল্পী হিসেবে বিবেচিত। ষাটের দশক থেকে আধুনিক গান, দেশাত্মবোধক সংগীত এবং চলচ্চিত্রে গান গেয়ে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
কালজয়ী গানগুলো
‘যেও না সাথী, চলেছো একেলা কোথায়’, ‘চক্ষের নজর এমনি কইরা একদিন খইয়া যাবে’, ‘একবার যদি কেউ ভালোবাসতো’, ‘চলে যায় যদি কেউ বাঁধন ছিঁড়ে কাঁদিস কেন মন’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি মাগো আর কতদিন বলো সইবো’, ‘আছেন আমার মোক্তার আছেন আমার ব্যারিস্টার’, ‘এমনও তো প্রেম হয়’, ‘চোখ বুঝিলে দুনিয়া আন্ধার’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় ও কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন বাংলা গানের এই প্রবাদ পুরুষ।
তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সৈয়দ আব্দুল হাদী দীর্ঘ কর্মজীবনে বহু সম্মাননা ও পুরস্কার অর্জন করেছেন। এর মধ্যে একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও রয়েছে, যা বাংলা সংগীতে তাঁর অনন্য অবদানের সাক্ষ্য বহন করে।

উল্লেখ্য, দেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের সম্মাননা প্রদানের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এর আগে প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনকেও বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার সম্মাননা দেয়া হচ্ছে আবদুল হাদীকে।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার
আবদুল হাদী মোট পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছেন। ২০০০ সালে সঙ্গীতে অবদানের জন্য তিনি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক লাভ করেন।
১৯৪০ সালে ১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার শাহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হাদী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে, স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছেন। গান ছাড়াও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রযোজক হিসেবে কাজ করেছেন।


