স্টেডিয়ামে শাকিরা
আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার বহুল আলোচিত ম্যাচে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি গ্যালারির এক বিশেষ অতিথিও দর্শকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। তিনি বিশ্বখ্যাত পপ তারকা শাকিরা। দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়ে ম্যাচ উপভোগ করেন গ্র্যামি জয়ী এই শিল্পী, আর তার উপস্থিতি ঘিরে সৃষ্টি হয় বাড়তি উন্মাদনা।
টেক্সাসের আর্লিংটনে অবস্থিত ডালাস স্টেডিয়ামের একটি প্রিমিয়াম সেকশনে বসে ম্যাচ দেখছিলেন শাকিরা। আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির খেলা দেখতে আসা দর্শকদের অনেকেই শুরুতে তাকে খেয়াল করেননি। তবে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে স্টেডিয়ামের ক্যামেরা যখন তার দিকে ঘুরে যায়, তখনই দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।

বড় পর্দায় শাকিরাকে দেখানো মাত্র গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো দর্শক করতালি ও উল্লাসে ফেটে পড়েন। ভক্তদের এমন ভালোবাসার জবাবে হাসিমুখে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি। শুধু তাই নয়, দর্শকদের উদ্দেশে একটি ফ্লাইং কিসও ছুড়ে দেন, যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
ম্যাচ চলাকালীন পানির বিরতির সময় আবারও স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনে দেখা যায় শাকিরাকে। দ্বিতীয়বারও দর্শকদের কাছ থেকে একই রকম উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া পান তিনি। এতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, ফুটবল ও সংগীত, দুই জগতের জনপ্রিয় এই তারকা এখনও বিশ্বব্যাপী কোটি ভক্তের হৃদয়ে সমানভাবে জায়গা করে আছেন।

বিশ্বকাপ ফুটবলের সঙ্গে শাকিরার সম্পর্ক নতুন নয়। বরং গত দুই দশকে বিশ্বকাপের অন্যতম পরিচিত সাংস্কৃতিক মুখ হয়ে উঠেছেন তিনি। ২০০৬ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের সমাপনী অনুষ্ঠানে ‘হিপস ডোন্ট লাই’-এর বিশেষ সংস্করণ পরিবেশন করে প্রথমবার বিশ্বকাপ মঞ্চে আলোচনায় আসেন।
তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে তার সবচেয়ে বড় অবদান নিঃসন্দেহে ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘ওয়াকা ওয়াকা (দিস টাইম ফর আফ্রিকা)’। গানটি শুধু টুর্নামেন্টের জনপ্রিয় সংগীতই নয়, বরং বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সফল ও স্মরণীয় থিম সং হিসেবে বিবেচিত হয়। এখনও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ফুটবল উৎসবের সঙ্গে গানটি সমানভাবে জনপ্রিয়।

এরপর ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপ উপলক্ষে ‘লা লা লা’ গান প্রকাশ করে আবারও আলোচনায় আসেন শাকিরা। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপের জন্য তিনি ‘দাই দাই’ শিরোনামের একটি নতুন গান প্রকাশ করেছেন এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও সেটি পরিবেশন করেছেন।
এদিকে মাঠের খেলাতেও ছিল ইতিহাস গড়ার মুহূর্ত। আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করে লিওনেল মেসি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৭-তে উন্নীত করেন। এর মাধ্যমে তিনি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে যান। ফলে ম্যাচটি যেমন মেসির নতুন রেকর্ডের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে, তেমনি গ্যালারিতে শাকিরার উপস্থিতিও ভক্তদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হয়ে থাকবে।
ফুটবলের মহোৎসবে সংগীত ও ক্রীড়ার দুই বিশ্বতারকার এমন উপস্থিতি ম্যাচটিকে আরও বর্ণিল ও স্মরণীয় করে তুলেছে। দর্শকদের কাছে এটি ছিল মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি তারকাখচিত এক অনন্য অভিজ্ঞতা।