নতুন বছরের শুভেচ্ছা নিয়ে নীরবতা
নতুন বছরের শুরুতে সাধারণত দেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের কাছ থেকে শুভেচ্ছা বার্তার অপেক্ষায় থাকেন দর্শক ও ভক্তরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট, ছবি কিংবা ভিডিওর মাধ্যমে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানানো যেন হয়ে উঠেছে নিয়মিত এক রীতি। তবে চলতি বছরে সেই চিত্রে ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। নতুন বছরের শুভেচ্ছা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তারকাদের নীরবতা দেখা গেছে। এই রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গন কিংবা অন্যান্য ধারার অনেক অভিনেতা ও অভিনেত্রী এখনও দর্শক–ভক্তদের উদ্দেশ্যে কিছু জানাননি।
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম কিংবা এক্স (সাবেক টুইটার) , এই প্ল্যাটফর্মগুলো এখন তারকাদের সঙ্গে ভক্তদের সরাসরি যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। তবে বাংলাদেশে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক বেশ জনপ্রিয় এবং প্রায় সব তারকারই উপস্থিতি রয়েছে। বছরের প্রথম দিনে তারকাদের শুভেচ্ছা বার্তা সাধারণত সকাল থেকেই চোখে পড়ে। সে তুলনায় দুপুর গড়িয়ে বিকেল পর্যন্ত কোনো শুভেচ্ছা না আসায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অনেক ভক্তই মন্তব্য ও ফ্যান গ্রুপে নিজেদের কৌতূহল প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ বিষয়টিকে অস্বাভাবিক বলে উল্লেখ করছেন, আবার কেউ হতাশার কথাও জানাচ্ছেন। তবে এ নিয়ে নানা ধরনের অনুমানও দেখা যাচ্ছে , ব্যস্ততা, ব্যক্তিগত কারণ কিংবা সচেতনভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত এর পেছনে থাকতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
নতুন বছরের শুভেচ্ছা নিয়ে বিনোদন বিশ্লেষকদের মত
এ বিষয়ে বিনোদন বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র শুভেচ্ছা বার্তা না দেওয়াকে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই। একজন গণমাধ্যম বিশ্লেষক বলেন, “আজকের দিনে অনেক শিল্পীই সামাজিক মাধ্যমে উপস্থিতি নিয়ে সচেতন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। কেউ কেউ কাজের মাধ্যমেই দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তিনি আরো উল্লেখ্য করেন, দেশের আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুবরণকে কেন্দ্র করে দেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলছে, সেটিও হতে পারে এর পেছনে অন্যতম কারণ।“
তবে বেশ কয়েকজন নেটিজেন হাস্যরসের সুরেই অভিযোগ তুলেছেন যে, তারকারা থার্টি ফার্স্ট নাইটের পার্টি করে এখন ঘুমাচ্ছেন। তাই এখনো শুভেচ্ছা জানাতে পারেননি।
দিনের বাকি সময়ে প্রিয় তারকাদের কাছ থেকে শুভেচ্ছা বার্তার আশায় আছেন ভক্তরা। ততক্ষণে এই নীরবতাই প্রথম দিনে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, গেল বছরটি দেশের বিনোদন অঙ্গনের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। অর্থনৈতিক চাপ, প্রযোজনা সংকট ও দর্শক অভ্যাসের পরিবর্তন শিল্পীদের মনোভাবেও প্রভাব ফেলেছে। তবে দেশের সিনেমা বেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। গেল বছর বেশ কয়েকটি সিনেমা বক্স অফিসে দারুণ সফলতা পেয়েছে।