‘মন ছাড়া কি’
বাংলা সিনেমায় গান অনেক সময় শুধু গল্পের অনুষঙ্গ নয়, বরং গল্পের আত্মাও হয়ে ওঠে। ঠিক তেমনই এক আবহ নিয়ে এসেছে রইদ সিনেমার গান ‘মন ছাড়া কি’ । নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন–এর সিনেমাটির এই দ্বিতীয় গান প্রথম শোনাতেই যেন শ্রোতাকে টেনে নেয় প্রেমের অতল গহীনে। প্রেম, বেদনা, আধ্যাত্মিক টান আর মনের সরল অনুভূতি একাকার হয়ে গেছে গানের সুরের ভেতর।
মাতান চাঁদ গোঁসাই-এর লেখা ও সুরে তৈরি ‘মন ছাড়া কি’ নামের এই গানের সবচেয়ে বড় শক্তি প্রেমের প্রতি প্রেম আর সরল কথায় গভীর উপলব্ধি। কথার ভেতরে আছে গভীর আবেগ, আধ্যাত্মিক প্রেমের ইঙ্গিত অথচ উপস্থাপনায় নেই কোনো কৃত্রিমতা। এই গানে ভালোবাসা যেন শুধু একজন মানুষকে ঘিরে নয়-বরং হৃদয়ের গভীরে থাকা এক চিরন্তন টানের প্রতি, যা মানুষকে নিজের ভেতরের অনুভূতির মুখোমুখি দাঁড় করায়।

কানাই দাস বাউল
গানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে কানাই দাস বাউল–এর কণ্ঠ। তাঁর গায়কিতে আছে লোকজ সুরের স্বাভাবিক দরদ, আছে মাটির গন্ধ, আছে জীবনকে, প্রেমকে খুব কাছ থেকে দেখার, ধারণের এক গভীর অনুভব। কানাই দাস বাউলের কণ্ঠে ‘মন ছাড়া কি’ গানটি গ্রামবাংলার আকাশ-বাতাসে ভেসে বেড়ানো চিরচেনা সুরের প্রতিধ্বনি হয়ে উঠেছে, যা শুনলে মনে হয়-এই গান বহুদিন ধরেই আমাদের ভেতরে কোথাও বাসা বেঁধে ছিল।
সংগীত আয়োজনেও রয়েছে আলাদা যত্ন। ইমন চৌধুরী–র কম্পোজিশন ও প্রযোজনায় গানটি পেয়েছে আধুনিকতার স্পর্শ, কিন্তু হারায়নি লোকসংগীতের স্বাদ। আর আলেয়া বেগম, বেবী আক্তার ও বেঙ্গল সিম্ফনি–র কণ্ঠে কোরাস অংশ গানটিকে দিয়েছে বিস্তৃত এক আবহ, যা শ্রোতার অনুভূতিকে আরও গভীর করে তোলে।

আধ্যাত্মিক টানে ‘মন ছাড়া কি’
সব মিলিয়ে ‘মন ছাড়া কি’ শুধু ‘রইদ’ সিনেমার একটি গান নয়; এটি এমন এক সংগীতভ্রমণ, যেখানে লোকজ সুর, মাটির গন্ধ, আধ্যাত্মিক টান আর মানবিক আবেগ মিলেমিশে তৈরি করেছে অনন্য এক অনুভূতির জগৎ। এই গান শুনে সহজেই মনে হয়-মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’ হয়তো শুধু দেখার সিনেমা নয়, অনুভব করারও একটি নাম।
রইদ সিনেমাটি আন্তর্জাতিক রটারড্যাম চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ার শেষে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে আসন্ন ঈদুল আযহায়। এতে অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি, মোস্তাফিজ নূর ইমরান, গাজী রাকায়েত প্রমুখ।


