‘মাইকেল’-এর রেকর্ড
প্রয়াত পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জীবন নিয়ে নির্মিত বায়োপিক ‘মাইকেল’ বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। মুক্তির কয়েক মাসের মধ্যেই ছবিটির বৈশ্বিক আয় দাঁড়িয়েছে ৯৭ কোটি ৭০ লাখ ডলারে। এর মধ্য দিয়ে এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ আয়কারী বায়োপিকের স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
এতদিন এই রেকর্ড ছিল ক্রিস্টোফার নোলান পরিচালিত ‘ওপেনহেইমার’-এর দখলে। পরমাণু বোমার জনক জে. রবার্ট ওপেনহেইমারের জীবন নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রটি বিশ্বব্যাপী ৯৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করেছিল। তবে ‘মাইকেল’ সেই রেকর্ড অতিক্রম করে নতুন মাইলফলক গড়েছে।
শুধু বায়োপিক নয়, সংগীতশিল্পীদের জীবন নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রের মধ্যেও এখন সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমা ‘মাইকেল’। এর আগে এই অবস্থানে ছিল ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’। কিংবদন্তি ব্যান্ড কুইনের প্রধান কণ্ঠশিল্পী ফ্রেডি মার্কারির জীবনভিত্তিক ছবিটি বিশ্বব্যাপী আয় করেছিল ৯১ কোটি ১০ লাখ ডলার।
৯৭ কোটি ডলারের ক্লাবে ‘মাইকেল’
এপ্রিল মাসে মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে দুর্দান্ত পারফর্ম করছে ‘মাইকেল’। উত্তর আমেরিকার বাজারে ছবিটি আয় করেছে ৩৭ কোটি ২০ লাখ ডলার। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এসেছে আরও ৬০ কোটি ৭২ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে ছবিটির বৈশ্বিক আয় এখন ৯৭ কোটি ৭০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।

মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রে ৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং বিশ্বব্যাপী ২১ কোটি ৭০ লাখ ডলার আয় করে ছবিটি। এর মাধ্যমে সংগীতভিত্তিক বায়োপিকের উদ্বোধনী সপ্তাহের আয়ের নতুন রেকর্ডও গড়ে। আগে এই রেকর্ড ছিল ‘স্ট্রেইট আউটা কম্পটন’-এর দখলে, যার উদ্বোধনী সপ্তাহের আয় ছিল প্রায় ছয় কোটি ডলার।
চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন অ্যান্টনি ফুকুয়া। এতে মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাঁর বাস্তব জীবনের ভাতিজা জাফর জ্যাকসন। এটিই তাঁর অভিনয়ে প্রথম চলচ্চিত্র। ছবিতে মাইকেলের শৈশব, ‘দ্য জ্যাকসন ৫’-এর সদস্য হিসেবে সংগীতজগতে তাঁর উত্থান এবং পরবর্তীতে ‘কিং অব পপ’ হয়ে ওঠার দীর্ঘ যাত্রা তুলে ধরা হয়েছে।
রেকর্ডের মাঝেও বিতর্কে ‘মাইকেল’
ব্যবসায়িকভাবে অভূতপূর্ব সফল হলেও ছবিটি সমালোচনারও মুখে পড়েছে। অনেক সমালোচকের অভিযোগ, মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায়। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের মতে, চলচ্চিত্রটি শিল্পীর জীবনের একটি অনেকটাই পরিশোধিত ও বিতর্কমুক্ত সংস্করণ উপস্থাপন করেছে।

অন্যদিকে নির্মাতারা বরাবরই জোর দিয়েছেন মাইকেলের শিল্পীসত্তা, অসাধারণ মঞ্চ পরিবেশনা, জনপ্রিয় গান এবং বিশ্বখ্যাত মিউজিক ভিডিওগুলোর নিখুঁত পুনর্নির্মাণে। দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া, মুখে মুখে প্রচার এবং বারবার সিনেমা হলে ফিরে গিয়ে ছবিটি দেখার প্রবণতা এর দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এই সাফল্যের ফলে ‘মাইকেল’ এখন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান লায়ন্সগেট স্টুডিওর ইতিহাসেও সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্র। এর আগে স্টুডিওটির সবচেয়ে সফল ছবি ছিল ‘দ্য হাঙ্গার গেমস: ক্যাচিং ফায়ার’, যার বৈশ্বিক আয় ছিল ৮৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
বক্স অফিসে রেকর্ড গড়া এই সাফল্যের পর মাইকেল জ্যাকসনের জীবন নিয়ে অন্তত আরও একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে লায়ন্সগেট স্টুডিও। ফলে ‘মাইকেল’-এর এই অভাবনীয় সাফল্য ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।