জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অভিনেতা
মারা গিয়েছেন দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা ও মালয়ালম ‘মিম কিং’ সেলিম কুমার । মালায়লম এই অভিনেতা ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন। শনিবার (৬ জুন) রাত ১০টার দিকে কেরালার কোচির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।
জানা গেছে, এই অভিনেতার কিডনির জটিলতা, লিভার সিরোসিস ও ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় (সিওপিডি) ভুগছিলেন তিনি। কয়েক বছর আগে তার লিভার প্রতিস্থাপনও করা হয়েছিল। এই অসুস্থতা ও চিকিৎসার মধ্যেই হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় তাঁর। মৃত্যুর মাত্র একদিন আগে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়।

চিকিৎসকরা ডায়ালিসিসসহ সব ধরনের চেষ্টা করেও তাঁর অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারেননি। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) হয়ে মারা যান।
কর্মজীবন
সেলিম কুমার তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন থিয়েটার ও মিমিক্রি অভিনয় দিয়ে। কেরালার জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান কালাভবনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মঞ্চে পারফর্ম করতে শুরু করেন তিনি। সেই সময় কেরালার মিমিক্রি আন্দোলন অনেক শিল্পীকে চলচ্চিত্রে নিয়ে এসেছিল। সেলিম কুমারও ছিলেন সেই ধারারই একজন উজ্জ্বল প্রতিনিধি।
মিম ও অভিনয় এই দুই ক্ষেত্রেই দারুণ সফলতার পর ১৯৯৭ সালে ‘ইশতামনু নুরু ভাট্টাম’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার রূপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে। কৌতুক ও বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করে তিনি দ্রুত মালায়লম সিনেমার অন্যতম শীর্ষ অভিনেতা হয়ে ওঠেন।
তার অভিনীত ‘সত্যমেব জয়তে’, ‘থেনকাসিপট্টিনম’, ‘ওয়ান ম্যান শো’, ‘মীসা মাধবন’ এবং ‘কল্যাণরামন’-এর মতো অসংখ্য সিনেমা দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।

শুধু কমেডি নয়, সিরিয়াস চরিত্রেও তিনি ছিলেন অনন্য। ‘আচানুরাংগাথা ভিদু’ চলচ্চিত্রে দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে কেরালা রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। পরবর্তীতে ‘আদামিন্তে মাকান আবু’ সিনেমার জন্য ভারতের মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও কেরালা রাজ্য পুরস্কার লাভ করেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে মালায়লম চলচ্চিত্র অঙ্গনসহ পুরো ভারতীয় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
যে কারণে নাম সেলিম কুমার
সেলিম কুমার ১৯৬৯ সালের ১০ অক্টোবর কেরালার নর্থ পারাভুরে জন্মগ্রহণ করেন। জানা যায়, তাঁর বাবা ছিলেন নাস্তিক ও সমাজ সংস্কারক সহোদরন আয়াপ্পানের অনুসারী। যার কারণে তিনি ছেলের নাম রেখেছিলেন সেলিম যাতে সেলিম কোনও ধর্মের সাথে যুক্ত না হন। পরে তাঁর স্কুল প্রশাসনের অনুরোধে পরবর্তীতে “কুমার” প্রত্যয়টি যুক্ত করা হয়। এই অভিনেতার মৃত্যুতে দক্ষিণ ভারত এমনকি পুরো ভারতে নেমেছে শোকের ছায়া।


