কবীর সুমন
২০১১ সাল থেকে ২০২৬ এর নির্বাচনের আগ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের ক্ষমতায় ছিলো তৃণমূল কংগ্রেস। এই দলের সাথে সংগীতশিল্পী কবীর সুমনকে অনেকেই সমার্থক হিসেবে দেখেন। তবে সদ্য সমাপ্ত হওয়া বিধানসভার নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস হেরে যায় বিজেপির কাছে। দলটির এই পরাজয়ের পর কবীর সুমন বললেন তিনি তৃণমূলপন্থী নন। একইসাথে ভালো কমিউনিস্ট পার্টি পেলে তাতে যোগ দেবেন বলেও জানান কবীর সুমন। সংবাদ প্রতিদিন অবলম্বনে।

সম্প্রতি পশ্চিম বাংলার গণমাধ্যম আজতক বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কবীর সুমন জানান তিনি তৃণমূলের সদস্য কিংবা তৃণমূলপন্থী কোনটাই নন। এ নিয়ে কবীর সুমন বলেন, ‘আমি তো তৃণমূলের সদস্য নই, আমি তৃণমূলপন্থীও নই। আগে আমি কোনো পার্টির সদস্যও ছিলাম না। মমতা আমার প্রায় হাতে–পায়ে ধরে দাঁড় করিয়েছিলেন। পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ামাত্রই আমি পদত্যাগ করি।’
‘আমি তো তৃণমূলের সদস্য নই, আমি তৃণমূলপন্থীও নই।
ভোট ও মমতার মন্দির

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার ভোট ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনামল নিয়েও কথা বলেছেন কবীর সুমন। তিনি বলেন, ‘যেভাবে ভোটটা হলো, হঠাৎ সামরিক বাহিনী ঢুকল। ভাবতে পারিনি যে ট্যাংক ঢুকবে। তবে জনাদেশ কেন মমতার বিপক্ষে গেল, সেটা বলতে পারব না। কিন্তু আমি মনে করি, একাধিক ভুল হয়েছে। মানুষ সেটা ভালো চোখে নেয়নি। যেমন চাকরি। চাকরির ক্ষেত্রটা ভয়ংকরভাবে মার খেয়েছে। মানুষ সেটা ভালো চোখে নেয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সব কাজ ঠিক করেছেন? উত্তর, না। তিনি পারেননি। আমি এবারও তৃণমূলকে ভোট দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমি তৃণমূলের কাজে খুশি হতে পারিনি। দলের বহু কথা ও আচরণে মানুষ ধাক্কা খেয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক ভালো কাজও করেছেন। যেমন ‘সবুজ সাথী’। বাচ্চারা সাইকেল পেয়েছে। এটা কত বড় কাজ। এসব কাজের পর হয়তো একদিন মমতার একটা মন্দির হবে।’
কমিউনিস্ট পার্টিতে কবীর সুমন
পাশাপাশি রাজ্যে নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়ে কবীর সুমন বলেন, ‘সিপিএম বা তৃণমূল আমলে মেয়েদের নিরাপত্তা কিন্তু সুনিশ্চিত ছিল। আমি আশা করব, নতুন সরকার যেন সেই ধারা বজায় রাখে। এখনো ভোট হলে আমি তৃণমূলকেই দেব। তবে সে রকম কোনো কমিউনিস্ট পার্টি এলে আমি এই বুড়ো বয়সেও তাদের সদস্য হওয়ার চেষ্টা করব। আমি তাদের জন্য গান বাঁধব। তাদের পাশে থাকব।’
সংসদ সদস্য
এর আগে ২০০৯ সালে ভারতের পঞ্চদশ লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করেছিলেন কবীর সুমন। তিনি নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ওই আসনের সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
নির্বাচনে নামার আগে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যানারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচালনায় নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন এবং পরে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।


