কম্পিউটার গ্রাফিকস, ডিজিটাল ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ছাড়াই এক শতাব্দী আগে পর্দায় তৈরি হয়েছিল অবিশ্বাস্য সব দৃশ্য। জার্মান চলচ্চিত্র নির্মাতা এফ ডব্লিউ মুরনাউ তাঁর নির্বাক চলচ্চিত্র ‘ফাউস্ট’ এ ক্যামেরার কৌশল, আলোছায়া ও ক্ষুদ্রাকৃতির সেট ব্যবহার করে দর্শকদের সামনে তুলে ধরেছিলেন এক বিস্ময়কর জগৎ। ১৯২৬ সালের ১৪ অক্টোবর বার্লিনে ছবিটির আনুষ্ঠানিক প্রিমিয়ার হয়। বুধবার পূর্ণ হলো চলচ্চিত্রটির ১০০ বছর।
গ্যেটের বিখ্যাত সাহিত্যকর্মসহ জার্মান লোককথা এবং ক্রিস্টোফার মার্লোর রচনার বিভিন্ন উপাদান নিয়ে ছবিটির চিত্রনাট্য তৈরি করেন হান্স কাইজার। কাহিনির কেন্দ্রে রয়েছেন বৃদ্ধ জ্ঞানসাধক ফাউস্ট। শহরে মহামারি ছড়িয়ে পড়লে অসহায় হয়ে পড়েন তিনি। মানুষের জীবন বাঁচানোর ক্ষমতা পাওয়ার আশায় শেষ পর্যন্ত অশুভ শক্তির প্রতিনিধি মেফিস্টোর সঙ্গে নিজের আত্মা দেওয়ার চুক্তিতে রাজি হন ফাউস্ট। এরপর যৌবন, ক্ষমতা ও ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা তাঁকে নিয়ে যায় নৈতিক দ্বন্দ্ব ও মর্মান্তিক পরিণতির দিকে।
ছবিটির অন্যতম আকর্ষণ মেফিস্টোর বিশাল ডানায় একটি শহর ঢেকে দেওয়ার দৃশ্য। আকাশে উড়ে যাওয়ার দৃশ্য তৈরিতে নির্মাতারা ব্যবহার করেছিলেন ক্ষুদ্রাকৃতির পাহাড়, গাছ, মেঘ ও অন্যান্য সেট। একই ফিল্মে একাধিকবার ছবি ধারণের কৌশল এবং আলোছায়ার অভিনব ব্যবহার দৃশ্যগুলোকে করে তুলেছিল অবিশ্বাস্য। ছবিতে অভিনয় করেন গোস্তা একমান, এমিল ইয়ানিংস ও কামিলা হর্ন।


জার্মান চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠান উফার তৎকালীন সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রযোজনা ছিল ‘ফাউস্ট’। তবে জার্মানির প্রেক্ষাগৃহে প্রত্যাশিত ব্যবসা করতে পারেনি ছবিটি। পরবর্তী সময়ে এর শিল্পনির্দেশনা, চিত্রগ্রহণ ও দৃশ্যনির্মাণ নতুনভাবে প্রশংসিত হয়।
বাংলাদেশেও গ্যেটের ‘ফাউস্ট’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে মঞ্চনাটক তৈরি হয়েছে। ২০২০ সালে প্রাচ্যনাট মঞ্চস্থ করে ‘ফাউস্ট অথবা অন্য কেউ’। এক শতাব্দী পরও ‘ফাউস্ট’ প্রমাণ করে, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ছাড়াও কল্পনাশক্তি, নির্মাণকৌশল ও শিল্পদৃষ্টির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অসাধারণ জগৎ সৃষ্টি করা সম্ভব।









