থামুক ব্যস্ততা, জমুক আড্ডা। দুর্গাপূজার ছুটিতে পরিবার-বন্ধুদের নিয়ে প্রতিমা দর্শন, পুরান ঢাকার অলিগলি ঘোরা কিংবা সন্ধ্যায় আলোকসজ্জায় সাজানো মণ্ডপ দেখার পরিকল্পনা হতে পারে নিজের মতো করেই। তবে কোথায় যাবেন, কোন দিন গেলে কী দেখতে পাবেন, আর কখন গেলে সুবিধা হবে এসব জানা থাকলে ছুটির আনন্দ বাড়বে আরও।
সারা সপ্তাহের কাজের চাপ, যানজট আর ব্যস্ততা পেছনে ফেলে কয়েকটি দিন নিজের মতো করে কাটানোর সুযোগ এসেছে। দুর্গাপূজার ছুটি তাই শুধু ঘরে বসে থাকার সময় নয়; পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, পছন্দের খাবার খাওয়া কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে কিছু সুন্দর মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়ারও উপলক্ষ।
২০২৬ সালের দুর্গাপূজার মূল আয়োজন শুরু হচ্ছে ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে। ২১ অক্টোবর, বুধবার বিজয়া দশমীতে শেষ হবে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবার সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকাতেও রয়েছে পরিচিত বেশ কয়েকটি পূজাস্থল, যেখানে প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি উপভোগ করা যায় উৎসবের পরিবেশ।
মণ্ডপে মণ্ডপে উৎসব, ঘুরে দেখুন রাজধানী
দুর্গাপূজার আনন্দের বড় অংশ জুড়ে থাকে প্রতিমা দর্শন। মণ্ডপের সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা আর মানুষের উৎসবমুখর উপস্থিতি দেখতে প্রতিবছরই অনেকে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে বের হন।
রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির হতে পারে ঘোরাঘুরির পরিকল্পনার শুরু। লালবাগের ঢাকেশ্বরী রোডে অবস্থিত এই মন্দির দেশের অন্যতম পরিচিত ধর্মীয় স্থাপনা। এখানে প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি পূজার ধর্মীয় পরিবেশও উপভোগ করা যায়। মন্দিরের প্রকাশিত সাধারণ সময়সূচি সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। তবে পূজার বিশেষ দিনে সময়সূচি বদলাতে পারে। তাই যাওয়ার আগে কর্তৃপক্ষের ঘোষণা দেখে নেওয়া ভালো।
বন্ধুদের সঙ্গে বের হলে তালিকায় রাখতে পারেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল। ক্যাম্পাসের উৎসবমুখর পরিবেশ, প্রতিমা দর্শন আর একসঙ্গে ছবি তোলার পরিকল্পনায় জায়গাটি হতে পারে ভালো একটি গন্তব্য। তবে কোনো বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা সংগীতানুষ্ঠান দেখতে চাইলে আগে থেকে আয়োজকদের ঘোষণা যাচাই করে নিন।
ধর্মীয় আচার কাছ থেকে দেখতে চাইলে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, ২৭ আর কে মিশন রোড, ঢাকাও বিবেচনায় রাখতে পারেন। বিশেষ কোনো আচার, যেমন কুমারীপূজা দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে তার নির্দিষ্ট দিন ও সময় আগে নিশ্চিত করা জরুরি।
এ ছাড়া বনানী এলাকার পূজামণ্ডপ হতে পারে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সন্ধ্যায় ঘোরার আরেকটি বিকল্প। প্রতিমা দর্শন শেষে কাছাকাছি কোথাও বসে খাওয়াদাওয়া কিংবা আড্ডার পরিকল্পনাও করা যায়। তবে বিশেষ থিম, মেলা, কনসার্ট বা শিল্পীদের পরিবেশনার আয়োজন সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না পেলে সেগুলো ধরে পরিকল্পনা করা ঠিক হবে না।

পুরান ঢাকার অলিগলি, সঙ্গে খাবার আর আড্ডা
পূজার ছুটিতে শুধু মণ্ডপ দেখা নয়, ঢাকার পুরোনো এলাকার পরিচিত পরিবেশ ঘুরে দেখার সুযোগও রয়েছে। শাঁখারীবাজার ও তাঁতীবাজারের ঐতিহ্যবাহী গলি, স্থানীয় দোকানপাট আর দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক আবহ ঘোরাঘুরিতে যোগ করতে পারে ভিন্ন মাত্রা।
পরিবারের সঙ্গে গেলে দিনের আলোয় পুরান ঢাকার অলিগলি ঘুরে দুপুরে খাবারের বিরতি নেওয়া যায়। আর বন্ধুদের সঙ্গে বের হলে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় রাখতে পারেন। ঘোরার ফাঁকে স্থানীয় খাবার চেখে দেখা, ছবি তোলা কিংবা পরিচিত কোনো জায়গায় বসে আড্ডা সবই হতে পারে ছুটির আনন্দের অংশ।
রমনা কালীমন্দিরও পূজার পরিবেশ উপভোগ করার আরেকটি বিকল্প। মন্দির দর্শনের পর আশপাশের সবুজ এলাকায় কিছুটা সময় কাটানো যায়। তবে শ্যামাসংগীত, কনসার্ট বা অন্য কোনো বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন দেখতে চাইলে তার তারিখ ও সময় আয়োজকদের কাছ থেকে নিশ্চিত করে নিন।

কোথায়, কবে, কখন যাবেন?
ঘোরাঘুরির পরিকল্পনা সহজ করতে পরিচিত কয়েকটি পূজাস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ দিনের তথ্য এক নজরে দেখে নিতে পারেন।
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির
১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে প্রতিমা দর্শন ও পূজার ধর্মীয় পরিবেশ উপভোগ করতে পারেন। মন্দিরটি ঢাকার লালবাগের ঢাকেশ্বরী রোডে অবস্থিত। এর সাধারণ সময়সূচি সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত হলেও পূজার বিশেষ দিনে সময়সূচি ভিন্ন হতে পারে। তাই যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সময় নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।
জগন্নাথ হল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত জগন্নাথ হলও পূজার ছুটিতে ঘুরে দেখার মতো একটি স্থান। ১৬ থেকে ২১ অক্টোবরের মধ্যে এখানে প্রতিমা দর্শন ও ক্যাম্পাসের উৎসবমুখর পরিবেশ উপভোগ করতে পারেন। তবে পূজার নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং কোনো বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন থাকলে তার তথ্য আয়োজকদের কাছ থেকে জেনে নেওয়া উচিত।
রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন
ঢাকার ২৭ আর কে মিশন রোডে অবস্থিত রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে পূজার ধর্মীয় আচার ও পরিবেশ উপভোগ করতে পারেন। বিশেষ কোনো আচার, যেমন কুমারীপূজা দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তারিখ ও সময় আগে নিশ্চিত করে নিন।
বনানী পূজামণ্ডপ
পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনায় বনানী এলাকার পূজামণ্ডপ রাখতে পারেন। ১৬ থেকে ২১ অক্টোবরের মধ্যে মণ্ডপের প্রতিমা দর্শন ও উৎসবের পরিবেশ উপভোগ করা যেতে পারে। তবে মণ্ডপের নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং বিশেষ থিম, মেলা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের তথ্য জানতে আয়োজকদের ঘোষণা অনুসরণ করুন।
পূজার গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলো
১৬ অক্টোবর, শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ১৭ অক্টোবর, শনিবার সপ্তমীর আচার পালিত হবে। ১৮ অক্টোবর, রবিবার সপ্তমী ও অঞ্জলির আয়োজন থাকতে পারে। ১৯ অক্টোবর, সোমবার মহাষ্টমী ও সন্ধিপূজা, ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার মহানবমী ও ভোগ এবং ২১ অক্টোবর, বুধবার বিজয়া দশমী ও বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। তবে ধর্মীয় আচারগুলোর নির্দিষ্ট সময় পঞ্জিকা ও মণ্ডপভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই অঞ্জলি, সন্ধিপূজা, ভোগ কিংবা বিসর্জন দেখতে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট মণ্ডপের সময়সূচি নিশ্চিত করে নিন।
এবারের পূজার ছুটিতে তাই পরিকল্পনা হোক নিজের মতো করে। কিছুটা ঘোরাঘুরি, কিছুটা খাওয়াদাওয়া আর প্রিয় মানুষদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া এই ছোট ছোট মুহূর্তই ছুটিকে করে তুলতে পারে স্মরণীয়।









