নেটফ্লিক্সে মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের নজর কেড়েছে স্প্যানিশ অ্যাকশন সিনেমা ‘কলিশন কোর্স’। মুক্তির এক দিনের মধ্যে ৬৪টি দেশের শীর্ষে উঠে আসে ছবিটি। ফ্লিক্সপ্যাট্রোলের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও স্পেনেও তালিকার প্রথম স্থানে ছিল সিনেমাটি। ব্যাংক ডাকাতি, মুখোশধারী দল আর একের পর এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা সব মিলিয়ে ছবিটির সঙ্গে তুলনা চলছে নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘মানি হাইস্ট’-এর। তবে ‘কলিশন কোর্স’-এর সবচেয়ে বড় চমক হলো, ডাকাত দলের সদস্যরা আসলে পুলিশ কর্মকর্তা।
স্পেনে ‘কলিসিওন’ নামে পরিচিত সিনেমাটি নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে ৩০ অক্টোবর ২০২৬। পরিচালক ড্যানিয়েল সানচেজ আরেভালোর প্রথম থ্রিলার এটি। এর আগে নাটক ও কমেডি ঘরানার কাজের জন্য পরিচিত ছিলেন তিনি। রামন ক্যাম্পোসের সঙ্গে মিলে ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন পরিচালক। অভিনয় করেছেন লায়া কোস্তা, কারা এলেহালদে, লুইস সাহেরা, তামার নোভাস, আলভারো সার্ভান্তেস ও লুইস ওমার। ছয়জনই স্পেনের গয়া পুরস্কারজয়ী অভিনয়শিল্পী।
‘মানি হাইস্ট’ এর সঙ্গে কেন তুলনা
ব্যাংক ডাকাতির পরিকল্পনা আর মুখোশধারী দলের উপস্থিতির কারণে ‘কলিশন কোর্স’এর সঙ্গে ‘মানি হাইস্ট’ এর মিল খুঁজে পাচ্ছেন দর্শকেরা। চলচ্চিত্রবিষয়ক ওয়েবসাইট সিবিআর ছবিটিকে ‘মানি হাইস্ট’-এর ভালো বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করেছে। ‘হোয়াটস অন নেটফ্লিক্স’-ও নতুন ডাকাতির সিনেমা খুঁজছেন, এমন দর্শকদের ছবিটি দেখার পরামর্শ দিয়েছে।

২০১৩ সালের স্পেন, গল্পের পটভূমি ব্যাংক ডাকাতি
সিনেমার গল্পের সময় ২০১৩ সাল। তখন অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছিল স্পেন। ঝুঁকিপূর্ণ আবাসন ঋণ ও ব্যাংক খাতের দুরবস্থায় অনেক পরিবার বাড়িঘর হারিয়েছিল। এমন এক পরিস্থিতিতে একটি ব্যাংক ডাকাতির পরিকল্পনা করে কয়েকজন। তবে দলের একজনের কাছে এই ডাকাতির পেছনে রয়েছে ব্যক্তিগত কারণও।
পরিচালক ড্যানিয়েল সানচেজ আরেভালো জানিয়েছেন, ছবিতে অ্যাকশন, রহস্য, উত্তেজনা ও অপ্রত্যাশিত ঘটনা রাখতে চেয়েছেন তিনি। পরিচিত কাজের ধরন থেকে বেরিয়ে দর্শকদের নিখাদ বিনোদন দেওয়ার লক্ষ্যেই থ্রিলারটি নির্মাণ করেছেন।
ডাকাত দলের সদস্যরাই পুলিশ
কার্লা, টমাস ও রাউল তিনজনই কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁদের সঙ্গে আছেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য পেদ্রো। চারজন মিলে ব্যাংক ডাকাতি করেন। পরিকল্পনা ছিল, ডাকাতির পর নিজেদের অপরাধের তদন্তও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা।
ব্যাংকের নিরাপত্তা বাক্স থেকে মূল্যবান জিনিস নেওয়ার সময় তাঁরা ৩৪ নম্বর বাক্সটি খুলে খালি দেখতে পান। এর মধ্যেই পালানোর গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে। এরপর একই দুর্ঘটনার কয়েকটি ভিন্ন পরিণতি দেখানো হয়। চারজনের মধ্যে কে মারা যাচ্ছেন, তার ওপর বদলে যায় গল্পের মোড়। কোনো পরিণতিতে পেদ্রোর পরিচয় প্রকাশ পায়, আবার কোনো পরিণতিতে সম্পর্কের জটিলতা থেকে শুরু হয় হত্যাকাণ্ড। টমাস মারা গেলে সামনে আসে আরেক চমক। ব্যাংকের ব্যবস্থাপক আর্নেস্তো প্রেমিকা লোলার সঙ্গে মিলে বিমার টাকা পাওয়ার জন্য ডাকাতির নাটক সাজিয়েছিলেন। আসল রত্ন সরিয়ে নকল রত্ন রেখে সেগুলো নিয়ে পালানোর পরিকল্পনা ছিল তাঁদের।

শেষ দৃশ্যেও রয়েছে চমক
শেষ পর্যন্ত চারজনই দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যান। দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটি পুড়িয়ে অন্য একটি গাড়ি ছিনতাই করে পালান তাঁরা। কার্লা ও রাউলের দৃষ্টিবিনিময়ে তাঁদের গোপন সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। আর পেদ্রোর জুতায় লেগে থাকা কুকুরের মল নিয়ে টমাসের অভিযোগে শেষ হয় সিনেমাটি। এই চিহ্নই পরে তাঁদের নিজেদের ডাকাতির তদন্তে সূত্র হয়ে উঠতে পারে।
সিনেমাটি নিয়ে সমালোচকদের মত অবশ্য এক রকম নয়। ‘হোয়াটস অন নেটফ্লিক্স’ ছবিটিকে পাঁচের মধ্যে আড়াই নম্বর দিয়েছে। তাদের মতে, গল্পে অপ্রত্যাশিত মোড়ের ব্যবহার কিছুটা বেশি। অন্যদিকে স্পেনের ‘এসপিনফ’ ছবিটির গতিময় গল্প বলার প্রশংসা করেছে। ‘মাইক্রোপসিয়া’ সিনেমাটিকে একের পর এক প্রতারণার গল্প হিসেবে বর্ণনা করেছে।
‘কলিশন কোর্স’ ‘মানি হাইস্ট’-এর নতুন মৌসুম বা স্পিন-অফ নয়। এটি স্বতন্ত্র সিনেমা। তবে নেটফ্লিক্স জানিয়েছে, ‘মানি হাইস্ট’-এর গল্পের জগৎ আরও বিস্তৃত হবে। সেই ধারাবাহিকতায় বার্লিনকে নিয়ে নির্মিত ‘বার্লিন অ্যান্ড দ্য লেডি উইথ অ্যান আর্মাইন’ ১৫ মে মুক্তি পেয়েছে।






