দলছুটের আয়োজন
আজ ৭ জুন বাংলা গানের ধ্রপদী সুরকার ও সংগীতশিল্পী লাকী আখন্দের জন্মদিন । ১৯৫৬ সালের এই দিনে জন্মেছিলেন এই অমর শিল্পী। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা বর্তমান বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার পাতলা খান লেনে জন্মগ্রহণ করেন। গত ২১ এপ্রিল ২০১৭ সালে চিরবিদায় নেন এই মহান শিল্পী। এদিকে আজ লাকী আখন্দের জন্মদিনে ‘দলছুট’ বিশেষ উপহার নিয়ে এসেছে।
লাকীর জন্মদিনে তাঁর বিখ্যাত গান ‘এই নীল মনিহার’ নতুনভাবে পরিবেশন করেছে দলছুট ব্যান্ড। শনিবার রাতে খবরটি নিশ্চিত করেন ‘দলছুট’ প্রধান বাপ্পা মজুমদার। ‘এই নীল মনিহার’-এর কথা লিখেছিলেন এস এম হেদায়েত। নিজের করা সুরে গানটি গেয়েছিলেন লাকী আখন্দ। ১৯৮৪ সালে নিজের নামে প্রথম একক অ্যালবাম প্রকাশ করেছিলেন তিনি। সে অ্যালবামেরই গান এটি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রজন্মের অনেক শিল্পী গানটি কাভার করেছেন।
মাত্র পাঁচ বছর বয়সে বাবার কাছে সংগীতে হাতেখড়ি হয় লাকী আখান্দের। এরপর ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত টেলিভিশন এবং রেডিওতে শিশু শিল্পী হিসেবে সংগীত বিষয়ক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। তিনি মাত্র ১৪ বছর বয়সেই এইচএমভি পাকিস্তানের সুরকার এবং ১৬ বছর বয়সে এইচএমভি ভারতের সংগীত পরিচালক হিসেবে নিজের নাম যুক্ত করেন।
১৯৭৫ সালে ছোট ভাই হ্যাপী আখান্দের অ্যালবামের সংগীত পরিচালনার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে লাকীর। এর বছর পাঁচেক পর তিনি সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকীর কালজয়ী ছবি ‘ঘুড্ডি’র সংগীত পরিচালনা করেন। এতে হ্যাপীর অ্যালবাম থেকে ‘আবার এলো যে সন্ধ্যা’ গানটি ব্যবহৃত হয় এবং বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। এখনো সে গান শ্রোতাদের মুখে মুখে ঘোরে।
ছোটভায়ের মৃত্যু
প্রথম অ্যালবামেই বিখ্যাত হয়ে উঠেন লাকী। স্বনামে প্রকাশিত অ্যালবামটিতে তিনি উপহার দিয়েছেন ‘আগে যদি জানতাম’, ‘আমায় ডেকো না’, ‘মামুনিয়া’, ‘এই নীল মনিহার’ ও ‘হৃদয় আমার’-এর মতো কালজয়ী সব গান। এরপর ১৯৮৭ সালে তাঁর জীবনে নেমে আসে দুঃখের ছায়া। হঠাৎ করেই তাঁর ছোট ভাই হ্যাপী আখান্দের মৃত্যু হয় আর স্তব্ধ হয়ে যান লাকী। ছেড়ে দেন গানবাজনা। প্রায় এক যুগ তিনি গান থেকে বিরতিতে ছিলেন। এরপর ১৯৯৮ সালে পরিচয় কবে হবে ও বিতৃষ্ণা জীবনে আমার অ্যালবামের সঙ্গীতায়োজনের মাধ্যমে গানের ভুবনে ফিরে আসেন। পরিচয় কবে হবে ছিল তার দ্বিতীয় একক অ্যালবাম।
অ্যালবাম
লাকি আখন্দের উল্লেখ্যযোগ্য অ্যালবামের মধ্যে আছে লাকী আখান্দ (১৯৮৪), পরিচয় কবে হবে (১৯৯৮), বিতৃষ্ণা জীবনে আমার (১৯৯৮) , আনন্দ চোখ (১৯৯৯), আমায় ডেকোনা (১৯৯৯), দেখা হবে বন্ধু (১৯৯৯), তোমার অরণ্যে ও দ্যা আখান্দ ব্রাদার্স।


