সিনেমা লাইফলাইন
গেল বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে চরকি অরিজিনাল ফিল্ম লাইফলাইন এর বিশেষ প্রদর্শনী। এতে অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মিম। নিজের সিনেমাটি দেখে বেশ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন বিদ্যা সিনহা মিম । সিনেমার পর্দার বাবা–মেয়ের সম্পর্ক হৃদয় ছুঁয়ে গেছে অভিনেত্রীরও। একই সাথে এটি আ খ ম হাসানের প্রথম ওটিটিতে কাজ।
২১ জুন দেশের জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পায় কাজী আসাদ পরিচালিত সিনেমা লাইফলাইন। মুক্তির পর থেকেই ইতিবাচক আলোচনা চলছে সিনেমাটি নিয়ে। অনেকেই গল্পের আবেগ, সামাজিক বার্তা এবং অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন।

গত ২৫ জুন অনুষ্ঠিত হয় চলচ্চিত্রটির বিশেষ প্রদর্শনী। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ছবির অভিনয়শিল্পী, নির্মাতা, সাংবাদিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা। প্রদর্শনী শেষে নিজ অনুভূতি জানান বিদ্যা সিনহা মিম। চলচ্চিত্রে বাবা–মেয়ের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং গল্পের মূল আবেগের সঙ্গে নিজের জীবনের অনুভূতির মিল খুঁজে পেয়েছেন বিদ্যা। সিনেমাটিতে মিমের বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন বরেণ্য অভিনেতা খায়রুল আলম সবুজ। প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনিও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
প্রথম ওটিটির কাজ
সিনেমাটির বিশেষ প্রদর্শনীতে উপস্থিত অতিথিরা লাইফলাইন সিনেমার গল্প, নির্মাণশৈলী ও অভিনয়শিল্পী বিদ্যা সিনহা মিম ও রেজওয়ান পারভেজের প্রশংসা করেন। তবে বিশেষভাবে আলোচনায় আসে আ খ ম হাসানের চরিত্র। টেলিভিশন নাটক ও ইউটিউবের পরিচিত মুখ আ খ ম হাসানের এটি প্রথম ওটিটির কাজ।

এত দিন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কেন আসেননি জানতে চাইলে আ খ ম হাসান বলেন, ‘এটা পরিচালকেরা ভালো বলতে পারবেন। আমি অভিনেতা। যেখানে কাজ করার সুযোগ পাই, সেখানেই কাজ করি।’ নিজের চরিত্র নিয়ে তিনি বলেন, ‘পর্দায় আমার চরিত্র দেখে ওই চরিত্রকেই মনে হয়েছে, মনে হয়নি আ খ ম হাসান অভিনয় করছেন। এটা পরিচালক এবং পুরো ইউনিটের সাফল্য।’
চলচ্চিত্রটির ‘আমারে নাও’ গানটিও দর্শক-শ্রোতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। নির্মাতা কাজী আসাদের কথায় জাহিদ নিরবের সুর ও সংগীত পরিচালনায় গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন ফাতিমা তুয যাহরা ঐশী।
বিদ্যার প্রথম
এই লাইফলাইন সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবার চরকির কোনো প্রযোজনায় অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মিম। নির্মাতা কাজী আসাদ এর আগে চরকির জন্য নির্মাণ করেছিলেন অরিজিনাল সিরিজ আধুনিক বাংলা হোটেল। এবার তিনি নির্মাণ করেছেন অরিজিনাল ফিল্ম লাইফলাইন। গল্প প্রসঙ্গে কাজী আসাদ বলেন, ‘ভালোবাসার টানে মানুষ কত দূর যায়? আর কত কিছু হারানোর ঝুঁকি নিতে পারে? শহুরে মেয়ে অনন্যার দুর্গম যাত্রা কেন এবং তার শেষ কোথায়-এসব উত্তরের মধ্য দিয়ে আমরা কিছু গভীর অনুভূতির কথা বলার চেষ্টা করেছি।’

এটির চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচয়িতা আসাদুজ্জামান আবীর। তিনি বলেন, ‘আমরা একটা সহজ–সুন্দর অনুভূতির গল্প বলতে চেয়েছি। ফিল্মের শেষের দিকে অনন্যা তার বাবাকে একটি কথা বলে। দুই ভিন্ন পরিস্থিতির দুই বাবা–মেয়েকে তুলনা করে বলা সেই সংলাপের মধ্যেই দায়িত্ব, ভালোবাসা আর অনুভূতির সবচেয়ে বড় প্রকাশ রয়েছে। আমার মনে হয়, সেই অনুভূতিটুকু দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই আমরা এই চলচ্চিত্রটি করেছি।’
দুর্গম পথে মোটরসাইকেল
চলচ্চিত্রে কোরবান চরিত্রে অভিনয় করেছেন রেজওয়ান পারভেজ। দুর্গম পথে মোটরসাইকেলে করে মিমকে নিয়ে বিভিন্ন লোকেশনে শুটিং করার অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘খেতের আল দিয়ে মোটরসাইকেল চালাতে হয়েছে। এমনিতেই বিষয়টি কঠিন। তার ওপর আমার সঙ্গে মিম ছিলেন। আমার কাছে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল, তিনি যেন নিরাপদে থাকেন। মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে মিম আহত হলে সেটা আমার জন্য, এমনকি যে কারও জন্যই খুব কষ্টের বিষয় হতো।’

এতে আরও অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত, আ খ ম হাসান, খায়রুল আলম সবুজ, নাজনীন হাসান চুমকি, আনিসা নূর আয়াত ও ফাতেমাতুজ জোহরা ইভা।
চলচ্চিত্রটির গল্প লিখেছেন মাহমুদুল হাসান টিপু ও কাজী আসাদ। চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন আসাদুজ্জামান আবীর ও কাজী আসাদ।


