অঞ্জন দত্তের আত্মজীবনী
অঞ্জন দত্ত বহুমাত্রিক। সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত হলেও তার সৃজনশীল আরো বিস্তৃত। গান লিখেন, সুর করেন, নিজেই গান। এছাড়াও অঞ্জন দীর্ঘদিন ধরে সিনেমার সঙ্গে যুক্ত। অভিনয়ও করেছেন বহু খ্যাতিমান পরিচালকের ছবিতে, আবার নিজেও পরিচালনা করেছেন চলচ্চিত্র। করেন নিয়মিত লেখালেখিও। ফলে অঞ্জন কেবল গানেই সীমাবদ্ধ নয়। আর তার এই পুরো জীবনকে এক মলাটে এনেছেন তিনি। অর্থাৎ অঞ্জন দত্ত আত্মজীবনী প্রকাশ করলেন ।
আগামীকাল ১৯ জানুয়ারি অঞ্জনের জন্মদিন। আর কালকেই ৭৩ বছরে পা রাখবেন এই কিংবদন্তী শিল্পী। জন্মদিনকে সামনে রেখেই নিজের পুরো জীবনকেই পাঠকের হাতে তুলে দিতে চান অঞ্জন।
গত ১৫ জানুয়ারি কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের অক্সফোর্ড বুক স্টোরে আয়োজিত ‘বাহাত্তরে অঞ্জন’ অনুষ্ঠানে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন অভিনেত্রী ও পরিচালক অপর্ণা সেন।

প্রকাশিত ‘অঞ্জন নিয়ে’ বইয়ে গায়ক কলকাতার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক, জার্মানিতে চাকরির অভিজ্ঞতা, এবং সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে মজার স্মৃতি তুলে ধরেছেন।
অঞ্জন দত্ত আত্মজীবনী কেন প্রকাশ করলেন ?
এই বয়সে আত্মজীবনী কেন, জানতে চাইলে অঞ্জন দত্ত বলেন, “৭২ বছর শেষ করে ৭৩-এ পা রাখার সময় মনে হলো, আত্মজীবনী লিখতে এখনই সঠিক সময়। পরে হলে হয়তো আর পারব না।
তখন হয়তো খুব সেন্টিমেন্টাল হয়ে পড়ব, আমার সেন্স অব হিউমার কমে যাবে।”
তিনি আরো যোগ করেন, “স্মৃতিকথা লিখতে হলে সত্যি কথাই লিখতে হয়। আমি সেই সত্যি কথাগুলোই লিখেছি। আশা করি আজকের প্রজন্মও বইটি উপভোগ করবে।
‘অঞ্জন নিয়ে’–বইতে উঠে এসেছে অঞ্জনের জীবনের নানা অধ্যায়। জার্মানিতে চাকরির অভিজ্ঞতা, পৃথিবীর নানা প্রান্তের বিখ্যাত মানুষের সঙ্গে পরিচয়ের গল্প—এসবই উঠে এসেছে বইয়ে।
এই গায়ক বলেন, ‘মৃণাল সেনের সঙ্গে আমার সম্পর্কের কথা লোকে জানে। কিন্তু অনেকেই জানে না, সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গেও আমার একটা অদ্ভুত, মজার সম্পর্ক ছিল।’
সবশেষে তিনি জানান, ‘এই সব কথা জানতে পারলে মানুষ আমাকে হয়তো আরো একটু ভালোভাবে চিনতে পারবে।
আমার শেষ বয়সে সেই পরিচয়টাই রেখে গেলাম। আমার মনে হয়, আজকের প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের ভালো লাগবে।’
