শান্তির বার্তা নিয়ে গান ‘যুদ্ধ’
বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ, সংঘাত ও সহিংসতার বিরুদ্ধে শান্তির বার্তা নিয়ে নতুন গান প্রকাশ করেছে জনপ্রিয় ব্যান্ড শিরোনামহীন। গানটির নাম ‘যুদ্ধ’। গত রোববার রাতে ব্যান্ডটির ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে গানটি। প্রকাশের পরে শিরোনামহীনের নতুন গানে এআই ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘাতের আবহে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ও শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে গানের মাধ্যমে তুলে ধরেছে ব্যান্ডটি। জিয়াউর রহমানের কথায় গানটির সুর করেছেন জিয়াউর রহমান ও কাজী আহমেদ শাফিন।

গানের কথায় যুদ্ধবিরতির আকুতি প্রকাশ করে শিরোনামহীন এমন এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখিয়েছে, যেখানে মিসাইল ফড়িং হয়ে উড়ে যায়, ড্রোন থেকে বোমার পরিবর্তে ঝরে পড়ে ফুল, গ্রেনেডের মুখে ফুটে ওঠে রক্তগোলাপ এবং সব সংঘাত রূপ নেয় শান্তিতে।
গানটি প্রকাশের পর শিরোনামহীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, সংঘাত ও সহিংসতায় প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী ও সংঘাতপূর্ণ সময়গুলোর একটি। এ বাস্তবতা থেকেই তারা যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের অভিযোগ
তবে গানটির ভিডিও নির্মাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক শুরু হয়। অনেকের ধারণা, ভিডিওর পাশাপাশি গানটির অডিও নির্মাণেও এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা ব্যান্ডটির মৌলিকতা ও স্বাতন্ত্র্যকে ক্ষুণ্ন করেছে।
এ প্রসঙ্গে শিরোনামহীনের দলনেতা জিয়াউর রহমান স্পষ্টভাবে জানান, গানের অডিও অংশে কোনো ধরনের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়নি।
জিয়াউর রহমান বলেন, ‘গানের টাইটেলের নিচে এআই লেখা দেখে অনেকে কনফিউজড হয়ে যাচ্ছে। তাদের বলতে চাই, ভিডিওটি সম্পূর্ণ এআইনির্মিত, এমনকি আমাদের ক্যারেক্টার প্লের কিছু অংশে (গিটার সলো পার্ট) সুদীপ্ত সিনহা এবং আমার ফিঙ্গার মুভমেন্ট এবং ফেশিয়াল এক্সপ্রেশনগুলো ভিআর রেপলিক্যাট টেকনোলজি ব্যবহার করে এক্যুরেট করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘ইউটিউব পলিসি অনুযায়ী এআইয়ের ব্যবহার ডিক্লেয়ার করেছে শিরোনামহীন। তার মানে এই নয় যে, গানটি এআই নির্মিত! শিরোনামহীন গান নির্মাণ, রেকর্ডিং, লিরিক, কম্পোজিশন, প্লেয়িং, ভয়েজসহ অডিও সেক্টরের কোনো অংশেই এআই ব্যবহার করেনি। শিরোনামহীন এযাবৎকালের ইতিহাসে ব্যান্ডের বাইরে থেকে কোনো ক্রিয়েটিভ ইনপুট নেয়নি এবং পারফরম্যান্স নেওয়ার তো প্রশ্নই আসে না।

সেখানে এআই থেকে কেন নেবে? অনেকেই কমেন্ট করেছে, এআই দিয়ে গান শিরোনামহীনের কাছে আশা করেননি। বিষয়টা দেখে হতবাক হয়েছি। তাদের আশ্বস্ত করতে চাই, এটা শিরোনামহীনের নিজস্ব স্টাইলের মৌলিক গান। এআই নির্মিত গান নয়।’
সময় বাঁচানো
ভিডিও নির্মাণে এআই ব্যবহারের কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। জিয়াউর রহমান বলেন, ‘এআইকে আমরা ভিজ্যুয়াল নির্মাণের টুল হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছি। কারণ, আমরা গানের মানুষ। ভিজ্যুয়ালের পেছনে আমাদের অর্থ ব্যয়, শ্রম, মেধা, সময় ব্যবহার করতে হয়, যা অনেকটা বোঝার ওপর শাকের আঁটির মতো হয়ে যায়। এআই ভিডিও হলে আমাদের সময় সেভ হবে, ব্যয় সীমিত হবে। তাতে শিরোনামহীন গানে মনোযোগ ধরে রাখতে পারবে। বছরে ১০টা করে তিন বছরে ৩০টা গান আমাদের টার্গেট। মানে তিন অ্যালবাম। প্রতিটি গানের আলাদা করে ভিডিও বানাতে হলে এক অ্যালবামের বেশি গান করা সম্ভব হবে না। তাই ভিডিওর পেছনে বাড়তি সময় ব্যয় না করে গানেই সময় দিতে চাই বেশি।’
ব্যান্ডটির আশা, প্রযুক্তির সহায়তায় ভিজ্যুয়াল নির্মাণের চাপ কমিয়ে ভবিষ্যতে আরও বেশি মৌলিক গান শ্রোতাদের উপহার দিতে পারবে তারা।
গানের লিরিক



