আমির খান ও হ্যাপি পাটেল
আমির খানের প্রতি সিনেমা প্রেমীদের বিশ্বাস আকাশচুম্বী। আমিরের নাম শুনলেই মাথায় আসে যেন ব্যতিক্রম কিছু, আশা জাগানিয়া কোন চলচ্চিত্র। আমির নিজে কোন সিনেমায় অভিনয় করলে সেটার প্রত্যাশার পারদ থাকে একেবারে উচ্চপর্যায়ে। তবে প্রযোজনায়ও পিছিয়ে নেই আমির। সম্প্রতি অনেকগুলো সিনেমা প্রযোজনা করে দর্শকের মন জয় করেছেন তিনি। সম্প্রতি তার প্রযোজনায় মুক্তি পেয়েছে স্পাই কমেডি-ড্রামা ‘হ্যাপি পাটেল: খাতরনাক জাসুস’। তবে এবার যেন ঘটলো অন্য ঘটনা। ছবিটির বক্স অফিসে রেকর্ড দেখার পরে সবার মনে প্রশ্ন আমির খান কি এবার ব্যর্থ হতে চলেছেন?
গত শুক্রবার আমিরের প্রযোজনায় মুক্তি পায় স্পাই কমেডি-ড্রামা ‘হ্যাপি পাটেল: খাতরনাক জাসুস’। ছবিটি মুক্তি পাওয়ার তিন দিনের মাথায় মোট আয় করে ৩ দশমিক ৯৫ কোটি রুপি। এর মধ্যে গতকাল রোববার তৃতীয় দিনে মাত্র ১ দশমিক ৩৫ কোটি আয় হয়েছে।

সিনেমার ভক্তরা আশা করেছিলেন, রোববার ভারতের ছুটির দিনে সিনেমার আয় বাড়বে। তবে আয় বাড়েনি বরং পতন হয়েছে। এই ঘটনা স্পষ্টভাবে বোঝায় যে সিনেমার ভাগ্য এবার সংকটাপন্ন।
যদিও প্রযোজক আমির খান সিনেমাটির প্রচারণায় অনেক সৃজনশীল পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন, কিন্তু সবই ব্যর্থ হয়েছে। এতো প্রচারণা করলেও সিনেমার কথাও দর্শকের মুখে মুখে ছড়ায়নি, রিভিউও ছিল কম ও মাঝারি মানের। যদি দর্শকেরা ছবিটি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাতেন, তবে বক্স অফিসে আরো হিট হতে পারতো।
সিনেমাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন বীর দাস ও কবি শাস্ত্রী। সিনেমাটির এই খারাপ অবস্থার মধ্যেও সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে ভালো অবস্থায় ফিরবে বলে বিশ্বাস সিনেমা ও আমিরপ্রেমীদের। সমালোচকেরা আশঙ্কা করছেন, পুরো সিনেমার আয় ভারতে ১০ কোটি টাকার নিচে থাকবে, যা আমির খানের প্রযোজনা সংস্থার জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না।
‘হ্যাপি পাটেল’ একটি স্পাই কমেডি-ড্রামা। সিনেমার প্রধান চরিত্রে রয়েছেন স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান ও অভিনেতা বীর দাস। সহশিল্পী হিসেবে আছেন মিথিলা পালকার, মোনা সিং, শারিব হাশমি প্রমুখ। আমিরের প্রযোজনা সংস্থা সিনেমাটি নির্মাণ করলেও অভিনয়েও আছেন আমির। দুই বিশেষ চরিত্রে ইমরান খানের সাথে দেখা যাবে আমির খানকে।
আমির খান কি এবার ব্যর্থ হবেন? কি বলছে রেটিং?
মুক্তির পর থেকে সমালোচকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে ছবিটি। রেডিফডটকম লিখেছে, ‘ছবিটিতে জোর করে কমেডি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এটা খুবই বাড়াবাড়ি মনে হয়।’

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ছবিটিকে দিয়েছে ৫–এ ২ রেটিং। ফিল্মফেয়ার সিনেমাটিকে ৫–এ ৩.৫ রেটিং দিয়েছে। সিনেমাটি লিখেছে, ‘হ্যাপি পাটেল কমিক স্পাই থ্রিলারের মিশ্রণ। বীর দাসের কমেডি দেখতে খারাপ লাগে না।’
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস লিখেছে, ‘সিনেমাটিতে অনেক আইডিয়া একসাথে আছে, অনেক কিছু বোঝানোর চেষ্টা করছে। ফলে কমেডি ও আবেগ ঠিকভাবে কাজ করে না। কয়েকজনের পারফরম্যান্স ভালো হলেও সামগ্রিকভাবে সিনেমাটি অগোছালো।’
