এ আর রহমান
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন সঙ্গীত পরিচালক এবং অস্কার বিজয়ী সংগীতশিল্পী এ আর রহমান। সম্প্রতি দেয়া এক সাক্ষাৎকারের পর থেকেই ভারতজুড়ে চলছে আলোচনা। তার সমালোচনা করেছেন বিজেপি নেত্রী ও অভিনেত্রী কঙ্গনা রওনাত। সেই সমালোচনা ও দেশজুড়ে বিতর্কের পর আজ রবিবার সকালে রহমান তার সোশ্যাল হ্যান্ডেলে ৯৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। ভিডিও বার্তায় এ আর রহমান বললেন-‘কখনও ব্যথা দিতে চাইনি’।
সম্প্রতি বিবিসি নিউজ এশিয়ান নেটওয়ার্ককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলিউডের পক্ষপাত নিয়ে কথা বলেছেন এ আর রহমান। নব্বইয়ের দশকে যখন তিনি হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে কাজ শুরু করেছিলেন, তখন তিনি কোনও পক্ষপাতের মুখোমুখি হয়েছিলেন কিনা জানতে চাইলে রহমান বলেন,”হয়তো আমি এই সব বিষয় জানতে পারিনি। হয়তো ঈশ্বর এই সব বিষয় গোপন রেখেছিলেন আমার থেকে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে, আমি কখনও এগুলোর কোনওটাই অনুভব করিনি, কিন্তু গত আট বছর ধরে, হয়তো, ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটেছে।”

তিনি আরো বলেন “যারা সৃজনশীল নন তাদের এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আছে, এবং এটি একটি সাম্প্রদায়িক বিষয়ও হতে পারে, কিন্তু আমাকে সরাসরি ইঙ্গিত করা হয়নি। আমি লোকেদের বলতে শুনেছি, ‘তারা তোমাকে বুক করেছিল, কিন্তু তারপর সঙ্গীত সংস্থা ছবিটির জন্য অর্থায়ন করেছিল এবং তাদের পাঁচজন সুরকারকে পেয়েছিল।’ তাই আমি বলেছিলাম, ‘এটা দারুন! এখন আমি আমার পরিবারের সাথে সময় কাটাতে পারি।’

এরপরেই শুরু হয় তার বিরুদ্ধে সমালোচনা। তার সমালোচনায় যোগ দিয়েছেন কঙ্গনা রানাউতও। তিনি ইনস্টাগ্রামে লিখেছিলেন, “প্রিয় এ আর রহমান, আমি একটি গেরুয়া দলকে সমর্থন করি বলে চলচ্চিত্র জগতে এত পক্ষপাতের মুখোমুখি হই, তবুও আমি অবশ্যই বলতে চাই যে আমি আপনার চেয়ে বেশি পক্ষপাতদুষ্ট এবং ঘৃণ্য লোক দেখিনি। আমি আমার পরিচালিত “ইমার্জেন্সি” ছবির গল্পটি আপনাকে বলতে মরিয়া হয়েছিলাম, গল্পটি বলা তো দূর এমনকি আপনি আমার সাথে দেখা করতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। আমাকে বলা হয়েছিল যে আপনি কোনও প্রচারণামূলক ছবির অংশ হতে চান না।”
এ আর রহমান বললেন- ‘কখনও ব্যথা দিতে চাইনি’
এতো সব সমালোচনার জবাবে রবিবার রহমান তার সোশ্যাল হ্যান্ডেলে ৯৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি ভারতকে “অনুপ্রেরণা, আমার শিক্ষক এবং আমার বাড়ি” বলে সম্বোধন করে শুরু করেন। তিনি আরও যোগ করেন যে তার উদ্দেশ্য বুঝতে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে বরং তার সর্বদা “সঙ্গীতের মাধ্যমে উন্নতি ,সম্মান করা এবং সেবা দান করা”।
“আমি কখনও ব্যথা দিতে চাইনি,” তিনি আরও বলেন, “আমি আশা করি আমার আন্তরিকতা বুঝতে পারবেন। আমি নিজেকে ধন্য মনে করি একজন ভারতীয় হিসেবে যেখানে আমি আমার স্থান পেয়েছি, যেখানে সর্বদা মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকে এবং বহু-সাংস্কৃতিক কণ্ঠস্বর উদযাপন করা হয়।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রোহিনুরের ওয়েভস সামিটে তিনি কীভাবে ঝালা গানটি উপস্থাপন করেছিলেন। এছাড়াও তিনি নাগা সঙ্গীতজ্ঞদের সাথে সহযোগিতা করে একটি স্ট্রিং অর্কেস্ট্রা তৈরি করেছিলেন। রহমান হ্যান্স জিমারের সাথে রামায়ণের জন্য সঙ্গীত পরিবেশন করার পাশাপাশি ভারতের প্রথম বহু-সাংস্কৃতিক ভার্চুয়াল ব্যান্ড সিক্রেট মাউন্টেনেও কাজ করার কথা বলেছেন। “আমি এই জাতির প্রতি কৃতজ্ঞ এবং অতীতকে সম্মান করে, বর্তমানকে উদযাপন করে এবং ভবিষ্যতের অনুপ্রেরণা জোগায় এমন সঙ্গীতের প্রতি আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
সব শেষে তিনি চিরায়ত স্লোগান, “জয় হিন্দ এবং জয় হো!” দিয়ে তার ভিডিও বার্তা শেষ করেন।
