নব্বইয়ের দশকে ধূমকেতুর মতো বাংলা চলচ্চিত্রে ঝড় তুলেছিলেন সালমান শাহ। অল্প সময়েই তিনি হয়ে উঠেছিলেন লাখো তরুণ-তরুণীর স্বপ্নের নায়ক। তাঁর স্টাইল, অভিনয় আর রোমান্টিক উপস্থিতি আজও দর্শকের মনে অমলিন। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর আকস্মিক মৃত্যু পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দেয়। প্রিয় নায়ককে হারানোর শোক ও ভক্তদের উন্মাদনার সেই সময়কেই পর্দায় তুলে ধরেছে ‘লাভ ৯৬’। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে সিনেমাটি।
সালমান শাহর মৃত্যুবার্ষিকী ৬ সেপ্টেম্বর। এর ঠিক দুদিন আগে, শুক্রবার মুক্তি পাবে ‘লাভ ৯৬’। নির্মাতা ইভান মল্লিক জানান, গত ১০ মে চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে আনকাট ছাড়পত্র পেয়েছে সিনেমাটি। তাঁর দাবি, সিনেমাটির গল্প, নির্মাণশৈলী এবং নব্বইয়ের দশকের আবেগঘন উপস্থাপনা বোর্ডের সদস্যদেরও প্রশংসা কুড়িয়েছে।
ইভান মল্লিক বলেন, ‘সিনেমাটি যেহেতু সেন্সর বোর্ড থেকে আনকাট ছাড়পত্র পেয়েছে এবং প্রশংসিত হয়েছে, তাই এখানে বিতর্কিত কিছু নেই। আছে শুধু সালমান শাহ ভক্তদের আবেগ, উন্মাদনা এবং নব্বইয়ের দশকের সেই সময়কে ফিরে দেখার চেষ্টা।’
রাইসা ফিল্মসের ব্যানারে মো. জসিম উদ্দিনের প্রযোজনায় নির্মিত ‘লাভ ৯৬’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হচ্ছে নতুন জুটি আরিয়ান খান ও পূর্ণতার। সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন শিবা সানু, সানজিদা মিলা, তমাল মাহবুব, রেবেকা রউফ, আরমান খান, প্রিয়া, ডি জে সোহেল, রুবেল রানা ও সিমান্ত খন্দকার।

কী আছে ‘লাভ ৯৬’-এ?
নব্বইয়ের দশকের জীবনযাপন এখন অনেকের কাছেই নস্টালজিয়ার অংশ। ব্যাটারিচালিত সাদাকালো টেলিভিশনে প্রিয় অনুষ্ঠান দেখা, চাঁদা তুলে ভিসিআর ভাড়া করে রাতভর সিনেমা দেখা, ভিউকার্ড কেনা, ক্যাসেট প্লেয়ারে গান শোনা কিংবা রেডিওতে পছন্দের অনুষ্ঠানের জন্য অপেক্ষা সেই সময়ের এসব অভিজ্ঞতাই জায়গা পেয়েছে ‘লাভ ৯৬’ এর গল্পে।
ঠিক সেই সময় বাংলা চলচ্চিত্রে ধূমকেতুর মতো আবির্ভাব ঘটে সালমান শাহর। অভিনয়, স্টাইল, ব্যক্তিত্ব ও রোমান্টিক উপস্থিতি দিয়ে অল্প সময়েই তিনি দর্শকের মনে আলাদা জায়গা তৈরি করেন। তাঁর জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর আকস্মিক মৃত্যুর খবর পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দেয়। প্রিয় নায়ককে হারানোর শোক অনেক ভক্তই মেনে নিতে পারেননি। সেই সময়ের আবেগ, সালমান শাহকে ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনা এবং এক অন্ধ ভক্তের জীবনকাহিনিকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে ‘লাভ ৯৬’।
নির্মাতা ইভান মল্লিক জানান, সিনেমার প্রধান দুই চরিত্রের জন্য অডিশনের মাধ্যমে নতুন মুখ নির্বাচন করা হয়েছে। এ কাজে পরিচালক সমিতিও সহযোগিতা করেছে।
ইভান মল্লিকের ভাষ্যে, ‘লাভ ৯৬’ পুরোপুরি রোমান্টিক ও অ্যাকশনধর্মী বাণিজ্যিক সিনেমা। গল্পের সঙ্গে নব্বইয়ের দশকের আবহ দর্শকদের সেই সময়ের স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা নির্মাতার।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এই চলচ্চিত্রটি দেখলে প্রত্যেক সালমান শাহ ভক্তই নিজের কোনো না কোনো অনুভূতিকে খুঁজে পাবেন।’
সালমান শাহকে ঘিরে সেই আবেগ
‘লাভ ৯৬’ এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ সালমান শাহকে ঘিরে তৈরি হওয়া আবেগ। তবে সিনেমাটি তাঁর জীবনী নয়। তাঁর মৃত্যুরহস্যও এতে তুলে ধরা হয়নি। বরং একজন তারকার প্রতি ভক্তদের ভালোবাসা কতটা গভীর হতে পারে, নব্বইয়ের দশকে সেই ভালোবাসা কীভাবে উন্মাদনায় রূপ নিয়েছিল সেই সময়টিকেই পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
নব্বইয়ের দশকের দর্শকদের কাছে সালমান শাহ শুধু একজন নায়ক ছিলেন না। তাঁর পোশাক, চুলের স্টাইল, অভিনয় ও পর্দার উপস্থিতি তরুণদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। তাই তাঁর আকস্মিক মৃত্যু শুধু চলচ্চিত্র অঙ্গনেই নয়, সাধারণ দর্শকের মধ্যেও তৈরি করেছিল গভীর শোক। সেই সময়ের স্মৃতি এবং সালমান শাহকে ঘিরে দর্শকের আবেগকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই নির্মিত হয়েছে ‘লাভ ৯৬’।






