‘দাদাগিরি’র নতুন দাদা দেব
দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে বাংলা টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় গেম শো ‘দাদাগিরি’র সঙ্গে একাত্ম হয়ে গিয়েছিল একটি নাম সৌরভ গাঙ্গুলি। দর্শকদের কাছে ‘দাদাগিরি’ মানেই ছিলেন বাংলার ‘মহারাজ’। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে বদল এসেছে অনুষ্ঠানটির সঞ্চালকেও। এবার সেই জনপ্রিয় মঞ্চে ‘দাদা’র আসনে দেখা যাবে টালিউড সুপারস্টার দেবকে। নতুন ফরম্যাট, নতুন উপস্থাপনা এবং নতুন চমক নিয়ে খুব শিগগিরই শুরু হচ্ছে ‘দাদাগিরি’র নতুন মৌসুম।
শোয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে ছিল জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন। কালো পোশাকে লালগালিচায় হাজির হন দেব। তাকে একনজর দেখতে ভক্ত-অনুরাগীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। চারপাশে করতালি আর উল্লাসের মধ্যেই নতুন ভূমিকায় আত্মপ্রকাশ করেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বেই উপস্থিত ছিলেন বিনোদন ও ক্রীড়াজগতের একাধিক পরিচিত মুখ, যা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
মঞ্চে উঠে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে দেব বলেন, “যা হয়, ভালোর জন্যই হয়। আমি এই সুযোগটা পেয়ে খুব খুশি।” তার এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যেই ফুটে ওঠে নতুন দায়িত্ব নিয়ে তার আত্মবিশ্বাস এবং আনন্দ।

‘দাদাগিরি’ শুধু একটি গেম শো নয়, এটি বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক আয়োজনেও পরিণত হয়েছে। প্রায় দুই দশক ধরে অনুষ্ঠানটির সঙ্গে সৌরভ গাঙ্গুলির ব্যক্তিত্ব এমনভাবে মিশে গেছে যে, নতুন কাউকে সেই জায়গায় কল্পনা করাও অনেক দর্শকের কাছে কঠিন ছিল। সেই বাস্তবতাও অস্বীকার করেননি দেব।
দেবের নতুন চ্যালেঞ্জ
‘পাগলু’খ্যাত এই অভিনেতা জানেন, সৌরভ গাঙ্গুলির মতো জনপ্রিয় একজন সঞ্চালকের উত্তরসূরি হওয়া সহজ নয়। তবে অভিনয়জীবনের শুরু থেকেই নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণে অভ্যস্ত দেব। তাই এই দায়িত্বকেও তিনি নিজের ক্যারিয়ারের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন।
সম্প্রতি এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেবকে প্রশ্ন করা হয়, ‘দাদাগিরি’র সঞ্চালক হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সৌরভ গাঙ্গুলির সঙ্গে তার কোনো কথা হয়েছে কি না। উত্তরে হাসিমুখে তিনি জানান, অবশ্যই কথা হয়েছে।
দেব বলেন, “একদম। দাদার সঙ্গে কথা হয়েছে। কয়েকটা টিপসও দিয়েছেন। শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আসলে এ জায়গাটা আমি নিয়েছি বলে দাদা খুব খুশি। সবাই জানে, দাদার সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। দাদাও নতুন কিছু করতে চেয়েছিল। সবাই তো ভালো কিছু করতে চায়। চ্যানেলেরও মনে হয়েছে অন্যরকম কিছু করা উচিত। আমিও তেমনটাই চেয়েছি।”
সৌরভকে প্রতিদ্বন্দ্বী মানেন না দেব
দেবের এই বক্তব্যে স্পষ্ট, অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক পরিবর্তনকে তিনি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে দেখছেন না। বরং এটি বাংলা টেলিভিশনে নতুনত্ব আনার একটি উদ্যোগ বলেই মনে করছেন তিনি। একই সঙ্গে সৌরভ গাঙ্গুলির প্রতি নিজের শ্রদ্ধা ও আন্তরিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেছেন।
নতুন দায়িত্ব নিয়ে কোনো চাপ অনুভব করছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবেও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন দেব। তিনি বলেন, “আমিও এই সুযোগ পেয়ে ভীষণ খুশি। যারা গত ১০টি সিজন ধরে ‘দাদাগিরি’ দেখেছেন, আশা করব সিজন ১১ আমরা অন্তত ততটাই ভালো, কিংবা তার থেকেও ভালো করতে পারব।”
দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করাই এখন তার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য বলেও জানান এই অভিনেতা।
জানা গেছে, নতুন মৌসুমে শুধু সঞ্চালকই নয়, অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনা ও বিভিন্ন পর্বের কাঠামোতেও আনা হয়েছে বেশ কিছু পরিবর্তন। ফলে আগের পরিচিত আবহ বজায় রেখেই দর্শকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করতে চাইছে নির্মাতারা।
বাংলা টেলিভিশনের ইতিহাসে ‘দাদাগিরি’ বরাবরই একটি সফল ব্র্যান্ড। সেই জনপ্রিয়তাকে ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও অনুষ্ঠানটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে এবার দেবের ওপরই ভরসা রেখেছে সংশ্লিষ্ট চ্যানেল।
এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘদিনের পরিচিত ‘দাদা’ সৌরভ গাঙ্গুলির উত্তরসূরি হিসেবে দেব কতটা সফলভাবে দর্শকদের মন জয় করতে পারেন। তবে শুরুর আগেই তার প্রতি ভক্তদের আগ্রহ এবং ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া বলছে, বাংলা টেলিভিশনে ‘দাদাগিরি’র নতুন অধ্যায় ঘিরে প্রত্যাশা কম নয়।