‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’
ভারতের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে সিনেমা ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’। গত ২৬ জুন শুক্রবারে মুক্তি পায় সিনেমাটি। সিনেমাটি নামের জন্য যতটুকু আলোচনায় তাঁর চেয়ে বেশি আলোচনায় এর তারকাবহুল উপস্থিতি ও বাজেটের জন্য। ৯০০ মানুষ, ৫০টি ভ্যান, ২৫০টি গাড়ি তাও খরচ ১১৫ মাত্র কোটি যা বেশ অবাক করেছে সবাইকে।
সম্প্রতি অমর উজালাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ছবির পরিচালক আহমেদ খান জানালেন নানা অবাক করা কথা। সিনেমাটি ৩৪ জন অভিনয়শিল্পীকে নিয়ে নির্মিত। তবে এই ছবির কেন্দ্রে আছে অক্ষয় কুমার। এই ছবির শুটিংয়ে কোনো কোনো দিন কাজ করেছেন প্রায় ৯০০ মানুষ। শুটিংয়ে ছিল ৫০টি ভ্যানিটি ভ্যান, ২০০ থেকে ২৫০টি গাড়ি। অথচ অবাক করা বিষয় যে এত বড় আয়োজনের ছবিটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১১৫ কোটি রুপি।
নির্মাতার ভাষ্য
এ নিয়ে পরিচালক আহমেদ খান বলেন, ছবিতে ৩৪জন অভিনেতা অভিনয় করেছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩০ জনই বলিউডের পরিচিত মুখ। এত বড় তারকা দলকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করাটা সহজ ছিল না। তাই শুটিং শুরুর আগেই তিনি অফিসে একটি বড় বোর্ডে সব অভিনয়শিল্পীর ছবি টাঙিয়ে পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন, যাতে প্রতিদিনের শুটিংয়ের সূচি ও সমন্বয় সহজ হয়।

পরিচালক আরো জানান, ৩৪টি চরিত্র পর্দায় দেখবেন দর্শক। কিন্তু ক্যামেরার পেছনের ঘটনা ছিলো ভিন্ন। প্রতিজন তারকার সাথেই গড়ে পাঁচজন ব্যক্তিগত সহকারী, মেকআপশিল্পী, হেয়ার স্টাইলিস্ট ও স্টাফ থাকতেন। ফলে শুধু অভিনয়শিল্পীদের দল থেকেই প্রতিদিন উপস্থিত থাকতেন প্রায় ১৫০ জন। এর বাইরে স্টান্ট টিম, অ্যাকশন শিল্পী, ঘোড়সওয়ার মিলিয়ে ছিল ২০০ জনের বেশি মূল ইউনিট। এতে ১৫০ থেকে ২০০ ব্যাকগ্রাউন্ড শিল্পী এবং বিভিন্ন দৃশ্যে অংশ নেওয়া বড় নৃত্যদলও থাকতো। সব মিলিয়ে কোনো কোনো দিন সেটে মানুষের সংখ্যা ৯০০ হয়ে যেত।
তবে এতো বড় ইউনিট সামলাতে শুটিংয়ের ব্যবস্থাপনাও ছিল বেশ বড়। পরিচালক জানান, একটি লোকেশন যথেষ্ট না হওয়ায় পাশাপাশি দুটি বড় মাঠ ভাড়া নিতে হয়েছিল। কারণ, প্রতিদিন প্রায় ৫০টি ভ্যানিটি ভ্যান রাখার জন্যই আলাদা জায়গার প্রয়োজন হতো। এর পাশাপাশি ব্যাকগ্রাউন্ড শিল্পীদের থাকার ব্যবস্থা, ইউনিটের কেবিন, মেকআপ জোনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরি করতে হয়েছে।

তারকাদের ইগো
এছাড়া যাতায়াতের ব্যবস্থাপনা করাও বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিলো। প্রতিদিন অভিনেতা, টেকনিশিয়ান, মেকআপশিল্পী, হেয়ার স্টাইলিস্ট ও ব্যক্তিগত স্টাফদের জন্য ২০০ থেকে ২৫০টি গাড়ি সামলানো ছিলো অনেক কষ্টের। নির্মাতার ভাষায়, ‘এত বড় শুটিং পরিচালনা করা অনেকটা প্রতিদিন একটি বিশাল সংগীতানুষ্ঠান আয়োজন করার মতো। অনেক সময় পরিচালনার চেয়ে পুরো ব্যবস্থাপনাটাই বেশি কঠিন মনে হয়েছে।’
এছাড়া আরেকটা বিপদও ছিলো। তারকাবহুল এই ছবিতে তারকাদের মধ্যে মতবিরোধ হওয়ার আশঙ্কাও ছিল। তবে সেটা আর হয়নি। সবাই পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করেছে। এছাড়া, প্রচণ্ড গরম, ব্যস্ত সময়সূচি ও কঠিন শুটিং সত্ত্বেও অভিনয়শিল্পীরা একে অন্যকে সহযোগিতা করেছেন। তাঁদের আন্তরিক সহযোগিতার কারণেই পুরো কাজ সময়মতো শেষ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান নির্মাতা ।
১১৫ কোটি রুপি
৯০০ মানুষ ৫০টি ভ্যান ২৫০টি গাড়ি নিয়ে বিশাল আয়োজনের পরেও সবচেয়ে আশ্চর্য করা খবর হল, ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’-এর বাজেট আকাশচুম্বী হয়নি। নির্মাতার মতে, ৩৪ জন তারকা নিয়ে মাত্র ১১৫ কোটি রুপির মধ্যে ছবি নির্মাণ করাই ছিল পুরো প্রকল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সেই চ্যালেঞ্জ সুন্দরভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।
‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’-এ অক্ষয় কুমারের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন সুনীল শেঠি, পরেশ রাওয়াল, রাভিনা ট্যান্ডন, জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ, দিশা পাটানি, আরশাদ ওয়ারসি, জনি লিভার, জ্যাকি শ্রফ, লারা দত্তসহ অনেক তারকা।


