সিনেমায় গুগলের বিনিয়োগ
স্বাধীন চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এটুয়েন্টিফোর এবং গুগলের মধ্যে নতুন একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) নতুন প্রযুক্তি ও টুলস উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবে দুই প্রতিষ্ঠান। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে গুগল প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুগলের এ বিনিয়োগ মূলত তাদের এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান গুগল ডিপমাইন্ড এবং এটুয়েন্টিফোর-এর যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই অংশীদারিত্বের ফলে এটুয়েন্টিফোর ডিপমাইন্ডের উন্নত গবেষণা ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে ডিপমাইন্ডের গবেষকরা চলচ্চিত্র নির্মাণের নতুন কর্মপ্রবাহ বা ওয়ার্কফ্লো তৈরিতে স্টুডিওটির সঙ্গে সরাসরি কাজ করবেন।
তবে চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, গুগল এটুয়েন্টিফোর-এর চলচ্চিত্র লাইব্রেরি বা তাদের কনটেন্ট ডেটার কোনো ধরনের প্রবেশাধিকার পাবে না। ফলে স্টুডিওর সৃজনশীল সম্পদ ও মেধাস্বত্ব পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকবে।
এআই প্রযুক্তিতে ঝুঁকছে হলিউড
সাম্প্রতিক সময়ে হলিউডে এআই প্রযুক্তি নিয়ে একদিকে যেমন অংশীদারিত্ব বাড়ছে, অন্যদিকে কপিরাইট ও মেধাস্বত্ব নিয়ে আইনি লড়াইও চলছে। এর আগে ডিজনি বিভিন্ন এআই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করলেও অন্যদিকে এআই প্রযুক্তি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতাও করেছে। একইভাবে লায়নসগেট এআই কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে নতুন কনটেন্ট তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এ বছর নেটফ্লিক্স চলচ্চিত্র নির্মাণে সহায়ক প্রযুক্তি তৈরির লক্ষ্যে একটি এআই স্টার্টআপও অধিগ্রহণ করেছে।

এটুয়েন্টিফোরের প্রযুক্তি বিভাগ এ২৪ ল্যাবসের প্রধান স্কট বেলস্কি বলেন, তাদের এই উদ্যোগের লক্ষ্য চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৃজনশীল নিয়ন্ত্রণ অক্ষুণ্ন রাখা। তার মতে, অনেক এআই কোম্পানি প্রযুক্তিকে শুধু দ্রুত ও কম খরচে চলচ্চিত্র তৈরির মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরছে, যা সৃজনশীলতার জন্য সবসময় ইতিবাচক নয়।
এআই স্টোরিবোর্ড প্রযুক্তি আনছে এটুয়েন্টিফোর
তিনি জানান, এটুয়েন্টিফোর বর্তমানে এআই-নির্ভর স্টোরিবোর্ড তৈরির মতো কিছু প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, যা নির্মাতাদের সৃজনশীল পরিকল্পনা আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। তবে এসব টুল প্রচলিত টেক্সট-প্রম্পটভিত্তিক জেনারেটিভ এআইয়ের মতো হবে না।
ডিপমাইন্ডের প্রোডাক্ট বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এলি কলিন্স বলেন, প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় অগ্রগতি তখনই ঘটে যখন তা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের সেরা সৃজনশীল মানুষদের হাতে পৌঁছে দেওয়া যায়।
‘লেডি বার্ড’, মুনলাইট, এভরিথিং এভরিহোয়ার অল এট অনস এবং সাম্প্রতিক বক্স অফিস সফল ছবি ব্যাকরুমস-এর মতো কাজের মাধ্যমে এটুয়েন্টিফোর ইতোমধ্যে নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তবে এই চুক্তি এমন এক সময়ে হলো, যখন তরুণদের মধ্যে এআই নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৩০ বছরের নিচের প্রায় অর্ধেক মানুষ মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমাজের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটে এটুয়েন্টিফোর ও গুগলের এই অংশীদারিত্ব চলচ্চিত্র শিল্পে এআই ব্যবহারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।