আদালতে ন্যায়বিচার চাইলেন জাহের আলভী
স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় অভিনেতা জাহের আলভী দুই দিনের রিমান্ডে। একই সঙ্গে অভিনেতা জাহের আলভীর জামিন আবেদনও নামঞ্জুর করেছে আদালত। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, কারাগার থেকে জাহের আলভীকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির মিরপুর জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আব্দুল মালেক ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তদন্তের স্বার্থে আরও তথ্য সংগ্রহ এবং মামলার বিভিন্ন দিক যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আদালতে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন আলভী
শুনানির সময় জাহের আলভী আদালতের কাছে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তিনি ও ইকরা ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন। তার দাবি, আত্মহত্যার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও বলেন, সন্তান ইতোমধ্যে মাকে হারিয়েছে, এখন বাবাকেও তার প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি ন্যায়বিচার প্রত্যাশার কথাও আদালতকে জানান।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ইকরাকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমানজনক ও উসকানিমূলক পোস্ট দিতেন আলভী। তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে মানসিক চাপ ও অপমানজনক আচরণের অভিযোগ রয়েছে। আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বিবাহিত থাকা অবস্থায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি অন্য এক নারীর সঙ্গে ছবি প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন তিনি। মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, পলাতক আসামিদের শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন বলে জানানো হয়।
এর আগে, গত ১৮ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীদের মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন অভিনেতা জাহের আলভী। তবে, শুনানি শেষে আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে রিমান্ড শুনানির জন্য ২৪ জুন দিন ধার্য করা হয়েছিল।

গত ১ মার্চ রাজধানীর একটি বাসা থেকে অভিনেতার স্ত্রী ইকরার ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
ইকরার মৃত্যুর পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করেন অভিনেতা জাহের আলভী। এর আগে একই মামলায় তার মা নাসরিন সুলতানা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।