পিংক ফ্লয়েডের ‘কমফোর্টেবলি নাম্ব’
ফিলিস্তিনের গাজার মানুষদের প্রতি সংহতি ও ভালোবাসা জানাতে ফিলিস্তিনি গায়িকা মোনা মিয়ারির সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন রক সঙ্গীতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যান্ড ‘পিংক ফ্লয়েড’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা রজার ওয়াটার্স। পিংক ফ্লয়েডের গান ‘কমফোর্টেবলি নাম্ব’-কে নতুন কথা, সুর ও সংগীতায়োজনে পুনর্নির্মাণ করেছেন রজার্স ওয়াটার্স। গত বৃহস্পতিবার গানটি ইউটিউবে মুক্তি পেয়েছে। এই গান দিয়ে আবারো ফিলিস্তিনীদের ভালোবাসায় বাঁধলেন মহাশিল্পী রজার্স ওয়াটার্স । গানটিতে ঘরহারানো ফিলিস্তিনি, তাঁদের বেদনাময় স্মৃতি, স্বজন হারানো, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার বিষয়গুলোকে তুলে ধরেছেন তিনি।

‘কমফোর্টেবলি নাম্ব’ এর নতুন সংস্করণে মূল গানের রকধর্মী আবহ পুরোটাই বদলে দেওয়া হয়েছে। গিলমরের আইকনিক গিটার সোলোর বদলে এতে রাখা হয়েছে শান্ত অ্যাকোস্টিক বাদ্যযন্ত্রের সুর ও মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী সুর। গানে চমৎকারভাবে আরবি কথা ও কণ্ঠের মিশ্রণে গানটি হয়ে উঠেছে গাজার শোক ও সাহসিকতার এক অনবদ্য প্রতীক।
গানটিতে শিল্পী মিয়ারি ‘হিন্দ’স লালাবাই’ নামে একটি আরবি অংশ যুক্ত করেছেন। এটি ছয় বছর বয়সী হিন্দ রাজাবকে উৎসর্গ করা হয়েছে। গানটির ওই অংশে কল্পিতভাবে শিশুটি ও তার মায়ের কথোপকথন তুলে ধরা হয়েছে।
৮২ বছর বয়সী রজার ইনস্টাগ্রামে গানের একটি অংশ শেয়ার করে লেখেন, ‘আজ ইউটিউবে প্রকাশিত হলো “কমফোর্টেবলি নাম্ব রি-ইম্যাজিনড”। গানটি ও এর পূর্ণাঙ্গ ভিডিও এখন সব প্ল্যাটফর্মে দেখা যাচ্ছে। এটি আমাদের পক্ষ থেকে মানুষের জন্য-স্মৃতি, মর্যাদা ও সত্যকে নিয়ে একটি নিবেদন।’
কমফোর্টেবলি নাম্ব এর প্রকাশ
পিংক ফ্লয়েডের কমফোর্টেবলি নাম্ব গানটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৯ সালে ব্যান্ডটির ‘দ্য ওয়াল’ অ্যালবামে। গানটি বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া এক রক তারকার একাকিত্ব, বিচ্ছিন্নতা এবং নানা ট্রমার সঙ্গে লড়াইয়ের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
নিউইয়র্কের এসভিএ থিয়েটারে আনুষ্ঠানিকভাবে গানটি প্রকাশ করা হয়। সেখানে ওয়াটার্স ও মিয়ারি গানটির সঙ্গে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ারেও অংশ নেন।

ডেভিড ব্যারন পরিচালিত ওই চলচ্চিত্রে গাজায় সুহাইল নাসসারের ধারণ করা ভিডিও ব্যবহার করা হয়েছে। এর প্রযোজনা করেছেন ইয়াসমিন আলমোখামাদ-সার্কিসিয়ান।
এই কাজটি গানটিকে বাস্তুচ্যুতি, স্মৃতি, ক্ষতি এবং ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার অবিচল অনুসন্ধানের মতো বিষয়বস্তুর আলোকে নতুনভাবে উপস্থাপন করে।
রজার ওয়াটার্সের প্রতিবাদী সত্তা
পিংক ফ্লয়েডের এই কিংবদন্তী গায়ক ও সংগীতলেখক প্রথম থেকেই ফিলিস্তিনের পক্ষে সোচ্চার। এর আগে ২০২২ সালে এক অনুষ্ঠানে রজার ওয়াটার্স সঙ্গীতশিল্পীদের এক চিঠিতে ইসরায়েলে সঙ্গীত পরিবেশন না করার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
সেখানে তিনি বলেন, “ইসরায়েলিরা ভ্রাম্যমাণ সঙ্গীতশিল্পীদের অস্বাভাবিকভাবে ভালো পারিশ্রমিক দেয়… ইসরায়েলে সঙ্গীত পরিবেশন করা একটি লাভজনক কাজ, কিন্তু তা করার মাধ্যমে দখলদারিত্ব, বর্ণবৈষম্য, জাতিগত নির্মূল, শিশুদের কারাবাস, নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের নিয়মিত হত্যাকাণ্ড-এই সমস্ত খারাপ বিষয়কে স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়ার পথ তৈরি হয়।”
এই শিল্পী তাঁর জীবনব্যাপী ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। ফিলিস্তিন যার অন্যতম উদাহরণ। রক সঙ্গীতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যান্ডগুলোর মধ্যে অন্যতম পিংক ফ্লয়েডের এই কিংবদন্তীর প্রতিবাদী চরিত্রে এখনো ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস ও অনুপ্রেরণা পান সংগীতশিল্পী-প্রেমী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষেরাও।


