মুক্তির অপেক্ষায় মাস্তুল, প্রচারণা শুরু
এবার দেশের দর্শকদের জন্য প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে মাস্তুল সিনেমা। মুক্তির আগেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা ও একাধিক পুরস্কার অর্জন করে আলোচনায় মোহাম্মদ নূরুজ্জামান পরিচালিত চলচ্চিত্র মাস্তুল সিনেমাটি। ‘আমায় ভাসাইলি রে’ প্রকাশের মধ্য দিয়েই শুরু হবে এর আনুষ্ঠানিক প্রচার। বুধবার প্রকাশ করা হয়েছে ‘মাস্তুল’ এর অফিসিয়াল পোস্টার। পোস্টারটির নকশা করেছেন খ্যাতিমান শিল্পী ধ্রুব এষ।

মস্কো উৎসবে অর্জন করেছে সম্মান
‘মাস্তুল’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে গৌরবের সঙ্গে। ছবিটি ৪৭তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে অংশ নিয়ে ‘স্পেশাল মেনশন’ পুরস্কার অর্জন করে। এছাড়া বিশ্বের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবেও ছবিটি পুরস্কৃত হয়েছে। এবার দেশে মুক্তি পাচ্ছে মাস্তুল সিনেমাটি। ফলে মুক্তির আগেই সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
মুক্তি বিলম্বের কারণ জানালেন নির্মাতা
নির্মাতা মোহাম্মদ নূরুজ্জামান জানান, চলতি বছরের শুরুতেই ছবিটি মুক্তির পরিকল্পনা ছিল। সে অনুযায়ী গত বছরই চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে প্রদর্শনের অনুমতিও নেওয়া হয়েছিল। তবে বিভিন্ন বাস্তব কারণে মুক্তির সময় কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া হয়। এবার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ায় আগামী ১৭ জুলাই দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে মাস্তুল।

নদী ও বন্দরের মানুষের গল্প নিয়ে মাস্তুল
‘মাস্তুল’ এর গল্প আবর্তিত হয়েছে একটি জ্বালানীবাহী তেলের ট্যাংকারের বৃদ্ধ রাঁধুনি মকবুল এবং বন্দর এলাকার পথশিশু নূরাকে ঘিরে। তাদের সম্পর্কের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে নদী ও বন্দরে ভাসমান মানুষের জীবনসংগ্রাম, একাকীত্ব, স্নেহ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং টিকে থাকার লড়াই। নির্মাতার ভাষায়, জাহাজ, নদী ও মানুষের চেনা বাস্তবতার আড়ালে থাকা এক অদেখা জগতের মুখোমুখি হবেন দর্শক।
গানের কণ্ঠ দেওয়া প্রসঙ্গে ফজলুর রহামান বাবু বলেন, সিনেমাটিতে সংগ্রামী জীবনের কথা উঠে এসেছে। নির্মাতা মনে করেছে সিনেমার প্রমোশনের জন্য একটি গান দরকার। তার চাওয়া থেকেই আমার কণ্ঠের প্রমোশনাল গানটি যুক্ত করা হয়েছে। বেশ আগে ‘আমায় ভাসাইলি রে’ এর কিছু অংশে কণ্ঠ দিয়েছি। এ সিনেমায় আমার কোনো সংলাপ নেই। অথচ এতে আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছি।

ছবির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, দীপুক সুমন, আমিনুর রহমান মুকুল, আরিফ হাসান, সিকদার মুকিত, শাহজাহান শোভন এবং সিফাত বন্যা। সিনেমাটোগ্রাফি করেছেন মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান। শিল্প নির্দেশনায় ছিলেন হুসনাইন লিঙ্কন এবং সংগীত পরিচালনা করেছেন চৈতন্য রাজবংশী। ছবিটির প্রযোজনায় রয়েছে সিনেমাকার এবং ডিজিটাল ডিস্ট্রিবিউশন ও প্রচারণায় যুক্ত রয়েছে টঙকর কটিজ।