ডিজিটাল সেবা ও যন্ত্রপাতিতে কর-সুবিধা, শিল্পে গতি আশা
শিল্পী, চলচ্চিত্র নির্মাতা, কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বড় ধরনের সহায়তা নিয়ে এসেছে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট। দেশের সৃজনশীল অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন উৎস থেকে মোট ১,০০০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও ডিজিটাল সেবার ওপর কর-সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে, যা এই খাতে বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস উন্নয়নে ২০০ কোটি টাকার প্রস্তাব
প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী জানান, এই প্যাকেজের মধ্যে সরাসরি সরকারি বরাদ্দ হিসেবে রাখা হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির জন্য অতিরিক্ত ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সরকার ক্রীড়াকে সৃজনশীল অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং কর্মসংস্থান ও আয় সৃষ্টির ক্ষেত্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সৃজনশীল খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, এই উদ্যোগ উৎপাদন ব্যয় কমাবে, প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ বাড়াবে এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে। বিশেষ করে চলচ্চিত্র, সংগীত, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং সাংস্কৃতিক শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে এই পদক্ষেপ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদুল কবির সরকারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। তিনি বলেন, সৃজনশীল বাজেট শুধু সংস্কৃতির অংশ নয়, বরং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। তবে তার মতে, শুধু আর্থিক প্রণোদনা যথেষ্ট নয়।
সৃজনশীল শিল্পে টেকসই উন্নয়নে দক্ষতা বৃদ্ধির আহ্বান
তিনি বলেন, স্কুল ও কলেজ পর্যায় থেকেই সংগীত, নাটক, নৃত্যসহ বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমের চর্চা বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি নীতি সহায়তা প্রয়োজন। বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী পারফরম্যান্সভিত্তিক বিষয়ে পড়লেও স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত থাকায় পেশাগতভাবে এগোতে পারেন না। তাই সৃজনশীল শিল্পের টেকসই উন্নয়নে দক্ষতা উন্নয়ন জরুরি।
বাজেটে ‘ক্রিয়েটেড ইন বাংলাদেশ’ নামে একটি জাতীয় ব্র্যান্ডিং উদ্যোগ চালুর প্রস্তাব রয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সৃজনশীল পণ্য ও সেবা আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি থিয়েটার, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং ওটিটি শিল্পের জন্য আন্তর্জাতিক মানের স্টুডিও সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বাদ্যযন্ত্র ও সিনেমা যন্ত্রপাতিতে শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত
কর সুবিধার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গিটার, পিয়ানো, বেহালাসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র ও এর যন্ত্রাংশের ওপর বিদ্যমান ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক তুলে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা ও প্রজেক্টরের খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানির শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হচ্ছে।
ডিজিটাল কনটেন্ট খাতের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের সেবার ওপর প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে ইউটিউব, ফেসবুক ও টিকটকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কাজ করা নির্মাতারা সরাসরি উপকৃত হবেন।