শিল্প, সংস্কৃতি নিয়ে নতুন উদ্যোগ
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কারিকুলামের জন্য নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। প্রাথমিক শিক্ষায় যুক্ত হচ্ছে সংগীত , নাট্যকলা, নৃত্যকলা এবং চারু ও কারুকলা। এ লক্ষ্যে ২০২৭ সাল থেকে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’ পাঠ্যবই চালু করা হবে। এরপর ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলামের আওতায় বিষয়গুলো পূর্ণাঙ্গভাবে প্রাথমিক শিক্ষায় যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

আজ বুধবার (১০ জুন) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। উক্ত সভায় অংশ নেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
এ বিষয়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের শিক্ষা-দর্শন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তোলা হবে, যাতে তারা একদিকে বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে বিকশিত হতে পারে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাও অর্জন করে।’
এছাড়াও শিল্প, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষা শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করেন তিনি।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্যকলা ও ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণের ফলে বিপুলসংখ্যক বিশেষায়িত শিক্ষক ও প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হবে। এতে সংগীত, নৃত্যকলা, চারুকলা, নাট্যকলা ও ক্রীড়া বিষয়ে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
নতুন কর্মসংস্থান
প্রাথমিক শিক্ষায় যুক্ত হচ্ছে সংগীত ও শিল্পকলার ধারাগুলো এমন সিদ্ধান্ত শুধু বিকশিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা নয়, এতে তৈরি হবে কর্মসংস্থানও। আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সহযোগিতা কামনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে সরকার কাজ করছে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষকতা-সম্পর্কিত প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ সংযুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।’
কবে থেকে চালু হবে?
মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ২০২৭ সালে চালু হতে যাওয়া ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’ পাঠ্যবইয়ের চারটি অধ্যায়ে চারু ও কারুকলা, সংগীত, নৃত্যকলা ও নাট্যকলা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলামের মাধ্যমে বিষয়গুলোকে প্রাথমিক শিক্ষার পূর্ণাঙ্গ অংশ হিসেবে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিল্পীদের প্রতিক্রিয়া
মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দেশের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেকেই। এ নিয়ে দেশের অন্তপুর ব্যান্ডের ভোকাল রাইসুল ইসলাম চৌধুরী বলেন,’সরকারের এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। এই সিদ্ধান্ত আরো আগেই নেয়া উচিত ছিলো। কারণ দেশের শিশুদের বিকাশে ও আসন্ন প্রজন্মকে সঠিক মানবিক শিক্ষা ও শিল্প-সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী করে গড়ে তুলতে এই শিক্ষা অপরিহার্য।‘
তিনি আরো বলেন,’দেশের মানুষের সামগ্রিক মানসিকতায় একধরনের চিন্তাহীনতা ও নৈরাজ্য বিরাজ করছে। ফলে এই দুঃসময় থেকে আমাদের আগামীর সন্তানদের বাঁচাতে ও তাঁদেরকে সঠিক মানবিক মূল্যবোধসহ গড়ে তুলতে প্রাথমিক স্কুল থেকেই শিল্প-সাহিত্য, চারু ও কারুকলার প্রতি ভালোবাসা ও মনোযোগী করে তুলতে এর কোন বিকল্প নেই। ফলে, সরকার একটি সুন্দর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।“
এছাড়া বর্তমান সরকারের মেয়াদকাল শেষ হলে পরবর্তীতে যে সরকার আসবে তাঁরা যেন যেকোন বাহ্যিক চাপকে উপেক্ষা করে শিক্ষার এই ধারা অব্যাহত রাখেন সেই পরামর্শ ও আশা ব্যক্ত করেন এই শিল্পী।


