১০৮ মিলিয়ন আয়
হলিউডে সাধারণত বড় বাজেট, তারকাখচিত অভিনয়শিল্পী ও বিশাল বিপণন প্রচারণাকেই সাফল্যের চাবিকাঠি মনে করা হয়। তবে সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে অতিপ্রাকৃত হরর চলচ্চিত্র অবসেশন । মাত্র ১ মিলিয়ন ডলার বাজেটে নির্মিত সিনেমাটি ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী ১০৮ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে, যা বাজেটের ১০০ গুণেরও বেশি।
ছবিটির নির্মাতা ২৬ বছর বয়সী ক্যারি বার্কার। কয়েক বছর আগেও তিনি বন্ধুদের নিয়ে ইউটিউবে কমেডি স্কেচ ও স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও নির্মাণ করতেন। সেই অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে তাকে চলচ্চিত্র নির্মাণে নিয়ে আসে।
বার্কারের প্রথম আলোচিত কাজ ছিল ‘মিল্ক অ্যান্ড সেরিয়াল’। মাত্র ৮০০ ডলার বাজেটে নির্মিত সিনেমাটি ইউটিউবে প্রকাশের পর ভাইরাল হয়ে যায় এবং নতুন প্রতিভা হিসেবে তাকে আলোচনায় নিয়ে আসে।
এরপর ২০২৫ সালে নির্মিত হয় ‘অবসেশন’। ছবিটি প্রথম প্রদর্শিত হয় টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মিডনাইট ম্যাডনেস বিভাগে। সেখানে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পর ছবিটির স্বত্ব কিনে নেয় ফোকাস ফিচারস।
মুক্তির আগে বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, প্রথম সপ্তাহান্তে ছবিটি ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে। কিন্তু সব পূর্বাভাসকে ভুল প্রমাণ করে প্রথম সপ্তাহেই আয় করে ১৭ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার। পরে দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার কারণে দ্বিতীয় সপ্তাহে ছবিটির আয় আরও বৃদ্ধি পায়, যা সাম্প্রতিক বক্স অফিস ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘অবসেশন’-এর সাফল্যের মূল কারণ শক্তিশালী গল্প, রহস্যময় পরিবেশ এবং দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তি তৈরি করার ক্ষমতা। ছবিটিতে বড় কোনো তারকা বা ব্যয়বহুল ভিএফএক্স না থাকলেও এর নির্মাণশৈলী দর্শকদের আকৃষ্ট করেছে।
হরর চলচ্চিত্র জগতের প্রভাবশালী প্রযোজক জেসন ব্লাম-ও ছবিটির সাফল্যে মুগ্ধ হয়েছেন। তার প্রতিষ্ঠান ব্লামহাউস ইতোমধ্যে বার্কারের ভবিষ্যৎ প্রকল্পে সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি তিনি নতুন হরর চলচ্চিত্র ‘অ্যানিথিং বাট গোস্টস’ এবং কিংবদন্তি ‘দ্য টেক্সস চেইন শ ম্যাচাকার’ ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন সংস্করণ নিয়েও কাজ করছেন।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, ‘অবসেশন’-এর সাফল্য শুধু একটি সিনেমার বাণিজ্যিক অর্জন নয়; এটি ইউটিউবভিত্তিক নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের উত্থানেরও প্রতীক। একসময় যেসব কনটেন্ট নির্মাতা অনলাইনে সীমাবদ্ধ ছিলেন, এখন তারাই বড় পর্দায় দর্শকদের টেনে আনছেন। আর সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে ‘অবসেশন’।