জাপানের তিনটি সিনেমা
বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসরগুলোর একটি কান চলচ্চিত্র উৎসব। এই মর্যাদাপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক কান চলচ্চিত্র উৎসবে জাপানের তিনটি সিনেমা জায়গা পেয়েছে। তিনটি সিনেমাই জায়গা পেয়েছে মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে। তিনটি সিনেমার মধ্যে আছে ‘শিপ ইন দ্য বক্স’,‘অল অব আ সাডেন’ ও ‘নাগি নোটস’।
এই তিন ছবিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। বিশেষ করে জাপানি নির্মাতা হিরোকাজু কোরে-এদা নির্মিত ‘শিপ ইন দ্য বক্স’ নিয়ে আলোচনা সবচেয়ে বেশি। মানবসদৃশ রোবট ও মানুষের আবেগগত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে নির্মিত ছবিটি এবারের উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সিনেমা সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিবছরই কান চলচ্চিত্র উৎসব–এ নির্বাচিত সিনেমাগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকে বিশ্ব চলচ্চিত্রমহল। কারণ, কানে স্বীকৃতি পাওয়া মানেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নির্মাতা ও সিনেমার জন্য বিশেষ মর্যাদা অর্জন। পুরস্কার ছাড়াও, নতুন গল্প, ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, নির্মাণে নতুনত্ব এবং সমসাময়িক ভাবনার সাহসী উপস্থাপনার জন্যও এই উৎসব দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্ব সিনেমার দিকনির্দেশক হিসেবে বিবেচিত। এবারের আসরেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।
মানুষ, রোবট ও আবেগ
এবারের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে থাকছে ২২টি ছবি। তাঁর মধ্যে জায়গা পেয়েছে ‘শিপ ইন দ্য বক্স’। গল্পের দিক থেকে আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছে ছবিটি। ছবিতে দেখা যাবে, স্বামী-স্ত্রীর ছোট একটি পরিবারকে ঘিরে নির্মিত এক আবেগঘন কাহিনি। অকালপ্রয়াত সন্তানের আদলে তৈরি করা হয় একটি হিউমেনয়েড রোবট। এরপর যন্ত্র, স্মৃতি, শূন্যতা এবং মানবিক সম্পর্কের জটিল আবেগগুলোকে কেন্দ্র করেই এগোয় গল্প। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির এই সময়ে কোরে-এদা যেন প্রশ্ন তুলেছেন-মানুষের অনুভূতির জায়গা কি কোনোদিন যন্ত্র পূরণ করতে পারবে?

এই ভাবনাটি এখন সময়োপযোগীও বটে। সম্প্রতি বেইজিং–এ অনুষ্ঠিত এক ব্যতিক্রমী হাফ ম্যারাথনে মানুষের পাশাপাশি আলাদা ট্র্যাকে অংশ নেয় কয়েকটি হিউমেনয়েড রোবট। ‘লাইটনিং’ নামের একটি রোবট ২১ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ৫০ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে। এই আয়োজন দেখিয়ে দিয়েছে, মানব আকৃতির রোবট প্রযুক্তি কত দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। সেই বাস্তবতাকেই যেন শিল্পের ভাষায় পর্দায় তুলে ধরতে চেয়েছেন হিরোকাজু কোরে-এদা।
দুই নারীর সম্পর্ক
জাপানের দ্বিতীয় আলোচিত সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন রিউসুকে হামাগুচি। তাঁর নতুন ছবি ‘অল অব আ সাডেন’–এ উঠে আসবে প্যারিস–এর একটি নার্সিং হোমে ক্যানসারে আক্রান্ত এক জাপানি নারী ও সেই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক নারীর মধ্যকার সম্পর্কের গল্প।

আর তৃতীয় সিনেমা কোজি ফুকাদা–র ‘নাগি নোটস’। দেশের তিন শীর্ষ নির্মাতার তিনটি সিনেমা একসঙ্গে মূল প্রতিযোগিতায় জায়গা পাওয়ায় জাপানি সিনেমার শক্ত অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে।
প্রিমিয়ার বিভাগে সামুরাই
মূল প্রতিযোগিতার বাইরেও জাপানের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। পরিচালক ইউকিকো সোদে–র ‘অল দ্য লাভার্স ইন দ্য নাইট’ দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় জায়গা পেয়েছে। আর বিশিষ্ট নির্মাতা কিয়োশি কুরোসাওয়া–র নতুন ছবি ‘কোকুরোজো’, যার ইংরেজি নাম ‘সামুরাই অ্যান্ড দ্য প্রিজনার’, প্রদর্শিত হবে কানের ‘প্রিমিয়ার’ বিভাগে।

সব মিলিয়ে এবারের কানে জাপান আলাদা এক শক্তি হিসেবে উপস্থিত হচ্ছে। চলচ্চিত্রপ্রেমীদের চোখ তাই জাপানের দিকেই।


