থালাপতি বিজয়
তামিল নাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন দক্ষিণী তারকা অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয়। শুনলে অবাক হতে হয় যে, ছয় বছর আগে রাজনীতিতে আসতে চাপ দেওয়ায় মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন থালাপতি বিজয় ।
তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে ইতোমধ্যে ১০৮টি আসনে জয়লাভ করেছে থালাপতি বিজয়ের নবগঠিত রাজনৈতিক দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’ (টিভিকে)। তবে তাঁর এই রাজনৈতিক সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে এক নাটকীয় পারিবারিক ও আইনি লড়াইয়ের ঘটনা।
মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা
২০২০ সালে বিজয়ের বাবা প্রখ্যাত সিনেমা পরিচালক এস এ চন্দ্রশেখর ছেলের অনুমতি ছাড়াই ‘বিজয় মাক্কাল আইয়াক্কাম’ (ভিএমআই)-নামে একটি রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের উদ্যোগ নেন। সেখানে চন্দ্রশেখর নিজেকে সাধারণ সম্পাদক এবং বিজয়ের মা শোভাকে কোষাধ্যক্ষ মনোনীত করেছিলেন।

বিজয় তাঁর বাবার এই একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে আদালতের দ্বারস্থ হন। নিজের নাম ও ছবি রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি নিজ বাবা-মাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং ব্যক্তিগতভাবে ওই সংগঠন থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেন। তবে সময়ের পরিক্রমায় আজ তিনিই ভারতের অন্যতম জাদুকরী রাজনৈতিক নেতায় পরিণত হয়েছেন।
বিজয়ের রাজনীতির গোড়াপত্তন
তবে বিজয়ের রাজনৈতিক যাত্রার ছিলো ব্যতিক্রম। তাঁর রাজনীতির ভিত্তি তৈরি হয়েছিল কয়েক দশক ধরে। ১৯৮৪ সালে বাবার হাত ধরে শিশু অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্রে আসেন এই তারকা। এরপর অ্যাকশন সিনেমা করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা কুড়ান আর কারণে তাঁর সাথে যোগ হয় ‘থালাপাতি’ খেতাব। একইসময়ে তার ফ্যান ক্লাবগুলো দীর্ঘ সময় ধরে গ্রাম ও মফস্বল শহরগুলোতে রক্তদানসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজ করে আসছিল। আর এই কার্যক্রমই পরবর্তীতে টিভিকে-র একটি শক্তিশালী ক্যাডার-ভিত্তিক সংগঠনে রূপ নেয়।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০০৯ সাল থেকেই তার বাবা রাজনৈতিক পরিকল্পনা শুরু করলেও বিজয় এ নিয়ে সব সময় সতর্ক ছিলেন। ২০২১ সালে তিনি ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছিলেন, রাজ্যে বড় কোনো রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তিনি সরাসরি মাঠে নামবেন না।
তবে ২০১৬ সালে জয়ললিতার মৃত্যুর পর এআইএডিএমকে-র দুর্বল অবস্থান এবং ডিএমকে-র বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। ফলে রাজনীতির মাঠে একটি জনমুখী দলের প্রয়োজন হয়ে পড়ে আর এই সুযোগকেই কাজে লাগান বিজয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২৪ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের দল গড়ে তোলেন।
২৩৪ আসনে বিজয়ই প্রার্থী
ব্যক্তিগতভাবে কম কথা বলা ও প্রচারবিমুখ হলেও বড় পর্দায় আমজনতার প্রতিনিধি হিসেবে বিজয়ের যে ইমেজ, তা তরুণ ও নারী ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।
নির্বাচনী প্রচারে থালাপতি বিজয় জনতার উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘২৩৪টি নির্বাচনী এলাকাতে বিজয়ই প্রার্থী।’ এই কথাই তার দলের জনপ্রিয়তা আরো বাড়িয়ে দেয়। এর ফলেই নির্বাচনে অসামান্য ফলাফল করেছে টিভিকে। স্বল্প রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও আদর্শিক অস্পষ্টতা থাকলেও জনমুখি ওয়াদা নিয়েই জনতার মন করেছে বিজয় ও তাঁর রাজনৈতিক দল টিভিকে।


