পিপল ম্যাগাজিন
হলিউডের আলোঝলমলে জগতে আবারও শিরোনামে উঠে এসেছেন অভিনেত্রী অ্যান হ্যাথাওয়ে। ২০২৬ সালে পিপল ম্যাগাজিন-এর বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর নারী অ্যান হ্যাথাওয়ে । পিপল ম্যাগাজিন-এর কভারে জায়গা করে নিয়ে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছেন তিনি। তবে এই স্বীকৃতির পেছনে রয়েছে দীর্ঘ আত্ম-সংগ্রাম ও নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার গল্প।

কভার ফটোশুটে ছিল এক প্রাণবন্ত পরিবেশ। ব্যাড বানী, বিলি আইলিশ আর ম্যাডোনার গানের মিশ্রণে তৈরি প্লেলিস্টের মাঝে হ্যাথাওয়ের উপস্থিতি হয়ে ওঠে স্বতঃস্ফূর্ত ও নান্দনিক। কিন্তু আজকের এই স্বচ্ছন্দ আত্মবিশ্বাস তাঁর জীবনের শুরুতে ছিল না।
অভিনেত্রী জানান, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তিনি নিজেকে সবসময় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন। মনে করতেন, ভালো অভিনেত্রী হতে হলে নিখুঁত হওয়াই একমাত্র পথ। কিন্তু বয়স ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে সেই মানসিকতা বদলেছে। এখন তিনি বলেন, জীবনকে উপভোগ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অ্যানার ভাষায়, ‘অস্বস্তিকর জীবন আর নয়, আমি এখন শুধু মজার অংশটুকু উপভোগ করতে চাই।’

২০০১ সালে দ্য প্রিন্সেস ডায়েরিজ দিয়ে হলিউডে যাত্রা শুরু করেন তিনি। এরপর একে একে “ব্রোকব্যাক মাউন্টেন”, “বিকামিং জেইন”, “অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড” এবং “লা মিজারেবলস”-এর মতো সিনেমায় নিজের অবস্থান শক্ত করেন। শেষোক্ত ছবির জন্য তিনি অস্কারও অর্জন করেন।
এক বছরে পাঁচ সিনেমা
২০২৬ সাল তাঁর ক্যারিয়ারে একটি বিশেষ বছরগুলোর একটি। এ বছরে মুক্তি পাচ্ছে তাঁর পাঁচটি সিনেমা, যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে ‘দ্য ডেভিল ওয়ারস প্রাডা ২’। প্রায় দুই দশক পর আবারও অ্যান্ডি স্যাকস চরিত্রে ফিরে আসছেন তিনি। আগের তারকাদের সঙ্গে পুনর্মিলন ঘটছে তাঁর। মেরিল স্ট্রিপ, এমিলি ব্লান্ট ও স্ট্যানলি টুচি তাঁর কাছে ছিল এক আবেগঘন অভিজ্ঞতা। হ্যাথাওয়ের ভাষায়, এই পুনর্মিলন ছিল ‘আনন্দে ভরা, সুন্দর একটি অভিজ্ঞতা’।

ব্যক্তিগত জীবনে স্বামী অ্যাডাম শুলম্যান-এর সঙ্গেই তাঁর স্থিতিশীল সংসার জীবন। ১৩ বছরের দাম্পত্য জীবন তাঁদের। দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি এখন পারিবারিক জীবনে বেশি মনোযোগী।
সৌন্দর্য নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিও সময়ের সঙ্গে বদলেছে। তাঁর মতে, সত্য থাকলেই সৌন্দর্য পূর্ণতা পায়-অসম্পূর্ণতাও সেখানে স্বাভাবিক অংশ। তাঁর মতে, ‘সৌন্দর্যের ভেতরে কুৎসিতও থাকতে পারে, যদি সেখানে সত্য থাকে।’

শৈশব থেকেই অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক থাকলেও, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে তাঁর সময় লেগেছে বহু বছর। এখন তিনি মনে করেন, নিজের সঙ্গে শান্তিতে থাকা-ই সবচেয়ে বড় অর্জন।
সব মিলিয়ে, অ্যান হ্যাথাওয়ের এই স্বীকৃতি শুধু সৌন্দর্যের স্বীকৃতি নয়-বরং এক দীর্ঘ মানসিক যাত্রা, পরিণত চিন্তা আর আত্ম-গ্রহণের গল্প।


