Chitralee will take you closer to the world of entertainment.
Chitralee will take you closer to the world of entertainment.
বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬

ইরানী অভিনেত্রী- দুই শতকের সেরা ১০

ইরানী অভিনেত্রী
ইরানী অভিনেত্রীগণ

ইরানী অভিনেত্রী

ইরানী সিনেমার নাম শুনলেই সবার আগে দর্শকদের মনে আসে এর বিশ্বজয়ী নির্মাতাদের কথা। কারণ সবখানে সবসময় ইরানের নির্মাতারাই থাকেন পাদপ্রদীপের আলোয়। তবে নির্মাতাদের বাহিরেও আছে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের একটা জগৎ যা নিয়ে আলোচনা খুব কমই হয়। আজ চলুন দেখে নেয়া যাক বিংশ ও একুশ শতকের সেরা ১০ ইরানী অভিনেত্রী কারা ও তাঁদের টুকিটাকি তথ্য।

১. লায়লা হাতামি

ইরানী অভিনেত্রী

ইরানের একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান ও বিখ্যাত অভিনয়শিল্পী লায়লা হাতামি। লায়লা হাতামি ১৯৭২ সালের ১ অক্টোবর ইরানের প্রভাবশালী পরিচালক আলী হাতামি এবং অভিনেত্রী জারি খোশকামের ঘরে জন্ম নেন। ১০ বছর বয়সে তিনি অভিনয় শুরু করেন। তার প্রথম প্রধান চরিত্রে অভিনয় ছিল ১৯৯৭ সালে দারিয়ুশ মেহরজুই পরিচালিত ‘ লায়লা’ চলচ্চিত্রে।

লায়লা হাতামি ২০১২ সালে আসগর ফারহাদির ‘এ সেপারেশন’-এ অভিনয় করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করেন। এই সিনেমার জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ বিদেশী ভাষার চলচ্চিত্রের জন্য একাডেমি পুরস্কার সহ কয়েক ডজন পুরস্কার জিতেছিলেন। এই সিনেমার জন্য তিনি বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জন্য সিলভার বিয়ার পুরস্কার জেতেন।

২০১২ সালে, ফরাসি সরকার তাকে ‘শেভালিয়ার অফ দ্য অর্ডার অফ আর্টস অ্যান্ড লেটার্স ‘ উপাধিতে ভূষিত করে।

২. তারানেহ আলিদস্তি

ইরানী অভিনেত্রী

১৭ বছর বয়সে ‘আই এম তারানেহ, ১৫’ (২০০২) চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি অভিনয় শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে দা বিউটিফুল সিটি (২০০৪), মডেস্ট রিসেপশন (২০১২) প্রভৃতি চলচ্চিত্রের জন্য প্রশংসিত হন। তার মা একজন ভাস্কর। বাবা ইরানের জাতীয় দলের ফুটবল সাবেক খেলোয়াড়।

২০০২ সালে তিনি ‘আই এম তারানেহ, ১৫’ সিনেমার জন্য লকার্নো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জন্য সিলভার বিয়ার জিতেছিলেন। এছাড়া তাঁর অভিনীত ও পরিচালক আসগর ফরহাদির সিনেমা ‘দ্য সেলসম্যান’ ২০১৭ সালে অস্কারে সেরা বিদেশী ভাষার চলচ্চিত্রের পুরস্কার জেতে।

৩. গোলশিফতেহ ফারাহানি

ইরানী অভিনেত্রী

তিনি ইরানী-ফ্রান্স অভিনেত্রী, সঙ্গীতশিল্পী। ফারাহানি আসগর ফারহাদি পরিচালিত ‘অ্যাবাউট এলি’ নাট্য চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যেটি ২০০৯ সালে তিবিসা চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার জেতে; এবং বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সিলভার বিয়ার জেতে।

ইরানী অভিনেত্রী

‘বডি অফ দ্য লাইস’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর, ইরানের কর্তৃপক্ষ তাকে ইরান ছাড়তে বাধ্য করে। এছাড়া, ফারাহানি জিম জারমুশ পরিচালিত ‘প্যাটারসন’ সিনেমায় অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান।

৪. জার আমির ইব্রাহিমি

ইরানী অভিনেত্রী

জার আমির ইব্রাহিমি ১৯৮১ সালের ৯ জুলাই ইরানের তেহরানে জন্মগ্রহণ করেন। পরিচালক আলী আব্বাসীর সিনেমা ‘হলি স্পাইডার’ তাঁর সবচেয়ে আলোচিত সিনেমা। ২০২২ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে স্থান পায় সিনেমাটি। ইরানের মাশাদ শহরের যৌনকর্মীদের সিরিয়াল কিলিং নিয়ে এই সিনেমা। এ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি কান চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার জেতেন। তিনি একইসাথে নির্মাতাও।

৫. নিকি কারিমি

ইরানী অভিনেত্রী

নিকি কারিমি একজন প্রভাবশালী ইরানি অভিনেত্রী এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা। ১৯৭১ সালের ১০ই নভেম্বর ইরানের তেহরানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত আব্বাস কিয়ারোস্তামির সহকারী ছিলেন। সারা (১৯৯২) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি সান সেবাস্তিয়ান চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেন। কান চলচ্চিত্র উৎসবসহ বিশ্বের ২০টিরও বেশি বড় ফেস্টিভ্যালে জুরি হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। তিনি অভিনেতা মার্লন ব্র্যান্ডোর জীবনী ‘সংস মাই মাদার টট মি’, ইংরেজি থেকে ফারসিতে অনুবাদ করেছিলেন। তিনি অভিনেত্রী এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে অসংখ্য পুরস্কার জিতেছেন।

৬.হেদিহ তেহরানি

ইরানী অভিনেত্রী

হেদিহ তেহরানি ২৫ জুন, ১৯৭২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রহস্যময়, ভাবলেশহীন এবং হৃদয়হীন নারীর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সর্বাধিক পরিচিত। তিনি দুটি ক্রিস্টাল সিমোর্গ, চারটি হাফেজ পুরস্কার, একটি ইরান সিনেমা সেলিব্রেশন অ্যাওয়ার্ড এবং একটি ইরানের চলচ্চিত্র সমালোচক ও লেখক সমিতি পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা লাভ করেছেন।

৭. ফাতেমেহ মোতামেদ-আরিয়া

ইরানী অভিনেত্রী

তিনি বিপ্লব-পরবর্তী ইরানি সিনেমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিনেত্রী। ইরানি সিনেমার ‘মাদার ফিগার’ হিসেবে পরিচিত তিনি। তিনি ইরানের অন্যতম ‘গুরুত্বপূর্ণ অভিনেত্রী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা”। তিনি ফজর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেত্রী পুরস্কারের জন্য দশবার মনোনীত হয়েছেন এবং চারবার ক্রিস্টাল সিমোর্গ পুরস্কার জিতেছেন।

৮. সাহার দোলাতশাহী

ইরানী অভিনেত্রী

সাহার দোলাতশাহি ১৯৭৯ তে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ‘আইস এজ’ (২০১৫), ‘ইস্তানবুল জাংশন’ (২০১৮), ‘দ্য ফ্রগ’ (২০২০–২০২১), ‘আই ওয়ান্ট টু লিভ’ (২০২১), এবং ‘ভাইপার অফ তেহরান’ (২০২৪) চলচ্চিত্রের জন্য সর্বাধিক পরিচিত। তিনি দুটি ক্রিস্টাল সিমোর্গ এবং ইরানের চলচ্চিত্র সমালোচক ও লেখক সমিতি পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা লাভ করেছেন।

. বারান কোরাসি

ইরানী অভিনেত্রী

দ্য বেস্ট পাপা অফ দ্য ওয়ার্ল্ড (১৯৯১) তার প্রথম সিনেমা। তিনি তার মায়ের কিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, যেমন নার্গেস (১৯৯১), রুসারি-য়ে আবি ( দ্য ব্লু-ভেইল্ড ) (১৯৯৪), মে লেডি (১৯৯৭), কিশ স্টোরিজ (রেইন অ্যান্ড ল্যাডসম্যান পর্ব – ১৯৯৮), আন্ডার দ্য স্কিন অফ দ্য সিটি (২০০০), আওয়ার টাইমস (তথ্যচিত্র – ২০০১)। ২০০৭ সালে তিনি মেইনলাইন চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য এশিয়া প্যাসিফিক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন ।

১০. নেগার জাভাহেরিয়ান

ইরানী অভিনেত্রী

নেগার একজন থিয়েটার অভিনেত্রী এবং অনুবাদক। তাঁর শান্ত এবং স্নিগ্ধ অভিনয় দর্শকের মনে আলোড়ন তুলেছে। বিশেষত ‘গোল্ড অ্যান্ড কপার’ (Gold and Copper) সিনেমায় তাঁর অভিনয় ছিলো দুর্দান্ত। এছাড়া তার বিখ্যাত চলচ্চিত্রের মধ্যে আছে মাজিয়ার মিরি নির্মিত কেতাবে ঘানৌন এবং মহম্মদ হুসেন লতিফির খবগাহ-ই দখতারান (মেয়েদের ছাত্রাবাস)। 

+ posts
Share this article
Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Read next

ইরানি নির্মাতা জাফর পানাহি টাইম ম্যাগাজিনের তালিকায়

টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালী তালিকা এ বছর ইরানি নির্মাতা জাফর পানাহি টাইম ম্যাগাজিনের শীর্ষ ১০০ প্রভাবশালীর…
ইরানি নির্মাতা জাফর পানাহি টাইম ম্যাগাজিনের

মেজবাউর রহমান সুমনের সিনেমা-কৃষি; হাওয়া ও রইদ

সুমন-কৃষি-হাওয়া-রইদ নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে যদি কেউ ঘুরতে যান প্রথমেই আপনাকে অবাক…
মেজবাউর রহমান সুমনের
0
Share