আমির খান
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেছেন আমির খান। তিনি এই মন্তব্য করেন দেবেন্দ্র ফড়নবিস-এর সঙ্গে এক আলাপচারিতায়। দুজনই অংশ নিয়েছিলেন মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক গেটওয়ে অব ইন্ডিয়া-তে অনুষ্ঠিত লোকমত মহারাষ্ট্রীয়ান অব দ্য ইয়ার ২০২৬ অনুষ্ঠানে। আলোচনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি এবং এর তরুণ প্রজন্মের ওপর প্রভাবসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। সেখানের আলাপচারিতায় বোঝা গিয়েছে যে, আমির খান ১৬ বছরের কম বয়সীদের মানসিক উন্নয়ন নিয়ে চিন্তিত।
আলাপচারিতার এক পর্যায়ে আমির খান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের কারণে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর নিজস্ব অভ্যাসেও পরিবর্তন এসেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন“এই বিষয়ে আমার একটি দৃষ্টিভঙ্গি আছে তা সঠিকও হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। তবে আমার মনে হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের সবার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। এর অনেক সুবিধাও রয়েছে। কিন্তু একটা সময় ছিল, যখন আমি এক সপ্তাহেই দুই থেকে তিনটি বই পড়ে ফেলতাম।”
আমির খানের রিলস আসক্তি
অভিনেতা আরও বলেন, “আমি যাতায়াতের সময় কিংবা নাশতা করতে করতেও বই পড়তাম। ব্যস্ত সময়সূচির মধ্যেও বই পড়ার অভ্যাস ছিল। কিন্তু এখন আমি ইউটিউবে সময় নষ্ট করছি বা ইনস্টাগ্রামের রিলস দেখছি! আমি এটাও জানি, এটা আমার জন্য ভালো নয়।”

আমির খান-এর মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীদের আগ্রহ অনুযায়ী কনটেন্ট দেখিয়ে তাদের দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখে। এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “এটা যেন সম্মোহিত হয়ে থাকার মতো।”
১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম আসক্তি
একই আলাপচারিতায় আমির বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক সুবিধা থাকলেও এর আসক্তিমূলক দিক মানুষের সময় সহজেই গ্রাস করতে পারে। আমির খান ১৬ বছরের কম তরুণদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তার ভাষায়, “আমাদের তো বয়স হয়ে গেছে, কিন্তু তরুণরা এতে গভীরভাবে প্রভাবিত হতে পারে। আমি এর বিরুদ্ধে নই, তবে বিষয়টি নিয়ে ভাবা দরকার। অনেক দেশেই এখন এমন নিয়ম চালু করা হচ্ছে, যেখানে ১৬ বছরের কম বয়সীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবে না। কীভাবে এটি বাস্তবায়ন করা হবে জানি না, তবে ভাবনাটা সঠিক, কারণ এতে তাদের মানসিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের মস্তিষ্কের পুনর্গঠন (রিওয়্যারিং) হয়ে যাচ্ছে।”

এপস্টেইন ফাইলস
আলাপচারিতার এক পর্যায়ে আমির খান দুর্নীতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। এ সময় তিনি প্রাচীন গ্রন্থ অর্থশাস্ত্র-এর উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই গ্রন্থে দেখানো হয়েছে যে দুর্নীতি ও অপরাধ হাজার হাজার বছর ধরেই মানবসমাজে বিদ্যমান। অর্থাৎ এটি কেবল সমসাময়িক কোনো সমস্যা নয়, বরং মানবিক প্রবণতারই একটি অংশ।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক লেনদেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর বিস্তৃতি আরও অনেক ক্ষেত্রে রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি এপস্টেইন ফাইলস-এর প্রসঙ্গ টেনে এনে একে “ভিন্ন মাত্রার দুর্নীতি” বলে অভিহিত করেন।
আমির খানের সর্বশেষ সিনেমা
কর্মজীবনের প্রসঙ্গে বলতে গেলে, সর্বশেষ আমির খান অভিনয় করেছেন সিতারে জমিন পার ছবিতে। ছবিটিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন জেনেলিয়া দেশমুখ। পাশাপাশি এতে অভিনয়ের মাধ্যমে অভিষেক হয়েছে ১০ জন নিউরোডাইভারজেন্ট অভিনেতার, অরুশ দত্ত, গোপি কৃষ্ণন ভার্মা, বেদান্ত শর্মা, নামন মিশ্রা, ঋষি শাহানি, ঋষভ জৈন, আশীষ পেন্ডসে, সমভিত দেশাই, সিমরন মঙ্গেশকর ও আয়ুষ ভানসালি।
‘সিতারে জমিন পার’ ছবিটিকে ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আমির খানের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘তারে জমিন পার’ এর আধ্যাত্মিক সিক্যুয়েল হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।


